এবারের দিল্লি নির্বাচন জমজমাট, একাধিক আসনে রয়েছে ত্রিমুখী লড়াই, কোথাও আবার রয়েছে ওয়েইসির দলও!
দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সোমবার সন্ধ্যায় প্রচার পর্ব শেষ হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজধানীতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ফল ঘোষণা করা হবে। বিজেপি, কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি (আপ) শেষ মুহূর্তে তাদের প্রচারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জঙ্গপুরা, বিজওয়াসন এবং দ্বারকা বিধানসভা আসনে প্রচার করেছেন, যেখানে তিনি বিজেপির পক্ষে ভোট চেয়েছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কালকাজিতে রোড শো করেছেন, অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কস্তুরবা নগর এবং গুপুরায় ঘরে ঘরে প্রচার চালিয়েছেন। আম আদমি পার্টির (আপ) আহ্বায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল কালকাজি ও ছত্রপুর বিধানসভা আসনে প্রচার করেছেন।

তবে এই নির্বাচনে পাখির চোখ রয়েছে সকল দলেরই। ফলে এবারের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ সকল দলের কাছেই। গত দুটি নির্বাচনে বিজেপি এবং আপের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গিয়েছিল। তবে এবার কংগ্রেসের সক্রিয় প্রচারের ফলে বেশ কয়েকটি আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নয়াদিল্লি আসনে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিজেপির প্রবেশ ভার্মা এবং কংগ্রেসের সন্দীপ দীক্ষিতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কালকাজি আসনে আতিশী বিজেপির রমেশ বিধুরী এবং কংগ্রেসের অলকা লাম্বার মুখোমুখি হচ্ছেন। জঙ্গপুরা আসনে মনীশ সিসোদিয়া বিজেপির তরবিন্দর সিং মারওয়া এবং কংগ্রেসের ফরহাদ সুরির সঙ্গে লড়াই করছেন।
২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মুস্তাফাবাদ এবং ওখলা আসনে এবার ভিন্ন সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। AIMIM-এর প্রার্থী শিফা উর রেহমানের অংশগ্রহণ ভোট ভাগাভাগির পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা আপ এবং কংগ্রেসকে চিন্তায় ফেলেছে ইতিমধ্যেই।
ওখলায়, আপের আমানতুল্লাহ খান বিজেপি, কংগ্রেস এবং এআইএমআইএম প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মুস্তাফাবাদ আসনেও একই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে এআইএমআইএমের তাহির হুসেন উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন।
নির্বাচন কমিশন দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দিল্লি পুলিশ শহরজুড়ে টহল বাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ করেছে। নির্বাচনের জন্য ৩৫,৬২৬ জন পুলিশ কর্মী এবং ৬,৫২৫ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, নির্বাচনের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আধাসামরিক বাহিনী, পুলিশ, সিসিটিভি ক্যামেরা, এআই-চালিত নজরদারি ক্যামেরা, ড্রোন এবং ফেস রেকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
অর্থাৎ দিল্লির প্রশাসন যে ভাবে প্রস্তুতি সেরে রেখেছে একদফা নির্বাচনের, ঠিক সেরকমই বিজেপি-আপ-কংগ্রেস প্রস্তুত নির্বাচনে লড়াই-এর জন্যে। আর কিছু কিছু কেন্দ্রে বাড়তি পাওনা থাকছে AIMIM। ফলে সব মিলিয়ে এবারের দিল্লি নির্বাচন একেবারে জমজমাট।












Click it and Unblock the Notifications