প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করল কেন্দ্র সরকার
প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করল কেন্দ্র সরকার
রাশিয়া বনাম ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব যে বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়বে, এ কথা জানাই ছিল। এই যুদ্ধের জেরেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে পেট্রোপণ্য সহ অন্যান্য জ্বালানির দাম। কাজেই চাপে পড়ে পরিশোধিত তেল, গ্যাসের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার। ব্যতিক্রম নয় ভারতও। এবার কাঁচা গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিল ভারত সরকার। বাড়ি বাড়ি রান্নার জন্য যে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, তা থেকে শুরু করে সার প্রস্তুতকারী, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার।

এর আগে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ছিল ২.৯০ মার্কিন ডলার। দাম বাড়ানোর পর তা দাঁড়াচ্ছে ৬.১০ মার্কিন ডলার। শুক্রবার থেকে আগামী ছ'মাসের জন্য এই দাম কার্যকরী হবে। এমনিতেই গত ১০ দিনে ন'বার বেড়েছে পেট্রোলের দাম। সাধারণ মানুষের মাথায় হাত পড়ছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার কিনতেও। সিলিন্ডার পিছু ৫০ টাকা দাম বেড়ছে রান্নার গ্যাসের। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর যে দাম কিনা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের৷ ভারতের ইতিহাসে গ্যাস উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিকে সর্বোচ্চ দাম দিতে হবে অপরিশোধিত গ্যাস কিনতে।
ভারত সরকার বছরে দু'বার এই জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে। পয়লা এপ্রিল এবং পয়লা অক্টোবর, এই দু'বার স্থির হওয়া দামে গ্যাস উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি প্রাকৃতিক গ্যাস কেনে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই দাম বাড়ার ফলে সিএনজি এবং রান্নার গ্যাসের দাম বাড়বে ১০-১৫ শতাংশ। আইসিআরএ-র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রশান্ত বশিষ্ঠ বলেন, 'বিশ্বজুড়ে গ্যাস উৎপাদকদের ঘোষিত মূল্যবৃদ্ধির জন্য বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। ভারতে যে সংস্থাগুলি গ্যাস উৎপাদন করে, তাদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি শান্তিরই বটে৷ এর আগে রীতিমতো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল প্রথম সারির সংস্থাগুলি।'

প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ার ফলে প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎয়ের দামেও। তবে উপভোক্তাদের বিশেষ সমস্যা হবে না। এর কারন, ভারতে গ্যাস থেকে খুব কম পরিমানেই বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়৷ প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবারই টুইটে এই বিষয় নিয়ে রাহুল গান্দী প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন। তিনি লিখেছেন, মোদীর প্রতিদিনের করণীয় তালিকায় রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদিনের করণীয় এক,পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের দাম কত বাড়বে, দুই, কীভাবে জনগণের খরচ নিয়ে আলোচনা বন্ধ করা যায়। তিন, কীভাবে যুবকদের কর্মসংস্থানের ফাঁপা স্বপ্ন দেখাতে হয়, চার, কোন সরকারি সংস্থা বিক্রি করবে এবং কীভাবে কৃষকদের আরও বেশি করে অসহায় করে তোলা যাবে। রাহুল গান্ধী তার সাম্প্রতিক টুইটের সঙ্গে 'রোজ শুভ কি বাত' বলে একটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications