তৃতীয় মোর্চা মৃত, মানুষের ভরসা নরেন্দ্র মোদীই

লক্ষণীয়, কংগ্রেস বা বিজেপি ছাড়া আমআদমি পার্টি হল এমন একমাত্র দল, যারা সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে। ভোটের ফল প্রকাশিত হওয়ার পরপরই উল্লসিত নীতীশ কুমার বলেছেন, এর থেকে প্রমাণ হয়, মানুষ সুযোগ পেলে তৃতীয় শক্তিকে বেছে নেবে।
নীতীশ কুমারের এই মন্তব্যে ইঙ্গিত তৃতীয় মোর্চা। কিন্তু, ছবিটা কি অতই পরিষ্কার? আমআদমি পার্টি শুধু দিল্লিতে ভালো ফল করেছে। বাকি হিন্দি বলয়ে তো তাদের কোনও চিহ্নই নেই। একমাত্র বিএসপি চার রাজ্য মিলিয়ে ২৫টি আসন পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে দু'টি বিষয় মনে রাখা দরকার। প্রথমত, ২৫টি আসন অনুপাতের বিচারে এমন কিছুই নয়, যা দেখে বলা যেতে পারে, তৃতীয় মোর্চা শক্তিশীল হল। দ্বিতীয়ত, বিমূর্ত তৃতীয় মোর্চা মূর্ত রূপ পেলে বিএসপি যে তাতে আদৌ যোগ দেবে, এমন নয়।
বলা ভালো, কংগ্রেসের ওপর বীতশ্রদ্ধ সাধারণ মানুষ কিন্তু বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীকেই ভরসা করেছেন। কারণ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে বিএসপি, সমাজবাদী পার্টি, সংযুক্ত জনতা দল, সিপিএম, সিপিআইয়ের অবস্থা এমন নয় যে, তারা সরকার গড়তে পারবে। তাই তাদের কয়েকজন প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জেতানোর চেয়ে মানুষ ভরসা রেখেছেন সেই বিজেপি-র ওপর। ফেসবুক, টুইটারের দৌলতে নরেন্দ্র মোদী পৌঁছে গিয়েছেন শহুরে মানুষের কাছে। যুবসমাজের কাছে রাহুল গান্ধীর চেয়ে নরেন্দ্র মোদীর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। আর টিভি তো এখন গাঁয়ের অন্দরে ঢুকে পড়েছে। ফলে, গাঁয়ের মানুষকে বোঝাতেও সমস্যা হয়নি নরেন্দ্র মোদীর।
হিন্দি বলয়ের চার রাজ্যে মানুষ আঞ্চলিক দলগুলিকে কার্যত খারিজ করেছেন। হিন্দি বলয়ের বাকি ছ'টি রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলি লোকসভা ভোটে খুব ভালো ফল করবে, এটা আশা করা খুব বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আর তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেডি, তেলুগু দেশম পার্টির মতো আঞ্চলিক দলগুলি ভোটের পর যে বিজেপি তথা এনডিএ-র সঙ্গে যাবে না, এই নিশ্চয়তাই বা কোথায়?
সুতরাং, এখনই নীতীশ কুমারদের আহ্লাদে আটখানা হওয়ার কোনও কারণ নেই।












Click it and Unblock the Notifications