বর্ষশেষে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য, বৃহস্পতি ও শনির 'যুগলবন্দি', কোনও অঘটনের ইঙ্গিত কি, জেনে নিন

বর্ষশেষে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য, বৃহস্পতি ও শনির 'যুগলবন্দি', কোনও অঘটনের ইঙ্গিত কি, জেনে নিন

এক রেখায় একেবারে কাছাকাছি বৃহস্পতি- শনি। ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যায় বৃহস্পতিকে বলা হয় দেবগুরু আর শনির নাম শুনলেই একটা কু শব্দ জুড়ে যায় সকলের মনে। শনির দৃষ্টি নাকি শুভ নয়। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ২০২০ সালটায় শনির দৃষ্টিই ভর করেিছল পৃথিবীর উপর। করোনা মহামারীতে জের বার গোটা বিশ্ব। তার তাণ্ডব এখনও জারি রয়েছে। কবে মুক্তি জানা নেই। তারই মধ্যে সু আর কু দুই যুযুধান মুখোমুখি হচ্ছে। সৌরমণ্ডলের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি ও সবচেয়ে সুন্দর গ্রহ শনি আজ মুখোমুখি হচ্ছে। সেই মহাজাগতিক দৃশ্য গত ৪০০ বছরে দেখা যায়নি। ৮০০ বছর আগে প্রথম ঘটেছিল। তবে রাতের অন্ধকারে নয়। এবার আঁধার নামলেই প্রকট হবেন তাঁরা। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই গণনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে কৌতুহলী জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপ তাক করে রেখেছেন আকাশের দিকে।

বৃহস্পতি-শনি যুগলবন্দি

বৃহস্পতি-শনি যুগলবন্দি

এমন ঘটনা সচরাচর ঘটে না। কিন্তু ঘটছে ২০২০ সালেই। যে বছর সব না ঘটা জিনিস ঘটছে। করোনা মহামারী থেকে শুরু করে একের পর এক তারকার মৃত্যু, অস্থিরতা, দেশে দেশে বিবাদ কোনও কিছুই বাকি নেই। এক অদেখা শত্রুর সঙ্গে লড়াই করতে হিমসিম খাচ্ছে গোটা মানব জাতি। গোটা বিশ্ব বিধ্বস্ত। সেই কালেই এমনই এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের মুখোমুখি হতে চলেছে গোটা বিশ্ব। এক রেখা একেবারে কাছাকাছিস এসে পড়েছে বৃহস্পতি ও শনি। আঁধার নামলেই পশ্চিম আকাশে জ্বল জ্বল করবে এই দুই গ্রহ। গত ৪০০ বছরের ইতিহাসে যা ঘটেনি।

কবে শেষ ঘটেছিল দ্য গ্রেট কনজাংশন

কবে শেষ ঘটেছিল দ্য গ্রেট কনজাংশন

নাসার বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন দ্য গ্রেট কনজাংশন। বাংলায় যাকে যুগলবন্দি বলাই যায়। আমেরিকার টেক্সাসের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বহু বছর অপেক্ষা করতে হয়। স্বাভাবিক নিয়মে ২০ বছর অন্তর দুই গ্রহের ব্যবধানের তারতম্য হয়। তবে এতো কাছাকাছি এসে যাওয়া হয় না। গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে এই দুই গ্রহ একে অপরের কাছে আসতে শুরু করেছে। ২১ ডিেসম্বর তারা সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করবে। ২৫ ডিসেন্বর বড়দিন পর্যন্ত তাঁদের কাছাকাছি অবস্থান দেযা যাবে।

কতটা কাছাকাছি

কতটা কাছাকাছি

আমার খালি চোখে দুটি গ্রহকে খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে দেখব ঠিকই কিন্তু বাস্তবে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব কয়েক লক্ষ আলোকবর্ষ থাকবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই দূরত্বটাও আগের থেকে অনেকটা কাছের বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। ১৬২৩ সালের মার্চ মাসে ভোরে এঁদের কাছাকাছি দেখা গিয়েছিল। তবে রাতে দেখা যায়নি। তার আগে ১৬১০ সালে এই দুই গ্রহের কাছাকাছি অবস্থান প্রথম পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এক বিজ্ঞানী।

কক্ষপথেই আসন

কক্ষপথেই আসন

এক গ্রহের সঙ্গে অপর গ্রহের দূরত্ব নির্ভর করে সকলের নিজের নিজের কক্ষ পথের ঘোরার উপর। বৃহস্পতিকে প্রায়ই পৃথিবী থেকে কাছাকাছি দেখা গিয়েছে। তার অন্যতম কারণ এই কক্ষপথ। গ্রহগুলি নিজের নিজের কক্ষপথে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘোরে। সেই সময়েই দিন রাত হয় পৃথিবীতে। একই ভাবে অন্যগ্রহেও সেটা হয়। এই ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। বৃহস্পতি ও শনি তার সঙ্গে পৃথিবী। তিন গ্রহই একে অপরের কক্ষ পথে ঘুরতে ঘুরতে এমন একটি সন্ধিক্ষণে এসেছে যার জন্য এই যুগলবন্দি তৈরি হয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+