দ্রৌপদীর পুজোয় এই গ্রাম মেতে ওঠে এক হাড়হিম করা খেলায়! দক্ষিণ ভারতের অদ্ভুত এই উৎসব একনজরে
দ্রৌপদীকে পুজো করে তামিলনাড়ির এই গ্রামে পালিত হয় তিমথি উৎসব, নেপথ্যে কোন কারণ
'মহাভারত' এ বর্ণিত বেশির ভাগ ঘচনাক্রমের উল্লেখই উত্তরভারত জুড়ে রয়েছে বলে দেখা যায়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ থেকে হস্তিনাপুর সহ একাধিক এলাকা উত্তর ভারতের অংশে ঘটেছে বলেও জানতে পারা যায়। তবে দক্ষিণ ভারতের বহু জায়গায় মহাভারতের প্রভাব প্রবলভাবে রয়েছে বলে বিভিন্ন ঘটনায় উঠে আসে। তামিলনাড়ুতে নাগাপত্তিনাম জেলার কোন্দল গ্রাম এর এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ পেশ করে। এই গ্রামে যুগ যুগ ধরে পালিত হয় দ্রৌপদীর পুজো। তবে বছরের এক বিশেষ সময়ে এই পুজো ঘিরে পালন করা হয় 'তিমিথি উৎসব' । হাড়হিম করা এই উৎসবে কী ঘটে যায় দেখে নিন।

দ্রৌপদী ও সীতার কাহিনি কি কোথাও গিয়ে মিলে যাচ্ছে এখানে?
উল্লেখ্য, 'রামায়ণ ' অনুসারে সীতাকে অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে নিজের পবিত্রতা প্রমাণ করতে হয়েছে। এদিকে, তার আগে সীতার অপহরণ থেকে রাবণের কবল থেকে তাঁর উদ্ধারের কাহিনি ঘিরে বহু ঘটনা বর্ণিত রয়েছে রামায়ণে। অন্যদিকে, মহাভারতে বর্ণিত রয়েছে দ্রৌপদীকে ঘিরে নানান ঘটনা। তার মধ্যে অন্যতম ছিল কৌরবদের পাশা খেলার ঘটনা। তবে , তামিলনাড়ুর নাগাপত্তিনমের কোন্দল গ্রাম মনে করে যে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষে দ্রৌপদীকেও নিজের পবিত্রতার পরিচয় দিতে হয়েছে সীতার মতোই। আর আগুনের মধ্যে দিয়ে দ্রৌপদীর সেই হেঁটে যাওয়ার ঘটনার কথা এই গ্রামে বহুল প্রচলিত। সেই ঘটনা অনুসারেই গ্রামে পালিত হয় ' থিমিথি ' উৎসব।

গ্রামের কুলদেবী দ্রৌপদী
গোটা একটা গ্রাম বিশ্বাস করে যে দ্রৌপদীই তাঁদের কুলদেবী। ফলে এই কোন্জল গ্রামে নিয়মিত জাঁক জমক সহকারে দ্রৌপদীর নারী মূর্তির পুজো হয়। সে কুলদেবতীকে অনুসরণ করেই এই গ্রামে দ্রোপদীর পুজো সম্পন্ন হয়। গ্রামে রয়েছে দ্রৌপদীর একটি বড় মূর্তি। তা স্থাপন করা রয়েছে একটি বহু প্রাচীন মন্দিরে। শুধু যে তামিলনাড়ুর এই গ্রামে থিমিথি উৎসব পালিত হয়, তা নয়। এটি শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার বুকে অবস্থিত তামিলদের মধ্যে বহু প্রচলিত একটি উৎসব।

হাড়হিম করা কাণ্ড ঘটে যায়
এমন এক উৎসবে দেখা যায়, ভক্তরা দ্রৌপদীর পবিত্রতা প্রমাণের পরীক্ষার কথা স্মরণ করে তপ্ত কয়লার উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। তামিল ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে একটা সময়ে এই উৎসব পালিত হয়। তামিলদের এক বিশেষ সম্প্রদায় দ্রৌপদীকে দেবী বলে মানেন বলে, এই গ্রামে দ্রৌপদীর নাম 'দ্রৌপদী আম্মান'। মন্দিরে যে দেবী মূর্তি থাকে তা মারিয়াম্মান নামে পরিচিত। সেই মূর্তিকে গ্রামবাসী দ্রৌপদী হিসাবে পুজো করেন। শুধু তাই নয়। সিঙ্গাপুরেও এই মারিয়াম্মান দেবীর মূর্তি রয়েছে।

উৎসবে দেওয়া হয় অর্জুন ও দ্রৌপদীর বিয়ে
এই থিমিথি উৎসবে ভক্তরা তপ্ত কয়লার উর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার আগে দেবীকে পুজো করেন। তাঁরা এই আরাধনা করে প্রার্থনা জানান যে, এই উৎসবে যেন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে যায়। এরপর উৎসবের মাঝেই কাল্পনিকভাবে অর্জুন এ দ্রৌপদীর বিয়ে আয়োজন করা হয়। এর আদে মারিয়াম্মানকে দুধ স্নান করানো হয়। আর তা পূণ্য কাজ বলে মনে করা হয়। ধরে নেওয়া হয়, এমন কাজে জীবনের সমস্ত পাপ ধুয়ে যায়।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications