এই প্রথমবার ডেঙ্গির ডিএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করতে চলেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা
ডেঙ্গির ডিএনএ ভ্যাকসিন
করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেই ডেঙ্গির প্রকোপও ক্রমশঃ বাড়ছে এই দেশে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই রোগটিকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো কোনও ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। তবে এবার কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে। কারণ কোভিড–১৯–এর জন্য জাইডাস ক্যাডিলার ডিএনএ ভ্যাকসিন, এখন একই সূত্রের ওপর ভিত্তি করে ডেঙ্গির জন্য একটি শট তৈরির মডেল হিসাবে বিবেচিত করা হচ্ছে। এর আগে কেন্দ্র ১১টি রাজ্যকে ডেঙ্গি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। ইতিমধ্যেই দিল্লি সরকার ডেঙ্গি নিয়ে পদক্ষেপ করতে শুরু করে দিয়েছে এবং চালু করেছে '১০ হপ্তা–১০টার সময়–১০ মিনিট’–এর ডেঙ্গির প্রকোপ কমানোর কর্মসূচি।

ডেঙ্গির ক্ষতিকর রূপ
তিরুবন্তপুরমের রাজীব গান্ধী সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজির শীর্ষ বৈজ্ঞানিক ডাঃ ইশ্বরন শ্রীকুমার এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আমরা জানি যে ভাইরাসের চার ধরনের সেরোটাইপ আছে। কিন্তু আমরা যা পেয়েছি তা হল সেরোটাইপগুলির মধ্যে জেনেটিক বৈচিত্র্য রয়েছে, যে কোনও সিক্যুয়েন্স যেখানে ছয় শতাংশের বেশি পার্থক্য রয়েছে তাকে একটি ভিন্ন জিনোটাইপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাই, দলটি একটি সিক্যুয়েন্স তৈরি করেছে যা জিনোটাইপগুলিতেও একই।' গত সপ্তাহে কেন্দ্র ১১টি রাজ্যকে সেরোটাইপ-২ ডেঙ্গির রিপোর্টিং কেসগুলি পাঠাতে বলেছে, যা এই রোগের আরও ক্ষতিকর রূপ। কেন্দ্র এই কেসগুলি দেখে উৎসবের মরসুমের আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে এবং ভাইরাস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা ছড়িয়ে দেবে।

১১টি রাজ্য ডেন–২ ডেঙ্গির অন্তর্গত
যে ১১টি রাজ্য ডেন-২ ভাইরাসের অন্তর্গত সেগুলি হল অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাত, কর্নাটক, কেরল, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, রাজস্থান, তামিলনাড়ু ও তেলাঙ্গানা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যগুলিকে নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে এবং জন সমাগম জনবহুল বন্ধ জায়গা এড়ানোর জন্য কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও শপিং মল, স্থানীয় বাজার ও উপাসনালয়গুলিতে কড়া নির্দেশিকা যেন অনুসরণ করা হয়।

ডেঙ্গি রোগের কারণ
স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ রাজ্যগুলিকে ডেঙ্গি রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে হেল্পলাইন নম্বরের শুরু এবং ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট, লার্ভিসাইড এবং ওষুধ মজুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেরোটাইপের চারটে ঘনিষ্ঠ ভাইরাসের কারণেই ডেঙ্গি রোগটি হয়। চারটে ভাইরাসের প্রত্যেকটি (ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪) মানুষের রক্তের সিরামের অ্যান্টিবডির সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ সম্পন্ন করে।

ডেঙ্গি সেরোটাইপ–২
ডেঙ্গি সেরোটাইপ ২ ভাইরাসে ডেঙ্গি হেমোরহ্যাজিক জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার জেনোটাইপের অন্তর্গত। ডেঙ্গি ভাইরাস ফ্ল্যাভিভিরাইডে পরিবারের অন্তর্গত এবং চারটি অ্যান্টিজেনিক্যালি আলাদা সেরোটাইপ নিয়ে গঠিত। এডিস এজিপ্টি মশার কামড়ে মানুষের শরীরে ডেঙ্গি হয় এবং মানব দেহের শরীরে তখন স্ব-সীমিত ফেব্রাইল অসুস্থতা, ডেঙ্গি জ্বর হয়।

ডেঙ্গির সঙ্গে কোভিড পরিস্থিতির দিকেও নজর
কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর রাজ্যগুলিকে উৎসবের মরশুমে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে এবং স্কুল পুনরায় খোলার পর শিশুদের ওপর নজরদারি ও ব্রেকথ্রো সংক্রমণের ওপরও জোর দিতে বলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications