২০১৯-র নির্বাচনে এই ইস্যু অস্বস্তিতে ফেলতে পারে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে
২০১৪ সালে কেন্দ্রে যখন মোদী ক্ষমতায় আসেন তখন ভারতের যুব সম্প্রদায়কে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করতে পেরেছেন মোদী, সেই প্রশ্নেরই মুখোমুখি হবেন ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে
ভারতীয় রাজনীতিতে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও আলোচিত রাজনীতিকের নাম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কংগ্রেসের শাসনকে ভেঙে যেভাবে কেন্দ্র তথা সারা দেশে তিনি বিজেপির একছত্র আধিপত্য কায়েম করার পথে এগোচ্ছেন তার তারিফ না করে পারা যায় না। অত্যন্ত সাবলীলভাবে সরকারের কার্যকাল তিন বছর পূর্ণ করে ফেলেছে এই সরকার। আগামী রাজ্য হোক বা কেন্দ্রীয় নির্বাচনে বিজেপি তথা এনডিএ-ই যে সবচেয়ে ভালো ফল করতে চলেছে তা বলার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
২০১৪ সালে কেন্দ্রে যখন মোদী ক্ষমতায় আসেন তখন ভারতের যুব সম্প্রদায়কে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তা দেখেই দেশের যুবসমাজের একটা বড় অংশ নরেন্দ্র মোদীর বিজেপিকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে এনেছিল। যাতে কর্মসংস্থানের ভয়াবহ অবস্থা থেকে তিনি দেশকে উদ্ধার করতে পারেন।

তবে তা কতদূর হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। সারা দেশে একশোটি স্মার্ট সিটি তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। যাতে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এক জায়গা ছেড়ে অন্য জায়গায় যেতে না হয়। এই প্রকল্প চালু হলেও তার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে তা ভবিষ্যৎই বলবে।
উৎপাদনশিল্পে ও ভারী শিল্পে জোয়ার আনতে মেক ইন ইন্ডিয়া প্রচার শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে হাজারো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। ২০২২ সালের মধ্যে ১০ কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে কেন্দ্র সরকার। তবে তা সময়ে পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। তারচেয়েও বড় কথা ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে কাজ কতদূর এগোবে তা বলা কঠিন। ফলে আগামী নির্বাচনে কর্মসংস্থান ইস্যুতে মোদীকে বড় প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে সন্দেহ নেই।
দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী মোদীর আমলে কর্মসংস্থানের হাল আরও খারাপ হয়েছে। যত কর্মোপযোগী যুব কাজের বাজারে প্রবেশ করেছে, সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি করা যায়নি। তাছাড়া কর্মসংস্থান নিয়ে এই সরকারের আমলে স্পষ্ট করে কোনও রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। যার ফলে ধোঁয়াশা রয়েছে।
কেন্দ্রের সরকার একদিকে বেকারের সংখ্যা কমাতে ও অন্যদিকে কর্মসংস্থানের হার বাড়াতে নানাধরনের প্রকল্প চালু করেছে। এছাড়া স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও শিল্পোদ্যোগী হওয়াতেও উৎসাহ দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও ঘটনা হল এখনও ভারতবর্ষে বেকারত্ব অন্যতম বড় সমস্যা। আগামী লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যার উত্তাপে তপ্ত হতে হবে মোদী সরকারকে।












Click it and Unblock the Notifications