ব্রিটিশ আমলের সাউথ ব্লক ছেড়ে স্থানান্তরিত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর
ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হল আজ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করতে চলেছেন আধুনিক প্রশাসনিক কমপ্লেক্স সেবা তীর্থ। এর মধ্য দিয়েই ব্রিটিশ আমলের সাউথ ব্লক ছেড়ে নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
নতুন এই কমপ্লেক্সে এক ছাদের তলায় থাকবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর , ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট ও ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট যেগুলি এতদিন দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আলাদা আলাদা ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল। প্রশাসনিক কাজের সমন্বয়, গতি ও নিরাপত্তা বাড়াতেই এই একীভূত কাঠামো।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে 'সেবা তীর্থ' নামকরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে উদ্বোধন করা হবে কর্তব্য ভবন ১ ও ২।
কেন এই রূপান্তর গুরুত্বপূর্ণ
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সেন্ট্রাল ভিস্তা অঞ্চলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক ও দপ্তরগুলি পুরনো, বিচ্ছিন্ন ভবনে কাজ করছিল। এর ফলে প্রশাসনিক সমন্বয়ে সমস্যা, অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও কর্মপরিবেশের সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছিল। নতুন ভবন কমপ্লেক্স সেই সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কর্তব্য ভবন ১ ও ২ এ স্থান পাবে অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, কর্পোরেট বিষয়ক, শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার, তথ্য ও সম্প্রচার, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, রাসায়নিক ও সার এবং উপজাতি বিষয়ক সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক।
আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নাগরিক কেন্দ্রিক প্রশাসন
নতুন কমপ্লেক্সগুলি নির্মিত হয়েছে ৪ স্টার GRIHA মান অনুসারে। এতে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার, জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভবন কাঠামো। এর ফলে পরিবেশের উপর প্রভাব কমবে ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে।
এছাড়াও ডিজিটালি সংযুক্ত অফিস, নির্দিষ্ট জনসংযোগ অঞ্চল, কেন্দ্রীয় রিসেপশন ব্যবস্থা, স্মার্ট অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, নজরদারি নেটওয়ার্ক ও আধুনিক জরুরি সাড়া ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্বোধন ভারতের প্রশাসনিক শাসনব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রতীক যা আধুনিক, দক্ষ, সহজলভ্য ও নাগরিক কেন্দ্রিক প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।












Click it and Unblock the Notifications