তিপ্রাল্যান্ডের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলেই সমর্থন! ২০২৩-এর লক্ষ্যে রাজনৈতিক বার্তা ত্রিপুরার 'মহারাজা'র
তিপ্রাল্যান্ডের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলেই সমর্থন! ২০২৩-এর লক্ষ্যে রাজনৈতিক বার্তা ত্রিপুরার 'মহারাজা'র
রাজ্যপাট নেই। কিন্তু সমর্থন অনুগামীদের কাছে তিনি ত্রিপুরার 'মহারাজা'। তিনি ত্রিপুরার (Tripura) উপজাতিদের জন্য লড়াই চালাচ্ছেন। সেই 'মহারাজা'ই প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্য (Pradyut Bikram Manikya)। তিনিই তিপ্রা মোথার প্রধান।
ত্রিপুরার মধ্যে আলাদা রাজ্য তিপ্রাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন। তাঁর দাবি তিপ্রা মোথার সমর্থন ছাড়া কেউই সরকার গঠন করতে পারবে না। ২০২৩-এর বিধানসভা ভোটের অনেক আগেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

কেন তিপ্রাল্যান্ড
ভারতে যুক্ত হওয়ার পর থেকে ত্রিপুরার উপজাতিরা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। এমনটাই অভিযোগ করেছেন প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্য। সেই উপজাতি মানুষদের দাবি সমর্থনে দাঁড়িয়েছে তিপ্রা মোথা, বলেছেন প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্য। তিনি বলেছেন, ভারতে সংখ্যাটা
তাদের সঙ্গে নেই। সেই পরিস্থিতিতে তাদের সাংবাধানিক এবং রাজনৈতিক লড়াই। তবে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা হিন্দুদের কারণে, বলেছেন তিনি। তবে তাদের (যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন) সমস্যাও বোঝেন।
সেইসব লোকেদের উদ্ধাস্তুর মর্যাদা দেওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

সব দিক হারিয়েছে উপজাতিরা
প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্যের অভিযোগ অস্বাভাবিক অনুপ্রবেশের কারণে সব কিছু হারিয়েছে উপজাতিরা। অর্থনৈতিক উন্নতি থেকে শিক্ষা, ভাষা, পরিচয়, জমির অধিকার সবই হারিয়েছে এইসব উপজাতি মানুষগুলো।
তিনি বলেছেন তিপ্রাল্যান্ড হল পূর্ব পাকিস্তান থেকে যাঁরা এসেছেন তাঁদের অধিকার কেড়ে না নিয়ে উপজাতিদের অধিকার রক্ষা করা। প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্য বলেছেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়াদের অধিকার কেড়ে নয়, সাংবিধানিত অধিকারেই তিপ্রাল্যান্ডের দাবি করছেন তাঁরা।
তারা সবার কথা বলছেন বলে জানিয়েছেন। তারা যেমন বাংলাদেশ থাকে ত্রিপুরায় আশ্রয় নেওয়াদের কথা বলছেন, অন্যদিকে তারা চা-শ্রমিক এবং রাজ্যে যেসব মনিপুরী রয়েছেন, তাদের কথাও বলছেন।

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নেই
একটা সময়ে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্য। সেই কংগ্রেসের সঙ্গেই কি উপনির্বাচনে কোনও জোট হয়েছে? সেই প্রসঙ্গে প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্য বলেছেন, তারা কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থন
চাননি। সুরমায় কংগ্রেস প্রার্থী পায়নি। অন্যদিকে তারা সিপিএম কিংবা বিজেপির সঙ্গে যেতে পারবে না। তাই সেখানে তারা প্রার্থী দেয়নি। ত্রিপুরায় এবারের উপনির্বাচন তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানিয়েছেন 'মহারাজা'।

২০২৩ লক্ষ্যে পরিকল্পনা
প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্য দাবি করেছেন, রাজ্যের ৬০ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০ টি আসনে তাদের প্রভাব রয়েছে। সেক্ষেত্রে যে দল বৃহত্তর তিপ্রাল্যান্ড দেবে, তাদের সঙ্গেই থাকবেন। আর তা না হলে উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত ২০ টি আসনেই
তারা প্রার্থী দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্য। তিনি বলেছেন, ২০ টি আসন ছাড়াও আরও ১৫ টি এমন আসন রয়েছে, যেথানে উপজাতিদের জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশের বেশি। এর সঙ্গে তফশিলি জাতি এবং চা শ্রমিকদের ধরলে তাদের সমর্থন ৫০ শতাংশ
পেরিয়ে যায়, বলেছেন প্রদ্যোৎ বিক্রম মানিক্য। সেক্ষেত্রে ৬০ টি আসনের মধ্যে অন্তত ৪০ টিতে ভাগ্য তারাই নির্ধারণ করবেন।
ছবি সৌ:ফেসুবক












Click it and Unblock the Notifications