এই ১২ জন সাধারণ মানুষ আজ ইন্টারনেটে অপ্রত্যাশিতভাবে ভাইরাল, জানুন কীভাবে
এই ১২ জন সাধারণ মানুষ আজ ইন্টারনেটে অপ্রত্যাশিতভাবে ভাইরাল, জানুন কীভাবে
২০২১ সালের মধ্যে আমরা এটুকু জেনেই গিয়েছি যে সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষমতা ঠিক কতখানি এবং তা মানুষের ওপর কতখানি প্রভাব ফেলে। মানুষ কতটা প্রভাবিত হন, এই প্ল্যাটফর্মেই মানুষ নিজের প্রতিভাকে চিনতে শেখে এবং তাঁরা যে স্পটলাইটের যোগ্য তাঁরা সেটা পান। কিন্তু মাঝে মাঝে সেই স্পটলাইট পেতে অনেকটা সময় চলে যায়। তবে কখনও কখনও একটি ইন্টারনেট সেনসেশন হয়ে উঠতে শুধু কিছু সাহস এবং আত্মবিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই লাগে না।

সহদেব ডিরডো
এখন বর্তমানে ইন্টারনেট ট্রেন্ডিং 'বচপন কা প্যায়ার'। যার গায়ক ছত্তিশগড়ের ছোট্ট সহদেব। সহদেব তার শিক্ষকের অনুরোধে এই বচপন কা পায়ার গানটি গায়। শিক্ষক সেই গানটি রেকর্ড করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে। এই গান এতটাই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে যে বাদশার মতো র্যাপারও সহদেবকে নিয়ে নতুন করে এই গানটি তৈরি করেছেন এবং এখন এই গান তো সবার মুখে মুখে। এটা না বললেই নয় যে একজন শিক্ষক সহদেবের পুরো জীবন বদলে দিয়েছে।

দানানির মোবিন–পাওরি হো রহি হ্যায়
ইন্টারনেট এবং রিলে বন্ধুরা মিলে এই গানে পারফর্ম করেননি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। এই গলার আওয়াজ বা রিলের অনুপ্রেরণার পেছনে যিনি রয়েছেন তিনি হলেন পাকিস্তানের দানানির। তিনি ১৯ বছরের ইনফ্লুয়েন্সার। তিনি যখন বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন তখন তিনি এই অদ্ভুত ভিডিওটি তৈরি করেন, যেখানে দেখানো হয় ঘুরতে গিয়ে মেয়েরা কতটা মজা করেন। এই ভিডিও ইন্টারনেটে শেয়ার হওয়ার পর তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেট জুড়ে। বলিউডের তারকারাও এটার ওপর রিল তৈরি করেন এবং তা বেশ জনপ্রিয় হয়।

দীপিকা ঘোষ–আরসিবি গার্ল
দীপিকা ঘোষ দারুণভাবে আরসিবি সাপোর্টার। দীপিকার এই বিষয়টি জানার পর মানুষ এতটাই কৌতুহল হয়ে পড়েন যে তাঁর নাম ধরে খুঁজতে শুরু করে দেন। এমনকী দীপিকা পাড়ুকোনের চেয়েও বেশিবার দীপিকা ঘোষের নাম গুগলে খোঁজা হয়। প্রত্যেক বছর আইপিএলের সময় এ ধরনের কিছু সেনসেশনের সৃষ্টি হয় একবার করে। কিন্তু শুধুমাত্র আরসিবি সমর্থক বলে দীপিকা ঘোষ হয়ত নিজেও এত ভালোবাসা পাবেন বলে আশা রাখেননি এবং এত অনুগামী তাঁর বেড়ে যাবে তাও ভাবেননি।

