দেশে তৃতীয় ওয়েভের হাতছানি, ভারতে কেমন প্রভাব পড়বে, কবে আসবে, সব তথ্য জেনে নিন এক নজরে
দেশে তৃতীয় ওয়েভের হাতছানি, ভারতে কেমন প্রভাব পড়বে, কবে আসবে, সব তথ্য জেনে নিন এক নজরে
ভারতীয়দের মন থেকে হযথ এখনও কোভিড–১৯–এর দ্বিতীয় ওয়েভের অভিজ্ঞতা একেবারেই পুরনো হয়ে যায়নি এরই মাঝে দরজায় কড়া নাড়ছে আরও একটি ওয়েভ। বিশেষজ্ঞদের মতে আগামী মাসেই দেশে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে তৃতীয় ওয়েভের, যা শিশুদের ক্ষেত্রে খুবই ক্ষতিকারক। যদিও কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার হাসপাতালগুলিতে শিশুদের জন্য বিশেষ পরিষেবা ও টিকাকরণের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে কেউ কি ভাবতে পেরেছেন তৃতীয় ওয়েভ ভারতের জন্য কেমন হবে?

কবে আসতে পারে তৃতীয় ওয়েভ
ভারতে এপ্রিল ও মে মাসে দ্বিতীয় ওয়েভের সময় দেশে করোনা কেস ৪ লক্ষের শিখরে পৌঁছেছিল। দ্বিতীয় ওয়েভের সময় রেকর্ড মৃত্যুও হয়েছিল। এর পাশাপাশি দেশে মেডিক্যাল অক্সিজেনে অভাব ও স্বাস্থ্য পরিষেবা ভেঙে যাওয়ার ফলে কেন্দ্র সরকারকে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। যার রেশ দেখা গিয়েছে সংসদে বাদল অধিবেশন চলার সময়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতায় থাকা এক প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা বিশেষজ্ঞ কমিটি অনুমান করছে যে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মধ্যে যে কোনও সময়ে তৃতীয় ওয়েভ দেশে আঘাত হানতে পারে এবং টিকাকরণের গতি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (এনআইডিএম) কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞদের কমিটি আরও বলেছে যে শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই ঝুঁকির মধ্যে থাকবে তবে যদি বিপুল সংখ্যক শিশু সংক্রমিত হয় সেক্ষেত্রে শিশুদের সুবিধা, ডাক্তার এবং যন্ত্রপাতি যেমন ভেন্টিলেটর, অ্যাম্বুলেন্স ইত্যাদি পর্যাপ্ত নেই দেশে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা পড়া রিপোর্ট অনুযায়ী ৭.৬ শতাংশ (১০.৪ কোটি) ভারতীয় নাগরিক সম্পূর্ণভাবে টিকাকরণ করিয়েছে এবং বর্তমানে টিকাকরণর হার বৃদ্ধ পায়নি। তবে এইভাবে চলতে থাকলে পরবর্তী ওয়েভে ভারত দৈনিক ৬ লক্ষ করোনা কেসের সাক্ষী থাকতে পারে।

দ্বিতীয় করোনার মতো ভয়ঙ্কর নয় তৃতীয় ওয়েভ
কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় ওয়েভের সময় যে রেকর্ড সংখ্যক করোনা কেস দেখা গিয়েছিল তৃতীয় ওয়েভে অতটা বাড়াবাড়ি হবে না। হায়দরাবাদ ও কানপুরের আইআইটির বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে অগাস্টেই ভারতে তৃতীয় ওয়েভ আছড়ে পড়বে এবং দৈনিক এক লক্ষের কম করোনা কেস অথবা দেড় লক্ষ করোনা কেস দেখা দিতে পারে সেই সময়। বিশেষজ্ঞরা বলেছে যে কোভিডের আসন্ন তৃতীয় ওয়েভ দ্বিতীয় ওয়েভের মতো নৃশংস হওয়ার সম্ভাবনা কম যেখানে পুনরায় হ্রাস পাওয়ার আগে করোনা কেসগুলি দৈনিক ভিত্তিতে ৪ লক্ষ পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে গাণিতিক পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা ব্লুমবার্গের গবেষকরা অনুমান করছেন যে কেরল ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে কোভিড কেসের বৃদ্ধি তৃতীয় ওয়েভের সময় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করবে।

