যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, তারা দেশের সংবিধান বুঝতে পারে না’: মোদী
রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবে লোকসভায় বিরোধীদের ওপর তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, কেবল বিজেপি এবং তার মিত্ররাই সংবিধানের প্রকৃত চেতনা বোঝে এবং তা মেনে চলে।
প্রধানমন্ত্রীর বেশিরভাগ আক্রমণই ছিল কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। লোকসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন যে, বিজেপি তৃতীয়বার ক্ষমতায় এলে সংবিধান পরিবর্তন করবে। এর প্রতিক্রিয়ায় মোদী এদিন বলেন, "নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে আমরা বিরোধী নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমরা এটা করি কারণ আমরা সংবিধান মেনে চলতে বিশ্বাস করি। সবাই নিজের জন্য বাঁচতে পারে, কিন্তু যারা সংবিধানের জন্য বাঁচে, তারা এখানে বসে আছে। যখন ক্ষমতা রাজবংশ হয়ে যায়, তখন গণতন্ত্রের অবসান ঘটে"।

এখানেই না থেমে এদিন রাজীব গান্ধীর প্রসঙ্গও তুলে আনেন মোদী। তিনি বলেন, "মিস্টার ক্লিন' নামে পরিচিত একজন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন যে দিল্লি থেকে যখন ১ টাকা বের হয়, তখন গ্রামে মাত্র ১৫ পয়সা পৌঁছায়। সেই সময় পঞ্চায়েত থেকে সংসদ পর্যন্ত একটি দল শাসন করত, সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারত যে ১৫ পয়সা কোথায় গেল"। এই ভাবে রাজীব গান্ধীর শাসনকালকেও আক্রমণ করেন মোদী।
এর সাথেই মোদী বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেন, "কিছু লোক প্রকাশ্যে নগর নকশালদের ভাষায় কথা বলে। যারা ভারতীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, তারা দেশের সংবিধান বা গণতন্ত্র বুঝতে পারে না"।
বিজেপি সরকার সংবিধান রক্ষা করছে-এই বার্তা জোরাল ভাবে দেওয়ার চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে বলেন, "আমাদের সংবিধান বৈষম্য শেখায় না। কিন্তু যারা পকেটে সংবিধান নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তারা কখনও মুসলিম মহিলাদের কথা ভাবেনি"।
একই সাথে, দেশের পিছিয়ে পড়া নিয়ে কংগ্রেসের শাসনকালকে এদিন কাঠগড়ায় দাঁড় করান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, "যে কাজ ৪০-৫০ বছর আগে হওয়ার কথা ছিল, সে কাজ আমরা না করে দেশকে ৪০-৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছি"।
এদিন সংবিধান প্রসঙ্গ তুলে, কংগ্রেসের শাসনকাল তুলে হাত শিবিরকে ভরা সংসদে কার্যত একহাত নিয়ে নিলেন মোদী। যা নিয়ে পরবর্তী দিনে সংসদের বাজেট অধিবেশন উত্তাল হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications