রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্ব: বিশ্বজোড়া চাপ সামলেও ভারতীয় অর্থনীতিকে দিশেহারা হতে দেয়নি মোদী সরকার
কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার প্রায়শই মুদ্রাস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানের অপ্রতুলতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে। এদিকে অনেকেই জানেন না, ভারতীয় অর্থনীতিতে রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বের এক প্রভাব পড়েছে এবং তা অর্থনীতিকে এক নতুন গতিপথে ধাবিত করছে।
দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ কয়েক হাজার মাইল দূরে হলেও তাতে বিশ্বব্যাপী সরবরাহে বিশেষ করে শক্তি সম্পর্কিত বাজারে প্রভাব ফেলেছে। যা ভারতের আমদানি এবং মুদ্রাস্ফীতিতে সরাসরি আঘাত হেনেছে।

চারিদিক থেকে এত বাধা সত্ত্বেও ভারত আশ্চর্যজনকভাবে অর্থনৈতিক বাধাগুলিকে অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছে। কেন্দ্রের সরকার শুধুমাত্র যে মুদ্রাস্ফীতিতে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছে তা নয়, খুব সুপরিকল্পিত তৎপরতার মধ্য দিয়ে অপরিশোধিত তেলের দামকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে।
কীভাবে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের দ্বন্দ্ব সরবরাহে বিভিন্ন ঘটিয়েছে
রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এই যুদ্ধ শুরু হতেই বিশ্বজনীন ব্যবসায় বিশেষ করে তেল, গ্যাস, আটা এবং সারের বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ। তবে পশ্চিমী দেশগুলি যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার উপর নানারকম বিধি নিষেধ চাপায়। যার ফলে সারা বিশ্বজুড়ে তেলের জোগানে টান পড়ে। ইউরোপের দেশগুলি রাশিয়া থেকে শক্তি আমদানিতে নির্ভরশীল ছিল। ওদিকে যুদ্ধ শুরুর পরে বিধি-নিষেধ আরোপ হওয়াতে সেই দেশগুলি বড় বিপত্তির মুখে পড়ে। এবং বিশ্বজুড়ে তেলের এবং শক্তির চাহিদা এবং দাম দুটোই বেড়ে যায়। ভারতের ক্ষেত্রেও বড় বিপদ সামনে ছিল। কারণ আমাদের দেশ অপরিশোধিত তেলের আশি শতাংশই আমদানি করে। এবং দুই দেশের যুদ্ধ হওয়ায় আমাদের অর্থনীতির ওপর কালো ছায়া নেমে এসেছিল।
কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারত যুদ্ধের মধ্যেও সেই বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে গিয়েছে। বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়লেও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে অনেক কম দামে তেল কিনে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেছে। ভারত একদিকে যেমন রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে দেশের মানুষের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তেমনই পশ্চিমী দেশের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। আর সেজন্যই বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হলেও ভারতে নরেন্দ্র মোদী সরকার তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে।
বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার মাঝে ভারত কীভাবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ রাখল?
রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ দিক হল বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ৭০ থেকে ১২০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। ভারত যেহেতু সিংহভাগ ক্ষেত্রেই আমদানি করা তেলের উপর নির্ভর করে, ফলে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়াই স্বাভাবিক ছিল। আর তেলের দাম বাড়ানো মানেই পরিবহণ, যাতায়াত ব্যবস্থা থেকে শুরু করে উৎপাদনশিল্প এবং কৃষিকাজ সব জায়গাতেই মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা ছিল।
তবে ভারতের এক কূটনৈতিক চালে গোটা বিষয়টাই অনেক সহজ হয়েছে। এবং ভারত অন্য দেশের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে অনেক কম দামে তেল কিনেছে। কেন্দ্রের মোদী সরকার সুযোগের সদ্ব্যবহার করে জাতীয় স্বার্থকে রক্ষা করেছে এবং রাশিয়াকে ভারতের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি করা দেশে পরিণত করেছে।
এর পাশাপাশি ভারত সরকার জ্বালানিতে নানা ধরনের ভর্তুকি ঘোষণা করেছে। এবং আমজনতার বোঝা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন মুদ্রাস্ফীতিতে লাগাম পরানো গিয়েছে, অন্যদিকে ভারতের আমজনতাকেও তেলের দামের বোঝা ঘাড়ে করে বইতে হয়নি। সরকার সর্বতোভাবে চেষ্টা করেছে যাতে মুদ্রাস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনীতির গতিপথকে মসৃণ রাখা যায়।












Click it and Unblock the Notifications