কার্গিলের যুদ্ধ যাঁর প্রাণ কাড়তে পারেনি, তিনি জীবন খোয়ালেন লেহ-র হিংসায়

লাদাখের সাবু গ্রামের ৪৬ বছর বয়সি কার্গিল যুদ্ধের বীর তসেওয়াং থারচিন সম্প্রতি পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তিনি ১৯৯৯ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় লাদাখ স্কাউটে যোগ দিয়ে দেশের জন্য লড়েছিলেন। গত সপ্তাহে লেহ শহরে রাজ্যের মর্যাদা ও ষষ্ঠ তফসিলের দাবিতে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি ও আরও তিনজন প্রাণ হারান।

২৪ সেপ্টেম্বর ত্সেওয়াং থারচিন লাদাখের রাজ্য মর্যাদা ও উপজাতীয় অধিকার সুরক্ষার দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেন। পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ হারালে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে, পরে আসে মৃত্যুর খবর। লেহ থেকে মাত্র আট কিলোমিটার দূরের নিজ গ্রাম সাবুতে তার মরদেহ রাখা হয়েছে। সোমবার তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা।

-

থারচিন ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে হাবিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন ও কার্গিল যুদ্ধে টোলোলিং অভিযানে অংশ নেন। সেনা থেকে অবসর নিয়ে তিনি লেহ শহরে পোশাকের দোকান চালাতেন। তার পিতা স্ট্যানজিন নামগিয়ালও কার্গিল যুদ্ধের যোদ্ধা এবং সেনাপ্রধানের প্রশংসাপত্র পেয়েছিলেন।

৭৪ বছরের নামগিয়াল কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন "আমার ছেলে দেশপ্রেমিক ছিল। তিন মাস কার্গিলে লড়াই করেছে, পাকিস্তানিরা তাকে মারতে পারেনি, অথচ আমাদেরই বাহিনী আজ তার প্রাণ নিয়েছে।"

পরিবারের দাবি, থারচিনের শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা প্রমাণ করে তাকে গুলি করার আগে মারধর করা হয়েছিল। তারা ন্যায়বিচারের জন্য স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

লেহ এপেক্স বডির নেতৃত্বে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তাদের দাবি-লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হোক ও ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে আনা হোক যাতে ভূমি, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির ওপর লাদাখিদের অধিকার সুরক্ষিত হয়। কিন্তু আন্দোলন দমন করতে পুলিশ গুলি চালায়।

থারচিনের বাড়িতে পরিজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন, নিস্তব্ধ শোকে ভেঙে পড়েছে গ্রাম। তিনি স্ত্রী ও চার সন্তান রেখে গেছেন। পরিবার জানিয়েছে, থারচিন তরুণদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে অনুপ্রাণিত করতেন এবং গ্রামে সকলের প্রিয় ছিলেন।

তার স্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন- "ভিড় সামলাতে টিয়ার গ্যাস বা রাবার বুলেট কেন ব্যবহার করা হলো না? কে গুলি চালানোর নির্দেশ দিল? আমাদের দেশপ্রেমিক স্বামীকে হত্যা করা হলো কেন?" তার ছোট ভাই, পেশায় প্রকৌশলী, ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যুদ্ধের সময় লাদাখিরাই সেনাদের পাশে দাঁড়ায়। আমাদের ছেলেরা যোদ্ধা হয়, মেয়েরা সৈন্যদের খাওয়ায়। অথচ আজ আমাদেরই দেশবিরোধী বলা হচ্ছে।" কার্গিল যুদ্ধের বীর তসেওয়াং থারচিনের মৃত্যু লাদাখের মানুষকে শোকাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। তাদের প্রশ্ন-যারা দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত, তাদেরই যদি রাষ্ট্রের গুলি কেড়ে নেয়,তাহলে দেশপ্রেমের মর্যাদা কোথায়?

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+