ভুয়ো ক্যানসারের ওষুধে ভরে গিয়েছে বাজার, বেআইনি রপ্তানি বাংলাদেশ থেকে
ভুয়ো ক্যান্সারের ওষুধে ভরে গিয়েছে বাজার, বেআইনি রপ্তানি বাংলাদেশ থেকে
ওষুধ তৈরির কাঁচামাল চীন থেেক রপ্তানি হওয়ায় জাতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির রাতের ঘুম এমনিতেই কেড়েছে। তার ওপর জানা গিয়েছে, বেআইনি ওষুধও রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে। যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এতে যে শুধু ওষুধ সংস্থাগুলির উপার্জনে প্রভাব ফেলছে তা নয়, তার থেকেও বেশি রোগীর জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে এই বেআইনি ওষুধগুলি।

গবেষকদের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, বড় বড় ওষুধ সংস্থার নাম দিয়ে ক্যান্সার ও হেপাটোলজির ভুয়ো ওষুধে বাজায় ছেয়ে গিয়েছে। এই বিষয়টি মেনে নিয়েছে ওষুধ সংস্থাগুলিও। তবে ঠিক কত টাকার ওষুধ পাচার করা হচ্ছে সেটা সঠিক ভাবে জানা যায়নি। যদিও অনুমান করা হচ্ছে শুধুমাত্র ৩০০ কোটি টাকার ক্যান্সারের ওষুধই ছড়িয়ে রয়েছে ধূসর বাজারে। এই ওষুধগুলি যে দেশীয় সংস্থা এবং এমএনসি প্রস্তুত করে, তাদেরও এতে বিশাল লোকসান হচ্ছে। কারণ ভুয়ো ওষুধ আসল ওষুধের দামের তুলনায় অনেক সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ১২ শতাংশ মানুষ প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করা ওষুধ কিনছেন ঠিকই কিন্তু তা ভুয়ো ওষুধ। এইসব ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল একদমই নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ সেগুলি বৈধভাবে রপ্তানি হয়নি। উপরন্তু এই ওষুধগুলির কোনও ক্নিনিক্যাল পরীক্ষা হয়নি এবং ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদনও নেই। তবে মনে করা হচ্ছে, এমপ্লয়িজ স্টেট ইনসুরেন্স কর্পোরেশন (ইএসআইসি) এবং কেন্দ্র সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্প (সিজিএইচএস) কিছু না জেনেই নিজেদের সুবিধার্থে এই ওষুধগুলিকে বাজারে নিয়ে আসছে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অর্গানাইজেশন অফ ফার্মাসিউটিক্যাল প্রডুউসারস অফ ইন্ডিয়া (অপি) সম্প্রতি কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেছিল। অপির সদস্যরা জানিয়েছেন যে শীঘ্রই এ বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে। এক বাণিজ্যিক পরামর্শদাতা বলেন, 'অধিকাংশ ভুয়ো ওষুধ উৎপাদন করছে বাংলাদেশের সংস্থা। এগুলি তারা শুধুমাত্র রপ্তানির জন্য তৈরি করছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে যদি জোরদার সুরক্ষা বাহিনী রাখা হয় তবেই এ ধরনের বেআইনি ওষুধ পাচার রোখা যাবে।’ তিনি এও জানান যে এ বিষয়ে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হবে এবং চিকিৎসক ও রোগীদেরকেও এ ব্যাপারটি নিয়ে ওষুধ সংস্থাগুলিকে সচেতন করতে হবে। অন্য ওষুধের মতো ক্যান্সারের ওষুধ খুচরো বিক্রেতাদের কাছে পাওয়া যায় না। তা ওষুধ সংস্থার ডিস্ট্রিবিউটারের কাছে পাওয়া যায়। তাই কে বা কারা এই বেআইনি ওষুধ চক্রের সঙ্গে জড়িত তা সহজেই সনাক্ত করা যায়, জানিয়েছেন বাণিজ্যিক পরামর্শদাতা।












Click it and Unblock the Notifications