ব্ল্যাক কার্বনের বিভীষিকা, হারিয়ে যাচ্ছে গঙ্গোত্রী হিমবাহ!

ব্ল্যাক কার্বনের বিভীষিকা, হারিয়ে যাচ্ছে গঙ্গোত্রী হিমবাহ!

"কোথা হইতে আসিয়াছ নদী? মহাদেবের জটা হইতে", আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু 'অব্যক্ত' গ্রন্থে ঠিক এইভাবেই বর্ণনা করেছিলেন গঙ্গার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বকে। ভারতের মহাতীর্থ হিসেবে পরিচিত 'চার ধাম' যারা গিয়েছেন তাঁরা জানেন গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে কীভাবে উৎপত্তি হয়েছে ভাগীরথীর। তাছাড়া ছবি বা ভিডিওতে কম বেশি সকলেই দেখেছেন ভারতের অন্যতম বড় হিমবাহকে। কিন্তু হঠাত যদি হারিয়ে যায় সেই গঙ্গোত্রী হিমবাহ! তাহলে? না, কোনও অলীক গপ্প নয়, বরং অদূর ভবিষ্যতে সেটাই হতে চলেছে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। আর যা কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়াচ্ছে পরিবেশবীদদের।

কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রীর বক্তব্য

কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রীর বক্তব্য

ব্ল্যাক কার্বনের জেরে গঙ্গোত্রী হিমবাহ গলতে শুরু করেছিল। দ্রুত হারে হিমবাহ গলার কারণে বেশ কিছু এলাকা হারিয়েছে উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রী হিমবাহ। জানা গিয়েছে, গত ১৫ বছরে ০.২৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকার হিমবাহ হারিয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এই বিষয়টি উত্থাপন করেছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) ভারতীয় রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট ডেটা ব্যবহার করে এই সমস্ত পরিবর্তনগুলি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।

 হারিয়ে যাচ্ছে গঙ্গোত্রী!

হারিয়ে যাচ্ছে গঙ্গোত্রী!

লক্ষ্য করা গিয়েছে যে, গঙ্গোত্রী হিমবাহ ২০০১-২০১৬ সাল পর্যন্ত হিমবাহের প্রায় ০.২৩ বর্গ কিলোমিটার বরফ গলে গিয়ে এলাকা হারিয়েছে। বিজেপির মহেশ পোদ্দারের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র জানিয়েছেন, বায়ুমন্ডলে ব্ল্যাক কার্বনের উপস্থিতি হিমবাহ গলে যাওয়ার মূল কারণ। প্রায় ১৫ বছর ধরে ব্ল্যাক কার্বনের প্রভাবে বেশ অনেকটা জায়গাই হারিয়েছে উত্তরাখণ্ডের হিমবাহটি। নিম্ন উপত্যকায় বাসস্থান সম্পর্কেও প্রশ্ন রেখেছিলেন মহেশ পোদ্দার।

 সমস্যা অত্যন্ত জটিল

সমস্যা অত্যন্ত জটিল

ভারতের সঙ্গে সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কেস স্টাডির ডেটা সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করে তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়েছেন। হিমালয়ের হিমবাহগুলো গলে যাওয়া অত্যন্ত জটিল সমস্যার সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন তাঁরা। ইসরোর থেকে পরিবেশ মন্ত্রকের প্রাপ্ত তথ্য, হিমালয়ের এলাকায় ঘন কালো কার্বনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। আর এরকম চলতে থাকলে এক সময় একদিকে যেমন ভেসে যাবে উত্তর ভারতের হিমালয় পাদদেশ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা, অন্যদিকে তেমন মরা খালে পরিণত হবে গঙ্গা, আর যার ফল অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

 কী এই ব্ল্যাক কার্বন?

কী এই ব্ল্যাক কার্বন?

কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন,ব্ল্যাক কার্বন মূলত স্বল্পস্থায়ী জলবায়ু দূষণকারী। বায়ুমণ্ডলে আসার পর মাত্র কয়েক দিন থেকে সপ্তাহ থাকে। ব্ল্যাক কার্বনের জেরে নিত্যদিন উষ্ণতা বাড়তে থাকায়, ওই এলাকার বরফ গলতে শুরু করেছে। ব্ল্যাক কার্বনের বিশেষ ক্ষমতাগুলির মধ্যে অন্যতম হল তাপ ধরে রাখা এবং এরা আলো শোষণও করতে পারে নিজের মধ্যে। হিমালয়ের বেশ কিছু অংশে এর পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে বিপদ। বায়ু থেকে এই ব্ল্যাক কার্বন হিমালয় অঞ্চলে নেমে আসার ফলে বরফ গলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে।

 অপরাধী গ্লোবাল ওয়ার্মিং

অপরাধী গ্লোবাল ওয়ার্মিং

ডিভেচা সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক অনিল কুলকার্নি জানিয়েছেন, গঙ্গোত্রী হিমবাহের বিষয়টি অন্যান্য হিমবাহের থেকে আলাদা নয়। এই হিমবাহটি অনেক আগে থেকেই গলতে শুরু করেছে। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া ১৮৭০ সাল থেকে এটি ওপর পর্যবেক্ষণ করছে। ৬০-৭০ দশক থেকে ধারাবাহিকভাবে গলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমালয়ের বেশিরভাগ হিমবাহ মূলত গলতে শুরু করেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার অনেকটাই বেশি। তার ফল হচ্ছে গলে যাচ্ছে দেশের সবথেকে বড় গ্লেশিয়ার।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+