বাইশে যোগীর সাফল্যের চাবিকাঠি ওবিসি ভোটে
বাইশে যোগীর সাফল্যের চাবিকাঠি ওবিসি ভোটে
সামনের বছরই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের লিটমাস টেস্ট। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বড় অংশের মতে এই নির্বাচনে নির্ণায়ক হতে চলেছে ১১ শতাংশ ব্রাহ্মণ ভোট৷ তবে শুধুই ব্রাহ্মণরা নয়, আগামী নির্বাচনে বিজেপির ক্ষেত্রে নির্ণায়ক হতে চলেছে রাজ্যের ওবিসি ভোটও। দেখা গেছে ২০১৪ সালের পর থেকেই এই ওবিসি ভোট ঝুঁকতে শুরু করেছে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপির দিকে।

রাম মোহন লোহিয়া ও ছ'য়ের দশক!
তবে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লড়াইতে ওবিসিদের ক্ষমতায়ন এই প্রথম নয়। ছ'য়ের দশকেই রাম মোহন লোহিয়া স্লোগান দিয়েছিলেন, 'পিছড়ে মাঙ্গে শ মে ষাট'। অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষদের সমাজের প্রতিক্ষেত্রে ষাট শতাংশ প্রতিনিধিত্ব থাকা জরুরি। এরপর থেকেই দেশজুড়ে উঠে আসতে শুরু করেন একের পর এক ওবিসি নেতা। নিজেদের সম্প্রদায় তথা শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করতে শুরু করেন সক্রিয়ভাবে।

স্বাধীনতার পর OBC দের ক্ষমতায়ন
স্বাধীনতা লাভের পর দেশে জমিদারি প্রথার বিলোপ ঘটে এবং সরকার সম্পূর্ণ ক্ষমতা লাভ করে। এর ফলে অর্থনৈতিকভাবেও উন্নতি ঘটে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়, শ্রেণির। ধীরে ধীরে যা পরিণত হয় রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খার দিকে অগ্রসর হয়। সময়ে সময়ে উত্তর ভারতের রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্তা হয়ে ওঠে এই পিছিয়ে পড়া শ্রেণী। উত্তরপ্রদেশ, বিহারের মতো রাজ্যগুলিও তার ব্যতিক্রম হয় না। সেই সমস্ত রাজ্যেও এই সম্প্রদায়ের মানুষরা বিধায়ক, সাংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে শুরু করেন।

জরুরি অবস্থা ও জয়প্রকাশ নারায়ণ!
১৯৭৫ সালে জয়প্রকাশ নারায়নের নেতৃত্বে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনেও উঠে আসে একাধিক ওবিসি মুখ। রাজ্য তো বটেই, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন লালু প্রসাদ যাদব, নীতিশ কুমার এবং মুলায়ম সিং যাদব। ন'য়ের দশকে মণ্ডল কমিশনের নির্দেশের ফলে আরও এক ধাপ উঠে আসে এই পিছিয়ে পড়া শ্রেণিরা। ক্রমেই রাজ্যগুলির রাজনীতিতে অন্যতম নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষরা।

২০১৪র পর হিন্দুত্বের দিকে ঝুঁকছে OBC সম্প্রদায়
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, স্বাধীনতা উত্তর সময় থেকে বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক দলের ভোটব্যাঙ্ক হলেও সম্প্রতি ওবিসি ভোট ঝুঁকেছে বিজেপির দিকে। ২০১৪ সালের পর থেকেই ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষরা ভরসা করেছেন বর্তমানে কেন্দ্রের শাসকদলকে। আর করবে না-ই বা কেন, যেভাবে বিজেপি ক্ষমতার বণ্টন করেছেন তাঁদের সম্প্রদায়ের মধ্যে, গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছে দলিত তথা ওবিসি নেতাদের৷ তাতে বরং এমনটা না হওয়াই অস্বাভাবিক।

OBC সম্প্রদায়কে বিশেষ গুরুত্ব বিজেপির
ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের মধ্যে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কুর্মি, মৌর্য, লোধ, কুশওয়াহা, চৌরাশিয়া সম্প্রদায়কেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে বিজেপি। এখনও ওবিসি সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেই ভবিষ্যতের নেতা খুঁজছে গেরুয়া শিবির৷ ওবিসিদের মধ্যেও সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মধ্যে নিজেদের মূল বিস্তার করছে তারা৷
সম্প্রতি নয়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যেভাবে রদবদল করেছে মোদী সরকার। সামনে আনা হয়েছে একাধিক দলিত, মহিলা, ওবিসি মুখদের। তাতে বলাই যায়, এই ওবিসি ভোটের ওপর ভর করেই বাইশের যুদ্ধ জিততে চাইছে যোগী সরকার।












Click it and Unblock the Notifications