টিকা নিলে মৃত্যু অনিবার্য, গ্রামীণ ভারতের ভ্রান্ত ধারণায় বাধাপ্রাপ্ত টিকাকরণ কর্মসূচি
টিকা নিলে মৃত্যু অনিবার্য, গ্রামীণ ভারতের ভ্রান্ত ধারণায় বাধাপ্রাপ্ত টিকাকরণ কর্মসূচি
করোনা ভাইরাস মহামারির সঙ্গে শুধু দেশ লড়ছে না। দেশজুড়ে কোভিড–১৯ টিকাকরণ নিয়ে যে গুজব ও প্রচলিত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে তার বিরুদ্ধেও লড়তে হচ্ছে দেশের সরকারকে। বিশেষ করে গ্রামীণ ভারতের ক্ষেত্রে টিকাকরণের ওপর আস্থা একেবারে নেই বললেই চলে। সরকারের লক্ষ্য যদিও দেশের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে টিকাকরণ করিয়ে দেওয়া, কিন্তু বাস্তব চিত্রটি একেবারেই আলাদা। বহু গ্রামবাসী টিকাকরণ এড়িয়ে যাচ্ছেন। টিকা দেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও টিকা নেওয়ার পরও মৃত্যুর রিপোর্ট কোভিড–১৯ ভ্যাকসিনকে মারাত্মক বলে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে দেশের কিছু প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে টিকাকরণ না করানোর পেছনে কি কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখেছে।

পুরোহিতদের মৃত্যুতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে রাজস্থানের গ্রামে
রাজস্থানের অশোক গেহলটের সরকার গ্রামীণ এলাকায় কোভিড-১৯ সংক্রমণকে দমনের জন্য উচ্চাভিলায়ী পরিকল্পনা কার্যকর করেছে। যদিও গুজবগুলির সঙ্গে মিলিত হয়ে কঠোর বিশ্বার প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোধপুরে মুখ্যমন্ত্রীর শহরেও। শেরগড় গ্রামে গিয়ে দেখা গেল এক ভয়ানক শান্তি রয়েছে সেখানে, কোভিডে পুরোহিতদের মৃত্যুর কারণে গ্রামবাসীদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এই গ্রামের স্থানীয় ভুপা বা চিকিৎসক মুন্নি দেবী, যিনি ভগবানের উপাসনা করেন এবং মহামারির সময় মানুষকে নিরাময় করে তোলার আশ্বাস দেন, সেই মুন্নি দেবী মারা যাওয়ার পর গ্রামবাসীদের মধ্যে বেশি করে অবিশ্বাস তৈরি হয়, গ্রামবাসীরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ওই মহিলা এই ভাইরাসে কীভাবে মারা গেলেন। তাঁর শোকাহত স্বামী অমোলক রাম বলেন, 'স্থানীয় হাসপাতালে রক্তের অভাব থাকায় আমাদের তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে বলা হয়। অন্য হাসপাতালে যাওয়ার সময়ই মৃত্যু হয় তার।' যদিও অন্যদের মুখে শোনা গেল ভিন্ন কাহিনী। গ্রামের পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি মদন সিং বলেন, 'ওই মহিলা ইশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে বিভিন্ন রীতির অভ্যাস করতেন। তিনি ভেবেছিলেন ভগবৈন তাঁকে বাঁচাবেন এবং সেই জন্য তিনি করোনা টেস্ট করাননি। এরপরই তাঁর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে।'

টিকা নিলেই মৃত্যু
শেরগড় ব্লকে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের বেশি মানুষের আর এখানে টিকাদান প্রক্রিয়া কার্যত বাধার মুখে। পেশায় মুচি চেলারাম বলেন, 'যারা যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মৃত্যু হয়েছে। আমার পরিবার সহ ৩০-৩৫টা পরিবার টিকা নেয়নি।' স্থানীয় বাজারেও কানাঘুঁষো শোনা যাচ্ছে যে টিকাকরণের পর কেউ মারা গিয়েছেন। এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে গ্রামে। এই গুজবের মধ্যে অনুঘটকের কাজ করছে দারিদ্র ও নিরক্ষরতাও। অনেক গ্রামবাসী আবার জানিয়েছেন যে তাঁদের তো করোনা ভাইরাস হয়নি কেন তাঁরা টিকা নিতে যাবেন। গ্রামবাসীদের মনে বদ্ধ ধারণা জন্মেছে যে টিকা নেওয়ার পরই মৃত্যু অনিবার্য।

