বিতর্ক দানা বাঁধার আগেই বিজেপির চাপে পড়ে সবরীমালায় হ্যান্ডবুক প্রত্যাহার কেরল সরকারের
কেরলের সবরীমালা মন্দির বিতর্ক আজও অব্যাহত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ভগবান আয়াপ্পার এই মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ নেই। যদিও ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল যে এই মন্দিরে সব বয়সের মহিলারা প্রবেশ করতে পারবে। সেই অনুযায়ী কেরলের বাম সরকার হ্যান্ডবুক তৈরি করে সেখানে এই রায়ের কথা উল্লেখ করেছিল। হ্যান্ডবুকে লেখা ছিল, '২০১৮ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী সবরীমালা মন্দিরে সব পুণ্যার্থীদের প্রবেশের ওপর অনুমতি রয়েছে।' স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে সবরীমালা মন্দিরে বিতরণ করা এই হ্যান্ডবুকের নির্দিষ্ট এই নির্দেশকে বৃহস্পতিবার বিজেপির চাপে পড়ে প্রত্যাহার করে নিল কেরল সরকার। প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি এই নির্দেশের পিছনে 'কোনও খারাপ উদ্দেশ্য' রয়েছে বলে দাবি করতেই কেরল সরকার এই নির্দেশ প্রত্যাহার করে।

১৭ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার থেকে পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য খুলে গেল ভারতের অন্যতম বিতর্কিত মন্দির সবরীমালা। শীতকালে এই মন্দিরে দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি থাকে। সেই কারণেই দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে তীর্থের জন্য খোলা হচ্ছে সবরীমালা মন্দির। সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশ রয়েছে এই মন্দিরে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ রীতিমতো অমান্য করে মন্দির কর্তৃপক্ষ তাদের পুরনো রীতি বজায় রেখে ১০-৫০ বছর বয়সী মহিলাদের প্রবেশ করতে দেয়না মন্দিরে। কারণ ভগবান আয়াপ্পাকে চিরন্তন ব্রহ্মচারী বলে বিবেচিত করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের রায় সামনে আসার পর কেরল সরকার প্রাথমিকভাবে মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেই চেষ্টা বৃথা যায়। মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ বিজেপির সঙ্গে একজোট হয়ে ব্যাপক ঝামেলার সৃষ্টি করে। রাজ্য সরকার তখন থেকেই বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালেও হ্যান্ডবুক বিতরণ করেছে। যদিও বিজেপি প্রতিবাদ জানিয়ে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী বলে সরকারকে সতর্ক করেছে। বৃহস্পতিবারই দেবস্বম মন্ত্রী কে রাধাকৃষ্ণ সবরীমালায় আসা সাংবাদিকদের জানান যে নির্দিষ্ট ওই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি আরও পরিষ্কার করে জানান যে এই বছরের হ্যান্ডবুকে এই নির্দেশিকা ভুলবশত ছাপা হয়। তিনি বিষয়টির ওপর ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বলেন, 'এই বিষয়ের ওপর সরকারের কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নেই। নির্দেশনায় কোনো ত্রুটি থাকলে তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হবে।' দেবস্বম মন্ত্রী এডিজিপি এম আর অজিতের কাছ থেকে এই ভুলের ব্যাখা চান। এডিজিপি এই ভুল স্বীকার করে জানিয়েছেন যে অসাবধানতাবশত এই ভুল হয়ে গিয়েছে। নতুন হ্যান্ডবুক শীঘ্রই বিতরণ করা হবে।
২০১৮ সালের রায় অনুযায়ী সবরীমালায় মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশ ও তা নিয়ে বিতর্ককে সামনে রেখে কারোর নাম না নিয়েই বিজেপির রাজ্য প্রধান কে সুরেন্দ্র বলেন, 'যদি এই সিদ্ধান্তের ফলে সবরীমালা ফের রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং আয়াপ্পার ভক্তদের নিশানায় নেওয়া হয়, আমরা কিন্তু কাউকে ক্ষমা করব না। সরকার এর আগেও এই ইস্যু নিয়ে যথেষ্ট হাঙ্গামার সৃষ্টি করেছে। যদি তারা আবার এটা নিয়ে পদক্ষেপ করতে চায় তবে তার ফল সুদূরপ্রসারী হবে।'












Click it and Unblock the Notifications