সারিম আখতার
পরনে লাল-নীল চেক শার্ট, তার ওপর চ্যান খোলা হাফ স্লিভ পাফার জ্যাকেট। ভদ্রলোকের কোমরে দু'হাত! দলের হতশ্রী পারফরম্যান্স দেখে মুখে ফুটে উঠেছে চূড়ান্ত হতাশা। শেষ তিন বছরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভয়ঙ্কর ভাইরাল হয়ে যাওয়া মিমে যে মানুষটিকে বারবার দেখা গিয়েছে, তিনি পাক ক্রিকেট ফ্যান সারিম আখতার। তিনি আধা পাকিস্তানী ও আধা আমেরিকান। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪১ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। সেই ম্যাচে পাক ফিল্ডারের খারাপ পারফরম্যান্সের পরেই সারিম ওভাবে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে পরেন। ক্যামেরার ফোকাস তখন তার ওপর গিয়েই পড়ে। আর ভাইরাল হতে সেকেন্ডও লাগেনি। তাঁর মুখ বসিয়ে ইমোজি, গিফি, মিম তৈরি হতে শুরু করে। যা কখনও আশা করা যায়নি। তবে এখনও যে কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে তাঁর এই মুখ ব্যবহার করা হয়।

রানু মণ্ডল–এক প্যায়ার কা নাগমা হ্যায়
রানাঘাট স্টেশনে বসে এক মহিলা গান গাইছিলেন, নাম রানু মণ্ডল। লতা মঙ্গেশকরের বিখ্যাত গান 'এক প্যায়ার কা নাগমা হ্যায়' গেয়ে তিনি রীতিমতো ইন্টারনেট সেনসেশন হয়ে যান। তবে তা সম্ভব হয়েছে এক যুবক এই ভিডিওটি করে সোশ্যাসল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেন। রানু মণ্ডল বলিউডে হিমেশ রেশমিয়ার সিনেমাতেও গান গেয়েছেন। তাঁর গাওয়া 'তেরি মেরি কাহানি' আজও ভাইরাল নেট দুনিয়ায়।

কান্তা প্রসাদ–বাবা কা ধাবা
দিল্লির লাজপত নগরে এক ধাবার মালিক কান্তা প্রসাদ। লকডাউনের সময় এক ফুড ব্লগার তাঁর এই ধাবার ভিডিও করে পোস্ট করেন এবং সবাইকে তাঁর ধাবা থেকে খাবার কিনে কান্তা প্রসাদকে সাহায্য করতে বলেন। ভিডিও এতটাই ভাইরাল হয়ে যায় যে কান্তা প্রসাদ নিজের একটি রেস্তোরাঁ খুলে ফেলেন, নাম দেন বাবা কা ধাবা। মানুষ কান্তা প্রসাদকে অনলাইনে টাকা দিয়ে সহায়তা করেছিল বলেই তিনি এই কাজটি করতে পেরেছিলেন।

বিপিন সাহু–ল্যান্ড করা দে
'ভাই ৫০০ জ্যায়াদা লেলে লেকিন ল্যান্ড করা দে ভাই' নিশ্চয়ই ২০১৯ সালে বিখ্যাত এই যুবকের ভাইরাল ভিডিওটি মনে আছে। প্যারাগ্লাইডিং করতে গিয়ে যাতা অবস্থা হয়েছিল। মানালিতে ৪ জুলাই, ২০১৯ সালে শুটিং হওয়া, বিপিন সাহুর প্যারাগ্লাইডের দু:খজনক প্রচেষ্টার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়। ছয় মিনিটের দীর্ঘ এই ভিডিওতে, যা এখন 'ল্যান্ড করা দে' ভিডিও হিসাবে পরিচিত। বিপিন নিজেকে প্যারাগ্লাইডিং বেছে নেওয়ার জন্য নিজেকে অভিশাপ দিতে দেখা গিয়েছিল ভিডিওতে। তবে তাঁর এই শব্দগুলি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে। বিপিনের ইউটিউবে একন ১২৯ হাজার সাবস্ক্রাইবার।