কম সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় ওয়েভ দ্বিতীয় ওয়েভের মতো বিধ্বংসী নাও হতে পারে কারণ ভারতে সংক্রমিত হওয়ার জন্য খুব বেশি লোক বাকি নেই। সোনপথের অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক গৌতম মেনন বলেন, 'প্রথম ওয়েভে দেশের ৩০ শতাংশ নাগরিক সংক্রমিত হয়েছিল, যেটা দীর্ঘ সময় নিয়েছিল, গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর খুব দ্রুত দ্বিতীয় ওয়েভ পরবর্তী ৩০ শতাংশকে আক্রান্ত করে। তাই বলা চলে ভারতের বেশ ভালো সংখ্যার নাগরিকই করোনায় আক্রান্ত হয়ে গিয়েছেন। এখন আমাদের টিকাকরণও চলছে।' মেনন জানান যে ইতিমধ্যে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে, তারা এই রোগের মারাত্মক পরিণতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে, তিনি এও যোগ করেন যে এই রোগটি অন্য মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, 'তাও দেশে করোনা বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তবে সেটা টিকাকরণ করায়নি এমন মানুষদের মধ্যে থেকেই আসছে। দ্রুত এবং বৃহত্তর পর্যায়ে টিকা দিয়ে এই সংখ্যাটিকে ছোট রাখা গুরুত্বপূর্ণ।'

নতুন ভ্যারিয়ান্টের কারণেই দেশে আসবে তৃতীয় ওয়েভ
মহামারি বিশেষজ্ঞ ডাঃ জয়প্রকাশ মুলিয়াল জানিয়েছেন যে যদি নতুন মিউট্যান্ট থাকে তবে নতুন ওয়েভ তৈরি করতে এটি সক্ষম। কিন্তু চেন্নাইয়ের মতো জায়গায় যেখানে ৮০ শতাংশ জনসংখ্যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে গিয়েছে সেখানে বড় ওয়েভ আসবে না। কিন্তু কেরলে সংবেদনশীল নাগরিকের সংখ্যা বেশি তাই ওই রাজ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ ভারতীয় রাজ্যেই উচ্চ করোনা কেস রিপোর্ট হয়নি তবে কেরল ও মণিপুর ব্যতিক্রম। তারওপর ডেল্টা ও আলফা এই দুই নতুন ভ্যারিয়ান্টের চোখ রাঙানিতে দেশে ব্রেকথ্রু সংক্রমণ দেখা দিয়েছে যা বেশ উদ্বেগের বলে জানা যাচ্ছে।

শিশুদের প্রভাবিত করবে তৃতীয় ওয়েভ
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে ভারতে এখনও শিশুদের টিকাকরণ শুরু করা হয়নি তবে করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ওয়েভ অন্যদের তুলনায় শিশুদের প্রভাবিত করবে বেশি। যদিও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছেন যে এই দাবিকে সমর্থন করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তবে সরকার শিশুদের পরিষেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে শোনা গিয়েছে যে জাইডাস ক্যাডিলার কোভিড ভ্যাকসিন ১২ বছরের ঊর্ধ্বে শিশুদের ওপর প্রয়োদ করা যেতে পারে। এই ভ্যাকসিন সম্প্রতি ভারতের ওষুধ নিয়ামক সংস্থার থেকে জরুরি ব্যবহারের ওপর অনুমোদন পেয়েছে। তাই আশা করা যাচ্ছে ১২ বছরের ওপর শিশুদের শীঘ্রই টিকাকরণ শুরু করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে শিশুরা করোনায় আক্রান্ত হতে শুরু করে দিয়েছে। অগাস্টের গোড়ার দিক থেকেই শিউরা এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। শিশিদের মধ্যে করোনা উপসর্গ লক্ষণীয় বা উপসর্গহীন অথবা হাল্কা উপসর্গ দেখা যায়।

কোভিড বিধি উলঙ্ঘন
ভারতে দ্বিতীয় ওয়েভের কারণে অনেক রাজ্যই লকডাউন ঘোষণা করেছিল তবে করোনা কেস হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে লকডাউন তুলে দেওয়া শুরু হয়ে যায়। খুব শীঘ্রই দেখা যায় মানুষ কোভিড যথাযথ আচরণ মেনে চলছেন না। কোভিড নিয়ম লঙ্ঘন করেই বৃহৎ সংখ্যার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে। মুখে মাস্ক ছাড়া ও সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখেই মামুষ দিব্যি ছুটির মেজাজে রয়েছেন।
গত ১৩ অগাস্ট দিল্লি সরকার কোভিড-১৯ নির্দেশিকা অমান্য করার জন্য দক্ষিণ দিল্লির ব্যস্ত সরোজিনী নগর বাজারের ৪৬টি দোকান দুই দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল। এই দোকানগুলি সরকারের জারি করা নির্দেশিকা অমান্য করেছিল। অন্যান্য দোকানগুলিও নিয়ম ভাঙার কারণে অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়।

দেশের টিকাকরণ
বর্তমানে করোনার হাত থেকে বাঁচার জন্য টিকাকরণের উপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র সহ সবকটি রাজ্য। কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন ভ্যাকসিনেশন সম্পন্ন হয়েছে ৫৮ কোটি ২৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৯৫। যার মধ্যে সাত লাখ ৯৫ হাজার ৫৪৩ জনের টিকাকরণ সম্পন্ন হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়।
খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia












Click it and Unblock the Notifications