উৎসবের মাসে বাড়তে পারে করোনার ঝুঁকি, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মিজোরাম, জানালো কেন্দ্র
উৎসবের মাসে বাড়তে পারে করোনার ঝুঁকি, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মিজোরাম, জানালো কেন্দ্র
উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার পর থেকেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে কেন্দ্র সরকারের। ভারতের কোভিড–১৯ পরিস্থিতি নিয়ে বলার সময় সরকার জানিয়েছে যে কেরলে করোনা সংক্রমণ হ্রাস পাচ্ছে, তবে এখনও দেশের দৈনিক সংক্রমণে এ রাজ্য থেকে ৬৮ শতাংশ কেসের অবদান রয়েছে।

উৎসবের মাসে বিপদ
বৃহস্পতিবারই স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বলা হয় যে কেরলে এখনও ১.৯৯ লক্ষ সক্রিয় করোনা কেস রয়েছে। কেরল বাদে মিজোরাম, অন্ধ্র প্রদেশ, কর্নাটক তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রে দশ হাজারের বেশি সক্রিয় করোনা কেস রয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে আইসিএমআরের ডিরেক্টর-জেনারেল ডাঃ বলরাম ভার্গব বলেন, 'আমরা দেখতে পাচ্ছি কেরলে সংক্রমণ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। অন্যান্য রাজ্যগুলিও ভবিষ্যতে সংক্রমণের তীব্রতা কমার পথে এগোচ্ছ।' তবে তিনি সতর্ক করে এও জানিয়েছেন যে আসন্ন উৎসবের পরই তৃতীয় ওয়েভ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ভার্গব বলেন, 'সামনেই উৎসবের মরশুম এবং হঠাৎ করে জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।'

অক্টোবর–নভেম্বর গুরুত্বপূর্ণ মাস
বলরাম ভার্গবের মতো একই উদ্বেগের সুরে নীতি আয়োগের সদস্য ও জাতীয় কোভিড টাস্ক ফোর্সের ডাঃ ভিক এপাল জানিয়েছেন যে আগামী দুই-তিনমাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সময় কোনও কোভিড তীব্রতা দেশের কোথাও হওয়া উচিত নয়। সাংবাদিক সম্মেলনে ভিকে পালকে এই বছরের শেষের দিকে বৃদ্ধি পাওয়া ঝুঁকি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানিয়েছেন যে অনুমান অনুসারে অক্টোবর-নভেম্বর মাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাস এবং এই মাসগুলিতে করোনার ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, 'পাবলিক ডোমেনে এ সংক্রান্ত যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। এই মাসগুলি উৎসব ও ফ্লুয়ের মাসও বটে। এই দুই মাস সম্পর্কে আমাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।' তিনি এর সঙ্গে এও জানিয়েছেন যে যদি কোনও ছোট সংক্রমণও হয়, তবে তাকে বাড়তে দেওয়া উচিত নয়। ডাঃ পাল এও জানিয়েছেন যে খুব ছোট করে এ বছর উৎসব পালন করা দরকার।

মিজোরাম নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
ডাঃ ভিকে পাল অবশ্য এও জানিয়েছেন যে মিজোরাম নিয়ে উদ্বেগের প্রবণতা ক্রমশঃ বাড়ছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, 'দেশজুড়ে স্থিতিশীলতা এসেছে এবং কেরলেও করোনা কেস হ্রাস পাচ্ছে। তবে এখন মিজোরাম নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হলেও কিন্তু আমরা আশা করি দ্রুত টিকা দেওয়ার মাধ্যমে সেখানে অবস্থার উন্নতি হবে এবং মহামারি প্রতিক্রিয়া কার্যকর হবে।'

করোনা পরিস্থিতি দেশে
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, ভারতে নতুন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন ৩০,৫৭০ জন এবং এই নিয়ে দেশের মোট করোনা সংক্রমণ দাঁড়িয়েছে ৩,৩৩,৪৭,৩২৫। দেশে করোনা সক্রিয় কেসের সংখ্যা ৩,৪২,৯২৩। করোনার জন্য মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪,৪৩,৯২৮। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার মারা গিয়েছেন ৪৩১ জন।

টিকাকরণের পরিসংখ্যান
সাম্প্রতিক টিকাকরণের পরিসংখষান অনুযায়ী সরকার জানিয়েছে যে ভারতের ২০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জমসংখ্যার সম্পূর্ণ টিকাকরণ হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ৬২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রথম টিকা নিয়েছেন। সরকার এও জানিয়েছে যে এখনও পর্যন্ত দেশজুড়ে ৫৭.৮৬ কোটি জন প্রথম ডোজ পেয়েছে এবং ১৮.৭০ কোটি জন দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications