Nitin Gadkari: গড়করির নতুন পদক্ষেপ, গাড়ির হর্নে বাজবে ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রের মিষ্টি আওয়াজ!
Nitin Gadkari: গাড়ির হর্ন হিসেবে ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রের শব্দ ব্যবহার করার আইন তৈরির পরিকল্পনা করছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি। সোমবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, হর্নের বর্তমান তীক্ষ্ণ আওয়াজ দূষণ সৃষ্টি করে এবং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। ভারতীয় সঙ্গীতের মাধুর্য সেই সমস্যা সমাধানে সহায়ক হতে পারে।
এদিন তিনি বলেন, বাঁশি, তবলা, বেহালা এবং হারমোনিয়ামের মতো বাদ্যযন্ত্রের শব্দ ব্যবহার করে গাড়ির হর্নকে আরও শ্রুতিমধুর করার লক্ষ্যেই এই আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়াও গড়করি আরও উল্লেখ করেছেন, দেশের বায়ু দূষণের ৪০ শতাংশের জন্য পরিবহন খাত দায়ী। এই দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং যানবাহনে সবুজ ও জৈব জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মিথানল এবং ইথানলের মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার পরিবহন খাতকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ভারতের অটোমোবাইল শিল্পের ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন নীতিন গড়করি। তিনি জানান, ২০১৪ সালে এই শিল্পের বাজারমূল্য ছিল ১৪ লক্ষ কোটি টাকা। যা বর্তমানে বেড়ে ২২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে স্পষ্ট করে।
ভারত এখন জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অটোমোবাইল বাজারে পরিণত হয়েছে। এদিকে সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (SIAM) এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে যাত্রীবাহী গাড়ির (PV) অভ্যন্তরীণ বিক্রি ৪৩ লক্ষ ছাড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে, রপ্তানি ১৪.৬২ শতাংশ বেড়ে ৭ লক্ষ ৭০ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।
সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স এর মতে, ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বাজারে ভারতে তৈরি গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধি এবং উন্নত দেশগুলিতে রপ্তানি শুরু হওয়ার কারণেই এই বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। যাত্রীবাহী গাড়ির (PV) রপ্তানি ৭,৭০,৩৬৪ ইউনিটের সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী আর্থিক বছরে ৬,৭২,১০৫ ইউনিট থেকে ১৪.৬২% বৃদ্ধি প্রতিফলিত করে।
সব মিলিয়ে বলা বাহুল্য, গাড়ির হর্নের আওয়াজ পরিবর্তনের এই প্রস্তাব নিঃসন্দেহে একটি সাহসী এবং উদ্ভাবনী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন শব্দদূষণ কমানো সম্ভব, তেমনই ভারতীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্য এবং মাধুর্য বিশ্বজুড়ে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে। তবে এই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও থাকতে পারে।
তবে আশা করা যায়, সরকার এই সমস্ত দিক বিবেচনা করে একটি কার্যকরী ও জনবান্ধব আইন প্রণয়ন করবে। নীতিন গড়করির এই উদ্যোগ ভারতীয় পরিবহন ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসতে পারে। যেখানে রাস্তার কোলাহলও সঙ্গীতময় হয়ে উঠবে।












Click it and Unblock the Notifications