Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

প্যাটেলের সতর্কতাকে তাচ্ছিল্য! ‘ঔদ্ধত্যে মশগুল’ কংগ্রেস কীভাবে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলার চক্রব্যূহে?

National Herald Case: স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশলে মাটি চাপা পড়ে গিয়েছিল ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা। অবশেষে ফের কার্যত কবর খুঁড়ে তুলে আনা হল সেই মামলাকে। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে এখন তুঙ্গে চর্চা গান্ধী পরিবারের সঙ্গে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িত এই ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা নিয়ে। ইডির অভিযোগ অনুযায়ী ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি হস্তান্তরে আর্থিক তছরুপের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন কংগ্রেসের সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী। স্বাভাবিকভাবেই, কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকালে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপিও।

তবে এই ন্যাশনাল হেরাল্ড দুর্নীতির শিকড়ের সন্ধানে পিছিয়ে যেতে হবে সুদূর ১৯৫০ সালে। সেসময়ই দুর্নীতির আঁচ করে সতর্কবাণী দিয়েছিলেন ভারতের লৌহমানব তথা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। রাজনৈতিক দলের অনুদান সংগ্রহের জন্য ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্রকে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন প্যাটেল। ১৯৫০ সালে তাঁর লেখা একাধিক চিঠিতে এর উল্লেখ রয়েছে। সেসব চিঠি পরে 'সর্দার প্যাটেলস করেসপন্ডেন্স' নামক বইতেও লিপিবদ্ধ হয়েছে। কার্যত জনসমক্ষেই জওহরলাল নেহরুকে সতর্ক করেছিলেন প্যাটেল। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনি পথে আসা অনুদান এড়িয়ে যেতে পরামর্শ দিয়েছিলেন প্যাটেল।

The National Herald Bombshell

যদিও প্যাটেলের সতর্কবাণী কানে নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি নেহরু। বরং নেহরুর কপট মনোভাব ও তদন্তের শুকনো প্রতিশ্রুতি প্যাটেলের করা ভবিষ্যদ্বাণীকে আরও জোরালো করে দিয়েছিল। আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে প্যাটেলের করা অভিযোগ দূরে সরিয়ে ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিয়েছিল কংগ্রেস। আর সেই উন্নাসিকতাই দলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে গিয়েছে।

প্যাটেলের সেই আশঙ্কাই পরে কংগ্রেসের দৌলতে বড়সড় দুর্নীতিতে পরিণত হয়। জন্ম দেয় বিপুল কোটি টাকার দুর্নীতির। হ্যাঁ, এই বিশেষণেই ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলাকে অভিহিত করছে বিজেপি। বর্তমানে ন্যাশনাল হেরাল্ডের প্রকাশনা বন্ধ। কিন্তু ওই সংবাদপত্রের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে ইয়ং ইন্ডিয়ান লিমিটেড সংস্থার মাধ্যমে সোনিয়া ও রাহুল গান্ধী নানা বেআইনি কার্যকলাপ ও অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইডির চার্জশিটে স্পষ্টতই উল্লেখ করা হয়েছে, উক্ত মামলা শুধু আর্থিক তছরুপ সংক্রান্তই নয়, বরং রাজনৈতির ক্ষমতাকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হাতানোর অপচেষ্টা নিয়েও।

১৯৫০ সালে ভারতীয় বায়ুসেনার আপত্তি সত্ত্বেও হিমালয়ান এয়ারওয়েজ নামে এক উড়ান সংস্থাকে সরকারি কন্ট্র্যাক্ট পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই উড়ান সংস্থার আধিকারিকদের তরফে আবার ন্যাশনাল হেরাল্ডকে ৭৫ হাজার টাকা অনুদান বাবদ দেওয়া হয়। এভাবে বাঁকা পথে আসা অনুদান নিয়েই নেহরুকে ৫ মে চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বল্লভভাই প্যাটেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সে যুগে রাজনৈতিক স্বজনপোষণের অন্যতম উদাহরণ ওই ঘটনা।

The National Herald Bombshell

প্যাটেলও থেমে থাকেননি। প্রকাশ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন তিনি। অনুদান প্রদানকারী হিমালয়ান এয়ারওয়েজের ওই আধিকারিকদের মধ্যে আখানি নামে একজন ব্যাঙ্ক প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত বলে বোমা ফাটান প্যাটেল। স্রেফ তাই নয়, জেপি শ্রীবাস্তবের মতো লখনউয়ের বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের থেকে পত্রের বিনিময়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আহমেদ কিড়ওয়াই অনুদানে অনুমোদনও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

যদিও আগের মতোই এবারেও কড়া কোনও সাড়া মেলেনি নেহরুর তরফে। হেরাল্ডের তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার তথা নেহরুর জামাই ফিরোজ গান্ধীকে বিষয়টি দেখার কথা বলেন জওহরলাল নেহরু। বিশেষজ্ঞদের দাবি, নেহরুর এহেন আচরণ উদাসীনতার পরিচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। যদিও অনড় বল্লভভাই প্যাটেল ৬ মে চিঠিতে নেহরুকে স্পষ্ট জানান, বেশকিছু অনুদান বেসরকারি নানা কোম্পানি মারফত এসেছে। যেগুলি আদৌও সেবামূলক কোনও উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে বলে কিছুই উল্লেখ নেই।

এবারও নেহরু ভিত্তিহীন একপ্রকার ব্যাখ্যা দিয়ে বসেন। তাঁর দাবি ছিল, ৩ বছর ধরে ওই অনুদান সম্পর্কিত কিছুতে তিনি জড়িত ছিলেন না। মৃদুলা নামে কোনও একজনকে ওই বিষয়টি দেখার ভার সঁপে দিয়েছিলেন নেহরু। কিছু ভুলভ্রান্তি হলেও হয়ে থাকতে পারে, এমনটা স্বীকার করেও নেহরুর সাফাই ছিল, গোটাটাই ব্যবসায়িক লাভ ও লোকসানের ব্যাপার। এতে জবাবদিহির কোনও জায়গাই নেই।

The National Herald Bombshell

ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলার আবেদনকারী তথা বিজপির বরিষ্ঠ নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী অবশ্য বারংবারই বলে এসেছেন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কথা। গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে জনগণের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন তিনি। তাতে বিজেপির করা অভিযোগগুলিও যেন বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধিতে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। ঐতিহাসিক নানা তথ্যপ্রমাণ ও ইডির উদ্ধার করা বিভিন্ন সূত্রের কাছে কংগ্রেসের আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তিও কার্যত ফিকে হয়ে গিয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি। বর্তমান সময়ে কংগ্রেসের মধ্যে নীতিপঙ্গুত্ব কাজ করছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুধু তাই নয়, ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি বড়সড় প্রাতিষ্ঠানিক দুরবস্থারও পর্দাফাঁস করে দিয়েছে বলে দাবি বিজেপির। কংগ্রেসের নেতৃত্বরা আধুনিক ভারতের রূপকারদের অবজ্ঞা করেছে বলেও দাবি বিজেপির।

প্যাটেলের সতর্কবাণীর কথা উল্লেখ করে বিজেপির দাবি, নিজেদের পরিবারতন্ত্র অগাধ আস্থা রেখে ভারতের স্বার্থে আঘাত করেছে কংগ্রেস। বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা নিছকই আইনি যুদ্ধের পরাকাষ্ঠা নয়। বরং যেকোনও রাজনৈতিক দলের কাছে যে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়েও দেশের স্বার্থ বড়, সেই ধ্রুব সত্যটি শিখিয়ে দিল।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+