অনিতা গুপ্তা–গুচি বেল্ট
এ বছরের এপ্রিল মাস বা তার কাছাকাছি কোনও সময়ে গুচি বেল্টের বাক্স খোলার সময় অনিতা গুপ্তার রেকর্ডিং করা হয়। আমরা সকলেই জানি যে গুচি বেল্ট কতটা দামি ও মূল্যবান। কিন্তু অনিতা গুপ্তা এ সবকিছু নিয়ে একটুও অবগত নন, তিনি বরং জানান যে এই বেল্টটি স্কুল বেল্টের মতোই। কোন স্কুল জানেন? দিল্লির জনপ্রিয় স্কুল দিল্লি পাবলিক স্কুলের বেল্টের মতো।

বৈভব ভোরা–পরিণত ব্যাগ
এমন একটি ব্যাগ যা কেবল একটি আশ্চর্যজনক স্টাইল স্টেটমেন্ট নয় বরং প্রশস্ত এবং অনেক কাজে আসে। সেটাই হল পরিণত ব্যাগ। যেই ব্যাগে তুমি জিনিস রাখতে পারো এবং ব্যাগের স্টাইল দিয়ে মেয়ে পটাতেও পারো। এই ব্যাগের পেছনে যিনি রয়েছেন তিনি হলেন বৈভব ভোরা। এই ব্যাগ কেবল মিম তৈরি করাতেই নয় বরং মুম্বই পুলিশও এই জোয়ারে গা ভাসান।

শিশু অনুশ্রুত–চুল কাটার ভিডিও
লকডাউনের সময় শিশু অনুশ্রুতের বাবা নিজেই তাঁর ছেলের চুল কেটে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় পাননি। শিশু অনুশ্রুত শান্ত ও চুপচাপ বসে থাকার বদলে বরং এমন কিছু কথা বলতে থাকে যা দেখার পর নেটিজেনরা হাসি চেপে রাখতে পারেননি। অনুশ্রুতের মুখে শোনা যায়, 'আরে বাপরে ক্যায়া কর রহে হো তুম, ম্যায় গুস্সা হু, ম্যায় মারুঙ্গা তুমকো, ম্যায় তুমহারি কাটিং করুঙ্গা, ময়ায় বহত বড়া হু, ম্যায় কাটিং করনে নেহি দুঙ্গা।' এইসব বলে নিজেকে বাবার হাত থেকে বাঁচাতে চাইছিল ছোট্ট অনুশ্রুত।

সোমবতী মাহাওয়ার–চায়ে পি লো
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই যদি দেখেন কোনও মহিলা আপনাকে চা খেতে বলছেন, তা লক্ষাধিক মানুষকে বিনোদন দেওয়ার সেরার উপায় হবে। সোমবতী সেরকমই একটি ভিডিও শেয়ার করেন যেখানে তিনি সকলকে চা খেতে বলছেন এবং তা নিমিষে ভাইরাল হয়ে যায়। তাঁর এই 'চায়ে পি লো, গরম হ্যায়' কথাটি এতটাই ভাইরাল হয় যে অনেকে এটার সঙ্গে নতুনত্ব কিছু করে বিষয়টিকে আরও চটকদার বানান।

হরজাস শেঠি–ওয়ার্ক ফ্রম হোম
এমএনসিতে কর্মরত হরজাস শেঠি গত একবছর ধরে বাড়িতে বসে কাজ করছিলেন। তবে করোনা পরিস্থিতি ঠিক হওয়ার পর তাঁর অফিস থেকে ফোন আসে এবং তিনি অফিসে ফিরতে চান কিনা তা জিজ্ঞাসা করা হয়। এরপরই হরজাস ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও অফিসে কাজ করার উপকারিতা-অনুপকারিতা নিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায় যা বেশ ভাও রকমের ভাইরাল হয়ে যায়। তবে ভিডিওর শেষে হরজাস এও জানান যে এটা শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য, কেউ যদি অফিসে গিয়ে কাজ করতে চান করতে পারেন।
ছবি সৌ:ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব












Click it and Unblock the Notifications