উত্তরপ্রদেশের গ্রাম
দেশজুড়ে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়ে গেলেও দেশের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ উত্তরপ্রদেশে এখনও টিকাকরণ কর্মসূচি সেভাবে গতি অর্জন করতে পারেনি। তার কারণ যোগী রাজ্যের গ্রামগুলিতে এখনও টিকাকরণের গুরুত্ব পৌঁছায়নি। লখনউয়ের কাছে পাকারা বাজারগাঁওতে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চলছে টিকাকরণ। কিন্তু সেখানে গ্রামবাসীদের সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং অধিকাংশ লখনউয়ের সুবিধাভোগীরা স্লট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ শালিনী জানান, অধিকাংশ গ্রামবাসী টিকাকরণ করাতে ভয় পাচ্ছেন এবং এগুলি সম্পর্কে তাঁদের নিজস্ব ধারণা তৈরি হয়েছে। তিনি এও জানিয়েছেন যে দ্বিতীয় কোভিডের ওয়েভে অধিকাংশ পরিবার তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন এবং এখন তাঁদের ধারণা হয়েছে যে টিকা নেওয়ার পরও তাঁদের জীবন ঝুঁকিতে থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দা বছর ৩৫-এর পূজা বলেন, 'আমি এবং আমার স্বামী ভ্যাকসিন নেব না। এটা ক্ষতিকারক এবং হয়ত আমাদের মেরেও ফেলতে পারে।' ২৫ বছরের আয়ুশ শুক্লা বলেন, 'আমি কিছুজন গ্রামবাসীর মুখে শুনেছি যে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর জ্বর আসে এবং অনেকে মারাও যায়। আমি এখনও ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নই এবং এর জন্য আমার কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।'

মধ্যপ্রদেশের অবস্থা
মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকা তো বাদই দিলাম, এ রাজ্যের প্রধান শহরের শিক্ষিতরাও টিকা নিতে দ্বিধাবোধ করছেন। ভোপালের কাছে রতিবাদ গ্রামে গিয়ে দেখা গেল এখানে টিকাকরণ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে মানুষের মধ্যে। শিক্ষিত ও পেশায় বিল্ডিং মেটেরিয়াল সাপ্লায়ার লোকেশ জানান যে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর তাঁর বাবার অবস্থা খারাপ হয়ে যায় এবং প্রায় ২০ দিন পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। লোকেশ জানান যে এর জন্যই তিনি টিকাকরণ করাতে ভয় পাচ্ছেন। এই গ্রামের আরও দুই বাসিন্দা গগন ও সুনীলও টিকাকরণ থেকে দূরে রয়েছেন। তাঁদের মতে টিকাকরণ করানোর পর অসুস্থ হয়ে পড়বেন তাঁরা। রতিবাদে দুটি ভ্যাকসিনেশন সেন্টার এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার লোককে টিকা দিয়েছে। তবে ভয়ের আতঙ্ক গ্রাস করেছে গ্রামটিকে এবং গুজব কেবল টিকাদানের গতিকে পিছনে ফেলেছে।

হোয়াটসঅ্যাপ গুজবে কাঁটা বিহারের এই গ্রাম
বিহারের সাহারসা জেলার কারিয়াত গ্রামের বাসিন্দা আঠারো বছর বয়সী আমন কুমার টিকা দেওয়ার ধারণার তীব্র বিরোধিতা করছেন। আমনের মতোই ১৫০০ গ্রাম একই ধারণা শেয়ার করেছেন। আমনের বিশ্বাস টিকাকরণের পর মৃত্যু হতে পারে তাঁর। 'টিকা নেওয়ার পর অনেকেই মারা যাচ্ছেন তাই আমি টিকা নেব না।' এই গ্রামেরই অন্য এক গ্রামবাসী ৪১ বছরের প্রণব কুমার বলেন, 'হোয়াটসঅ্যআপে মেসেজ এসেছে টিকা নেওয়ার পর অনেকেই মারা যাচ্ছেন। সরকার হয়ত সঠিক টিকাই দিচ্ছেন, কিন্তু আমাদের উদ্বেগ বাড়ছে।' স্থানীয় প্রশাসনরা গ্রামবাসীদের কাছে পৌঁছে তাঁদের মধ্যে থেকে এই মিথ্যা ধারণা দূর করার চেষ্টা করছেন তবে এর জন্য আরও অনেক কিছুই করতে হবে।'
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications