No confidence against Modi: তিন প্রধানমন্ত্রী অতীতে হেরেছিলেন অনাস্থা প্রস্তাবে, ফিরে দেখা
মণিপুর হিংসা ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছে বিরোধীরা। তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ হয়েছে। ভোটাভুটিতে অটলবিহারী বাজপেয়ীসহ তিন প্রধানমন্ত্রী হেরেছিলেন অতীতে।
বুধবার কংগ্রেসের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীরা ইন্ডিয়ার মঞ্চের পক্ষ থেকে অনাস্থা প্রস্তাব পশ করে। শুক্রবার সেই প্রস্তাবের মুখোমুখি হবেন নরেন্দ্র মোদী। তেলেগু দেশম পার্টি ও কেসিআরের ভারত রাষ্ট্র সমিতিও অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে।

তবে এবার অনাস্থা প্রস্তাবে বিজেপি সরকার নিরাপদেই থাকবে। কারণ এককভাবে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ২৭৩। আর এনডিএ-র সদস্যা সংখ্যা ৩১২। সেখানে সরকার পড়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকছে না। কংগ্রেসের নেতৃত্বে সম্প্রতি যে বিরোধী মঞ্চ তৈরি হয়েছে, সেই ইন্ডিয়ার পক্ষে সমর্থনকে আর একবার ঝালিয়ে নেওয়াই এই অনাস্থার উদ্দেশ্য।
এর আগে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে একবার অনাস্থা পেশ করেছিল বিরোধীরা। সেবারও নরেন্দ্র মোদী ড্যাংডেঙিয়ে জিতে গিয়েছে। এবার তো এককভাবে বিজেপিই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে তাদের হারের কোনও সম্ভাবনা নেই। এই আবহে একবার ফিরে দেখা যাক পূর্বের তিনবার প্রধানমন্ত্রীর অনাস্থা হারের সেই ঘটনা।
ভিপি সিং-- জনতা দলের ভিপি সিং ১৯৮৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বাম দলগুলির পাশাপাশি ডানপন্থী বিজেপির সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েছিলেন তিনি। বিজেপি রাম মন্দির ইস্যুতে সমর্থন প্রত্যাহার করার আগে তিনি ১১ মাস শাসন ক্ষমতায় ছিলেন।
১৯৯০ সালের ১০ নভেম্বর অনাস্থা প্রস্তাবে তিনি হার স্বীকার করেন। রাষ্ট্রপতি আর ভেঙ্কটারমনের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। ভিপি সিং লোকসভায় ১৪২-৩৪৬ ভোটে আস্থা হারিয়েছিলেন। ৮ জন অনুপস্থিত ছিলেন। সরকারে টিকে থাকতে তাঁর ২৬১ ভোটের প্রয়োজন ছিল।

দেবগৌড়া-- জনতা দলের আর এক নেতা দেবেগৌড়াকে অনাস্থায় হারতে হয়েছিল। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন তিনি। কংগ্রেসের সমর্থনে যুক্তফ্রন্ট জোট সরকার গড়েন তিনি। ১০ মাস পরে তাঁর সরকারের পতন ঘটে। সীতারাম কেশরীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস তার সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।
১৯৯৭ সালের ১১ এপ্রিল একটি অনাস্থা প্রস্তাবে দেবেগৌড়ার ১৩ দলীয় জোট সরকারের পতন ঘটে। আস্থা ভোটে লোকসভার ৫৪৫ সদস্যের মধ্যে মাত্র ১৫৮টি ভোট পেয়েছিলেন তিনি। ফলে সরকার পড়ে যায় তাঁর। তিনি পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে।
অটল বিহারী বাজপেয়ী-- বিজেপির প্রবীণ নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বে দু-বার অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হন। প্রথমটি জয়ললিতার নেতৃত্বাধীন এআইএডিএমকে সমর্থন প্রত্যাহার করার পরে ১৯৯৯-এর ১৭ এপ্রিল তাঁর সরকার এক ভোটে হেরে যায়। তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল বহুজন সমাজ পার্টির আশ্চর্যজনক সিদ্ধান্ত এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স এমপি সাইফুদ্দিন সোজের বিদ্রোহ।
অনাস্থায় হেরে সরকারের পতেনর কয়েক মাস পরে আবার ক্ষমতায় ফেরেন তিনি। বিজেপি ভোটে জয়ী হয়। তারপর আবার বাজপেয়ী সরকার দ্বিতীয়বার অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হন ২০০৩ সালে। বিরোধীরা তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে আরেকটি অনাস্থা প্রস্তাব আনলে সেবার ৩১২-১৮৬ ভোটে জয়ী হন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications