দীর্ঘদিন ধরে বালাকোট হামলার ছক কষে রেখেছিল ভারতীয় সেনা, আগে মেলেনি সরকারি অনুমতি!
দীর্ঘদিন ধরে বালাকোট হামলার ছক কষে রেখেছিল ভারতীয় সেনা, আগে মেলেনি সরকারি অনুমতি!
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় সিআরপিএফ বহনকারী একটি বাস ধাক্কা খায় বিস্ফোরণভর্তি একটি গাড়ির সঙ্গে। বিস্ফোরনে ৭৬তম ব্যাটালিয়নের সিআরপিএফের ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন, আহত হন আরও অনেকে। গোটা দেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এই ঘটনায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায় স্বীকার করে পাকিস্তানের জৈশ–ই–মহম্মদ। পুলওয়ামার পাল্টা জবাবে আজকের দিনেই ২৬ ফেব্রুয়ারি ঠিক ১২দিনের মাথায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর ১২টি মিরাজ ২০০০ জেট বিমান নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের বালাকোটে ঢুকে এয়ার স্ট্রাইক করেন। ভারতীয় বায়ু সেনা জৈশের ঘাঁটিতে হামলা চালায় এবং অক্ষত অবস্থায ফিরে আসেন বায়ু সেনার প্রতিটি জওয়ান।

জঙ্গি ঘাঁটি বালাকোট
পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা করার আগে এই জায়গাটি গত ১৫ বছর ধরে ভারতীয় সেনার পাখির চোখ হয়েছিল। জঙ্গি ঘাঁটি হিসাবে মূলতঃ পরিচিত এই বালাকোট। ওয়ান ইন্ডিয়াকে গোয়েন্দা দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে ২০১৯ সাল শুধু নয়, ১৫ বছর আগে এই বালাকোট তাঁদের নজরদারির আওতায় ছিল। বালাকোটের ওপর টার্গেট দীর্ঘকাল ধরে ভারতীয় তদন্ত সংস্থাগুলি করে এসেছে। গোয়েন্দারা আরও জানিয়েছেন যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরিকল্পনার আগে বালাকোট নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও ভারত কখনই চায়নি যে বালাকোটে তড়িঘড়ি করে অভিযান চালাতে এবং ভাবা হয়েছিল যে পরীক্ষনীয়ভাবে প্রথমে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হবে।

বালাকোটের ওপর ১৫ বছর ধরে হামলার পরিকল্পনা
আসলে বালাকোটে হামলা করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের গভীরে প্রবেশ করা এবং লক্ষ্যে আঘাত করা। বালাকোটে জঙ্গিদের ব্যাপক বিচরণ সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থারা অবগত ছিল, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সবুজ সঙ্কেত পাওয়া যায়নি। রিসার্চ ও অ্যানালাইসিস উইং-এর প্রাক্তন কর্মকর্তা অমর ভূষণ নিশ্চিত করে যে তাঁরা ১৫ বছর আগেই বালাকোটের ওপর তাঁদের নজরদারি চালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে হামলার কোনও সবুজ সঙ্কেত না পাওয়ার কারণে এই হামলার বিষয়টি স্থগিত ছিল। বালাকোট জৈশের সবচেয়ে বড় ও বিপদজ্জনক ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত এবং এখানে অনেক আগেই হামলা করা উচিত ছিল বলে মনে করেন অমর ভূষণ।

ভারতের কড়া বার্তা
ভূষণ এও জানান, 'তারপর থেকে অনেকবার আমরা ঘাঁটিতে আঘাত করতে চেয়েছিলাম। এই লক্ষ্যগুলি দীর্ঘকাল ধরে ভারতীয় সংস্থার র্যাডারে ছিল।' তিনি এও বলেন, 'আমি নিশ্চিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের অনেক আগে ২০১৬ সালে বালাকোটে এই বিকল্পটি বিবেচনা করা হত। তবে দেখা যাচ্ছে যে বালাকোটে স্ট্রাইকে যাওয়ার আগে পরীক্ষামূলক কিছু করার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অপরেশনে একাধিক জঙ্গি নিহত হয়েছে।' অমর ভূষণ জানিয়েছেন যে কতজন জঙ্গি নিহত হয়েছে সেটা কথা নয়, প্রকৃত বিষয় হল জৈশ-ই-মহম্মদের চিহ্নিত ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানা হয়েছে। তিনি বলেন, 'এটি নিয়মিত জঙ্গিদের ঘাঁটি, যেখা জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আমি অবশ্যই বলব বালাকোট ঘাঁটিতে ভারত আক্রমণ চালিয়ে দেশ কড়া বার্তা দিয়েছে। অন্য যে বার্তাটি জানানো হয়েছিল তা হল আমরা জানি তারা কোথায় এবং তারা কী সমর্থন পাচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে জঙ্গি মৃত্যুর সংখ্যাটি দুর্দান্ত ছিল। আমি বিশ্বাস করতে পারি না যখন কেউ বলে যে সন্ত্রাসী শিবিরগুলো খালি ছিল।'

বালাকোট হামলা
প্রসঙ্গত, ভারতীয় জেটগুলি এলওসি পেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীর পেরিয়ে বালাকোট, চাকোটি এবং মুজফ্ফরাবাদে জঙ্গি ঘাঁটিতে অভিযান চালায় ১২টি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান। বালাকোটে একটি জৈইশ-ই-মহম্মদ পরিচালিত জঙ্গি ঘাঁটি আক্রমণ করে এবং বিমান হামলায় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জঙ্গি নিহত হয়। পাকিস্তানের মতে, ভারতীয় সামরিক বিমান মুজফ্ফরাবাদ কাছে তাদের আকাশ সীমা লঙ্ঘন করে এই হামলা করেছে। জৈশ-ই-মহম্মদের মাদ্রাসার ওপর ভারতীয় বায়ুসেনার হানায় প্রতিটি বিমানে ক্ষেপণাস্ত্রের নিক্ষেপবিন্দুতে মোট বিস্ফোরক পরিমাণ নেট এক্সপ্লোসিভ কোয়ান্টিটি ছিল ৭০ থেকে ৮০ কেজি টিএনটি।












Click it and Unblock the Notifications