মুক্তিপণ না পেয়ে ঝাড়খণ্ডের ভারতীয় নাবিককে জ্বলন্ত পুড়িয়ে মারল অপহরণকারীরা
মুক্তিপণ না পেয়ে ঝাড়খণ্ডের ভারতীয় নাবিককে জ্বলন্ত পুড়িয়ে মারল অপহরণকারীরা
মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করায় ঝাড়খণ্ডের এক ভারতীয় নাবিককে জ্বলন্ত পুড়িয়ে দিল অপহরণকারীরা। জানা গিয়েছে, ওই নাবিককে চেন্নাইতে অপহরণ করা হয়েছিল এবং তারপর সেখান থেকে পালঘরে নিয়ে আসা হয়। সেখানেই মুক্তিপণ না পাওয়ার কারণে তাঁকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ঘোলভাড় পুলিশের তদন্তকারী অফিসার সরজেরাও কুম্ভার জানান, ওই ব্যক্তির অর্ধ–পোড়া ও অর্ধ–নগ্ন দেহ শুক্রবার সকালে উদ্ধার হয় জঙ্গল থেকে। তাঁকে তড়িঘড়ি দাহানুর কটেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে মুম্বইয়ের নভাল হাসপালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শুক্রবারই তাঁর চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালীন জবানবন্দীতে আক্রান্ত জানান যে তাঁর নাম সূরজকুমার এম. দুবে (২৭), তিনি ঝাড়খণ্ডের ডালটনগঞ্জের বাসিন্দা, তিনি আইএনএস অগ্রণীতে কাজ করতেন। তাঁকে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ৩০ জানুয়ারি চেন্নাই থেকে অপহরণ করে বন্দি করে রাখে। মৃত নাবিক এও জানিয়েছেন যে তিনি ছুটি কাটিয়ে রাঁচি থেকে বিমানে করে চেন্নাই ফিরছিলেন যাতে ৩০ জানুয়ারি সকালে তিনি কাজে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু তাঁকে বিমানবন্দরের বাইরেই মাথায় বন্দুক রেখে অজানা স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তিনদিন রেখে দেয় তাঁকে। চেন্নাইয়ের ১৫০০ কিমি দূরে পালঘরের ঘোলভাড়ে এক জঙ্গলে তাঁকে রেখে দেয় অপহরণকারীরা। সেখানেই তারা নাবিককে তাঁর মুক্তিপণের জন্য ১০ লক্ষ টাকার বন্দোবস্ত করতে বলে।
তদন্তকারী অফিসার বলেন, 'ওই নাবিক মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করায়, অপহরণকারীরা তাঁর ওপর পেট্রোল ঢেলে দেয় এবং মাথায় বন্দুক রেখে জঙ্গলের মধ্যে তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। কিছু স্থানীয় মানুষ অর্ধ–পোড়া অবস্থায় দুবেকে উদ্ধার করে এবং আমাদের জানায়।’ এই জঘন্য অপরাধকে খুব গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে পুলিশ এবং অপরহরণকারীদের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, ডাকাতি এবং অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অপরাধীদের খোঁজ চলছে। পুলিশ ঘোলভাড়ের ও তার সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে, দেখা হচ্ছে ওই এলাকায় সেই সময় কোন কোন মোবাইল নম্বরগুলি সক্রিয় ছিল। তদন্তকারী অন্য এক অফিসার বলেন, 'আমরা খতিয়ে দেখছি যে অপহরণকারীরা আদৌও এই অঞ্চলের কিনা, কারণ আমরা এখনও জানি না যে তামিলনাড়ু থেকে পালঘর, যেটা গুজরাত সীমান্তে, সেখান থেকে কীভাবে কোন গাড়িতে করে আক্রান্তকে নিয়ে আসা হয়েছে।’ ওই নাবিকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঝাড়খণ্ডে তাঁর পরিবার ও মুম্বইয়ে আইএনএস কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications