মে মাসেও দেশের কোথাও নেই তাপপ্রবাহ, এবারের গরমকাল অস্বাভাবিক, জানিয়েছে আইএমডি
মে মাসেও দেশের কোথাও নেই তাপপ্রবাহ, এবারের গরমকাল অস্বাভাবিক, জানিয়েছে আইএমডি
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে দেশের আবহাওয়াতে যে পরিবর্তন এসছে তা সকলে দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছে। আবহাওয়াবিদরাও জানাচ্ছেন যে মূল অঞ্চলগুলিতে এখনও সেখাবে তাপপ্রবাহ লক্ষ্য করা যায়নি বরং গোটা দেশজুড়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই গ্রীষ্মকাল এবার একটু অস্বাভাবিক।

গ্রীষ্মের মূল অঞ্চলেই গায়েব তাপপ্রবাহ
মার্চে গ্রীষ্মকাল প্রবেশ করে এবং দেশের উত্তর, মধ্য ও পূর্ব ভারতে তাপপ্রবাহ শুরু হয় এবং তা তীব্রভাবে দেখা দেয় এপ্রিল ও মে মাসে এবং তা থাকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত, যতক্ষণ না মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটছে। প্রসঙ্গত, উত্তর ও পূর্ব সমতল অঞ্চলে, মধ্য ভারতের বিদর্ভ-মারাঠওয়াড়া প্রদেশ, গুজরাত ও দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা তাপপ্রবাহের মূল অঞ্চল বলে পরিচিত। এখানে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির সেলসিয়াসের ওপরে থাকে। পশ্চিম রাজস্থানে সর্বাধিক তাপমাত্রা এমনকী ৫০ অতিক্রম করে যায়।

অতিরিক্তি বৃষ্টিপাত হয়েছে
আইএমডির পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, তাপপ্রবাহের মূল অঞ্চলগুলিতে এ বছর স্বাভাবিক তাপমাত্রা রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়ার খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ভারতে ১ মার্চ থেকে ১১ মে-এর মধ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। বরিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক তথা পুনের আইএমডি-এর দীর্ঘ পরিসর পূর্বাভাস ইউনিটের আধিকারিক ও পি শ্রীজিত জানান, স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টির রেকর্ড হয়েছে এ বছরের মার্চে এবং এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আইএমডি-এর ডিরেক্টর জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক ঘটনা নয়।'

এ বছর কোনও তাপপ্রবাহের দেখা নেই
বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা স্কাইমেট ওয়েদারের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেশ পালাওয়াত জানিয়েছেন এপ্রিলে স্বাভাবিকভাবে দু'টি তাবপ্রবাহ থাকে। আইএমডি জানিয়েছে যে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা ৫-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকলে তাপ প্রবাহ হতে পারে। যদি স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ ডিগ্রি ওপরে থাকে তাপমাত্রা, তবে বহুবার তাপ প্রবাহ হতে পারে। আইএমডির জাতীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস দপ্তরের প্রধান সাথী দেবী জানিয়েছেন, এপ্রিলে একটা তাপপ্রবাহ হয়েছে গুজরাতে, কিন্তু সেটি অতটা ব্যাপক ছিল না। এ মাসে রাজস্থানের কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪০-এর ওপর উঠবে কিন্তু পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ার ফলে পারদ আবার কমবে। উত্তরের সমভূমিতেও পশ্চিমা ঝঞ্ঝার কারণে বর্জ্য-বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হবে ঘনঘন এবং তাপমাত্রা কমবে বলে মনে করছেন সাথী দেবী।

মে মাসে হবে দু’টি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা
পশ্চিমা ঝঞ্ঝা হল একটি ঘূর্ণিঝড় যা ভূমধ্যসাগরে উৎপন্ন হয়ে এবং মধ্য এশিয়া জুড়ে চলে। এই ঝড় যখন হিমালয়ের সংস্পর্শে আসে তখন তা সমতল ও পাহাড়ে বৃষ্টির রূপ নেয়। শীতকালে এটি খুব সঙ্কটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। সাথী দেবী জানিয়েছেন যে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে বর্জ্য-বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হওয়ার ফলে তাপমাত্রা নীচে নামবে ও পরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। মে মাসে দু'টি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা হতে পারে, এ সপ্তাহের শেষেই একটি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ১৬ মে-এর পর তাপমাত্রা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications