তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা ফেলেইরোর, জাতীয় তকমা হারানোর পর ফের ধাক্কা
এক ঝটকায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস পরিণত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই ফের নতুন করে আঘাত নেমে এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে। রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরো।
তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র দিয়ে এলেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড় ভারতীয় সংবিধানের ১০১ অনুচ্ছেদের শর্তে রাজ্যসভা থেকে লুইজিনহো ফেলেইরোর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। ফলে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে তাঁর ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে গেল এদিন।

এর আগে লুইজিনহো ফেলেইরো গোয়ার বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি নিজের প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানিয়েছিলেন, আমি ফাতোর্দা থেকে গোয়া তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে আমার প্রত্যাহার ঘোষণা করছি। এবং এই প্রার্থীপদ এক তরুণ-তুর্কি উদীয়মান নেত্রীর হাতে সমর্পণ করছি।
লুইজিনহো ফেলেইরোর পরিবর্তে এক তরুণীকে প্রার্থী করা হয়েছিল ফতোর্দা থেকে। তিনি নিজে ঘোষণা করেছিলেন এটি দলের নীতির অংশ। মহিলাদের ক্ষমতায়ন করার শর্তেই তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন। তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে লুইজিনহো ফেলেইরো সেই ঘোষণা করেছিলেন।

তারপর এবার তিনি রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়ে দিলেন। ২০২১-এর নভেম্বরে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে লুইজিনহো ফেলেইরোকে মনোনীত করেছিল তৃণমূল। অর্পিতা ঘোষকে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানানো হয়। রাজনৈতিক মহলের মত ছিল গোয়া বিধানসভা নির্বাচনকে গুরুত্ব দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তারপর গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস। নিজেরা কোনো আসনেই জিততে পারেনি। উল্টে গোয়ায় গিয়ে কংগ্রেসকে ভেঙে বিজেপির জয়ের পথ সুগম করে দেয়। তারপর থেকেই লুইজিনহো ফেলেইরোর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল। ২০২২-এর সেপ্টেম্বরে তাঁকে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা তৃণমূল জানায় বলে সূত্রের খবর।

তবে তখন সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা না দিলে ২০২৩-এর এপ্রিলে তিনি সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ইস্তফাপত্র গ্রহণ করতেই তাঁর এক বছরের একটু বেশিদিনের মেয়াদ ফুরলো তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে। এদিন লুইজিনহো ফেলেইরোর সাংসদ পদ থেকে ইস্তফার পর তৃণমূল তাঁর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেয়।
তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলার পক্ষ থেকে এক টুইট বার্তায় জানানো হয়, তৃণমূল সাংসদ লুইজিনহো ফেলেইরো ইস্তফা দিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর সুস্বাস্থ্য ও জীবনে এগিয়ে চলার জন্য শুভেচ্ছা জানায়। সঠিক সময় মতো দল তাঁর জায়গায় নতুন নাম জানাবে।












Click it and Unblock the Notifications