এবছর কেমন হবে বর্ষা? এল-নিনোর প্রভাব কতটা? পূর্বাভাস আইএমডি-র
ভারতে এবারের বর্ষার মরশুমে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD)। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে কৃষক সমাজ থেকে শুরু করে দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বস্তির ছোঁয়া এসেছে।
আইএমডি প্রধান মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, "এই বছরের বর্ষার মরশুমে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) স্বাভাবিকের তুলনায় ১০৫ শতাংশ বৃষ্টিপাত হতে পারে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদী গড় বৃষ্টিপাত ৮৭ সেন্টিমিটার"।

এছাড়াও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এল নিনো পরিস্থিতি - যা সাধারণত কম বৃষ্টিপাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা এই বছরে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে সারা দেশের বর্ষা কার্যক্রম মোটের ওপর ইতিবাচক থাকবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
ভারতের কৃষিক্ষেত্রে বর্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের প্রায় ৫২ শতাংশ চাষযোগ্য জমি মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভরশীল। বর্ষায় ভাল বৃষ্টি হলে ধান, ডাল, তেলবীজ সহ নানা রবি ও খরিফ ফসলের উৎপাদন বাড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পানীয় জল সরবরাহ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টিও।
তবে সুখবরের পাশাপাশি রয়েছে কিছু সতর্কবার্তাও। মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানান, এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও জলের চাহিদা মারাত্মক চাপে পড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদরা যদিও আশাবাদী, তবু তাঁরা সতর্ক করছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষার সময়কাল ও বৃষ্টির পরিমাণে বড় তারতম্য দেখা দিতে পারে। বৃষ্টির মোট পরিমাণ বেশি হলেও তা যদি কিছু নির্দিষ্ট সময় বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে খরা বা বন্যার ঝুঁকি থেকেই যায়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ভারতে বৃষ্টির দিন কমলেও অল্প সময়ে অতিবৃষ্টির ঘটনা বাড়ছে, যা চাষাবাদ ও জীবনের উপরে বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে। এই বর্ষা মরশুমে সরকার এবং কৃষক উভয়কেই সময়মতো প্রস্তুতি নিতে হবে, যেন বৃষ্টির অনিয়মিত চরিত্র সামাল দিয়ে তার ইতিবাচক প্রভাব সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করা যায়।












Click it and Unblock the Notifications