করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ১১ লক্ষের ঘরে, দ্রুত অ্যান্টিজেন টেস্টে পিছিয়ে বহু রাজ্যই
করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ১১ লক্ষের ঘরে, দ্রুত অ্যান্টিজেন টেস্টে পিছিয়ে বহু রাজ্যই
সপ্তাহের শুরুতেই ফের ধাক্কা খেল ভারত। এদিন গত ২৪ ঘণ্টায় সক্রিয় করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছালো ৪০,৪২৫–তে ও মৃত্যুর সংখ্যা ৬৮১। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দ্রুত অ্যান্টিজেন পরীক্ষার সংখ্যার তুলনায় অনেক রাজ্য বর্তমানে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

অপর্যাপ্ত দ্রুত অ্যান্টিজেন টেস্ট
সরকারি মতে, গ্রামীণ ভারতে যে হারে ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে এবং সেখানকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হালও করুণ, সেখানে টেস্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তথ্যে দেখা গিয়েছে, অনেক রাজ্যই আরটি-পিসিআর টেস্ট করাচ্ছে, কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে দ্রুত অ্যান্টিজেন টেস্ট হচ্ছে না। একমাত্র দিল্লিতেই ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছে, যেখানে সরকার ১৮ জুলাই পর্যন্ত ৩.৩৯ লক্ষ দ্রুত অ্যান্টিজেন টেস্ট করিয়েছে। অ্যান্টিজেন টেস্টের সঙ্গে তুলনা করলে একেবারে গলায় গলায় এসে ঠেকেছে আরটি-পিসিআর টেস্ট (৪.৭৯ লক্ষ)।

দু–তিনটি রাজ্য ছাড়া অ্যান্টিজেন টেস্টে পিছিয়ে অন্য রাজ্য
সরকারি মতে, দ্রুত অ্যান্টিজেন টেস্টে দিল্লির পরই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হরিয়ানা, এখানে ৬২,২৬৭ টেস্ট হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাজ্যের আরটি-পিসিআর টেস্টের সঙ্গে অ্যান্টিজেন টেস্টের বিশাল পার্থক্য হয়ে রয়েছে। হরিয়ানায় আরটি-পিসিআর টেস্ট হয়েছে ৪.২৭ লক্ষ।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। এখানে অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছে ৩৫,৭১৩ ও আরটি-পিসিআর টেস্ট হয়েছে ১৪.৫২ লক্ষ, এরপর অসম, ৫.০২ লক্ষ আরটি-পিসিআর টেস্টের তুলনায় যেখানে অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছে ২৫,৫৪০টি। অ্যান্টিজেন টেস্টে পঞ্চম স্থানে রয়েছে কর্নাটক।

টেস্টের অভাব উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
অনেক রাজ্যেই বর্তমানে সক্রিয় করোনা ভাইরাসের কেস বৃদ্ধি পেয়েছে, এই রাজ্যগুলিতেই সবচেয়ে কম দ্রুত অ্যান্টিজেন টেস্ট হচ্ছে। সরকারি তথ্যে দেখা গিয়েছে, ১.৩৩ লক্ষ আরটি-পিসিআর টেস্টের তুলনায় তেলঙ্গানায় ৬৪টি অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছে। এরপরই নাম আসে রাজস্থানের, যেখানে অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ১০.৭০ লক্ষ আরটি-পিসিআর টেস্টের তুলনায় এ রাজ্যে অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা ১০৮টি। বিহারের মতো রাজ্যে যেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে সংক্রমণ বাড়ছে,, সেখানে মাত্র ১,৩৮০টি দ্রুত অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ১০০০টি এই টেস্ট এবং গুজরাতে ২,০৮২টি অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়েছে। সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা যে রাজ্যে বেশি সেই তামিলনাড়ুতে অ্যান্টিজেন টেস্টের সংখ্যা ৩,৮০০টি। এই প্রত্যেকটা রাজ্য করোনা ভাইরাসের তীব্র বৃদ্ধির সাক্ষী রয়েছে, বিশেষ করে কনটেইনমেন্ট জোনের ক্ষেত্রে।

টেস্টের সংখা বাড়াতে বলা
যদিও মহামারিবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে আরটি-পিসিআর টেস্টের পরিপূরক হিসাবে যদি অ্যান্টিজেন টেস্টকে বোঝানো হয়, তবে বেশ কিছু রাজ্য অ্যান্টিজেন টেস্টের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য হিসাবে আরসি-পিসিআর টেস্টকেই মান্যতা দিচ্ছে। প্রসঙ্গত আইসএমআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে দেশে করোনা ভাইরাসের বৃদ্ধিকে মাথায় রেখে রাজ্যে টেস্টের সংখ্যা বাড়াতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications