The Story behind ‘INDIA’: বিরোধী ঐক্যের নয়া নাম কার প্রস্তাবিত, নেপথ্যে কার মস্তিষ্ক
বিরোধী ঐক্যের নাম ইউপিএ বদলে রাখা হয়েছে ইন্ডিয়া। এই নয়া নাম কার প্রস্তাবিত, তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে জাতীয় রাজনীতিতে। এই ইন্ডিয়া নামের পিছনে কার মস্তিষ্ক রয়েছে, সেই প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে। উঠে আসছে ভিন্ন ভিন্ন নামও।
ইন্ডিয়া নামের নেপথ্যে কার মস্তিষ্ক রয়েছে বা কে দিয়েছেন এই বিকল্প প্রস্তাব- সেই চর্চায় যেমন উঠে এসেছে রাহুল গান্ধীর নাম, তেমনই উঠে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তবে যিনিই এই নামের প্রণেতা বা প্রস্তাবক হন, মোদীর বিরুদ্ধে ইন্ডিয়াকে লড়িয়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনা, তা বিরোধী জোটের অধিকাংশই সমর্থন করেছে।

কংগ্রেস নেতাদের মতে, রাহুল গান্ধীই এই ধারণাটি নিয়ে এসেছিলেন। তারপর জল মাপতে বিরোধী দলগুলির বৈঠক চলাকালীন তা প্রস্তাব করা হয়। ২৬ বিরোধী দল 'ইন্ডিয়া' নামটি নিয়ে দু'দিন ধরে আলোচনা করেছিল। সবার পরামর্শ নিয়েই 'ইন্ডিয়া' নাম চূড়ান্ত হয়েছিল।
রাহুল গান্ধী ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন-সহ বিরোধী নেতাদের সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলার পর বিরোধী জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই জোটের জন্য 'ইন্ডিয়া' নাম প্রস্তাব করেছিলেন। নাম প্রস্তাবিত হওয়ার পর বিভিন্ন দল আরও বিকল্প নাম প্রস্তাব করে।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ইন্ডিয়া মেইন অ্যালায়েন্স সংক্ষেপে আইএমএ বা ইন্ডিয়া মেইন ফ্রন্ট সংক্ষেপে আইএমএফ রাখার পরামর্শ দেন। নীতীশ কুমার মনে করেন ইন্ডিয়াকে এনডিএ-এর মতো শোনাচ্ছে বলেই তাঁর আপত্তি। এছাড়া তিনি বলেন, ভারত কীভাবে একটি রাজনৈতিক ফ্রন্টের নাম হতে পারে!
রাহুল গান্ধী ইন্ডিয়া নামের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে বিরোধীরা 'ইন্ডিয়া বনাম এনডিএ' স্লোগান তুলতে পারবে। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য 'মোদী বনাম ইন্ডিয়া' লড়াই বলেও অভিহিত করা যাবে। রাহুল বলেন, এই নামের মধ্য দিয়ে আমরা সংবিধান, ভারতীয়দের কণ্ঠস্বর এবং ভারতের ধারণাকে রক্ষা করছি।

বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচির প্রধান থোল থিরুমাবলাভান বলেন, বিরোধী জোটের এই নামটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামটি প্রস্তাব করেছেন। এরপর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে 'ইন্ডিয়া'র পুরো নাম ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স হয়। বাংলায় তা তর্জমা করলে দাঁড়ায় ভারতের জাতীয় উন্নয়নমূলক অন্তর্ভুক্তিমূলক জোট।
অন্যদিকে এনসিপি নেতা জিতেন্দ্র আওহাদ পোস্ট করেন, এটি রাহুল গান্ধীর ধারণা। বেঙ্গালুরুতে বিরোধী জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধী এই জোটের নাম ইন্ডিয়া রাখার একটি প্রস্তাব পেশ করেছেন। তাঁর সৃজনশীলতা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। সমস্ত দল এটিকে অনুমোদন করেছে এবং ইন্ডিয়া নামে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।"
কংগ্রেস নেতা সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বলেন, কেন বিরোধী দলগুলির ঐক্যের নাম ইন্ডিয়া হওয়া উচিত, শক্তিশালী যুক্তি উপস্থাপন করে ব্যাখ্যা করেন রাহুল গান্ধী। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে রাহুল গান্ধী নামটি প্রস্তাব করেছিলেন। আবার কোথাও বলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রস্তাব করেন।
ভারতকে মূলত ভারতীয় জাতীয় গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক জোট হিসাবে কল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু এই নামের সঙ্গে এনডিএ অর্থাৎ জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের মিল রয়েছে বলে অনেক প্রশ্ন তোলেন। তখন ডেমোক্রিটেক বা গণতান্ত্রিকের জায়গায় ডেভেলপমেন্টাল বা উন্নয়নমূলক কথাটি রাখা হয়। আর ব্যাখ্য দেওয়া হয়-গণতান্ত্রিক আর অন্তর্ভুক্ত কথাটি প্রায় সমার্থক। তাই গণতান্ত্রিকের বদলে উন্নয়নমূলক শব্দটি ব্যবহার করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications