জেএনইউ হামলার মুখ ঢাকা বহিরাগতদের মুখোশ খুলল হোয়াটস অ্যাপে
হোয়াটস অ্যাপে জেএনইউ হামলার ছক
রবিবার জেএনইউতে মুখ ঢাকা দিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল বহিরাগতরা। লাঠি, রড, হাতুড়ি দিয়ে রক্তাক্ত করেছিল জেএনইউ চত্ত্বর। ভেঙেছে প্রথিতযশা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যর ইতিহাস। প্রথম থেকেই এই হামলার নেপথ্যে এবিভিপি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও সেই দায় নিজেদের ঘাড়ে নেয়নি বিজেপি সমর্থিত এবিভিপি। কিন্তু এবার সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এই কাণ্ডে এবিভিপি রয়েছে তা প্রমাণ হয়ে গেল। তার সঙ্গে উঠে এল কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।

হোয়াটস অ্যাপে ফাঁস এবিভিপির হামলার ছক
জানা গিয়েছে শ'খানেক হামলাকারীদের মধ্যে আটজন এবিভিপির খোদ ঘরের লোক। এছাড়াও রয়েছেন জেএনইউএর প্রধান কর্মাধক্ষ্য, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন একটি কলেজের একজন শিক্ষক এবং দু'জন পিএইচডি ছাত্র। রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানোর আগে এই হামলার পরিকল্পনা তিনটে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে মেসেজ করে পাঠানো হয়েছিল। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেও হোয়াটস অ্যাপে ঘুরল এমন কিছু মেসেজ যেখানে লেখা ছিল ‘দেশ বিরোধীদের মেরে ফেলুন'। এরপরই জেএনইউতে ঢুকে বহিরাগতরা হোস্টেলের ঘর ভাঙচুর করে, পড়ুয়াদের পেটায় ও আসবারপত্র ভাঙে। হোয়াটস অ্যাপে এবিভিপির গ্রুপগুলির সম্পর্কে আরো তথ্য জানার সময় উঠে আসে যে জেএনইউ প্রধান কর্মাধক্ষ্য ধনঞ্জয় সিং ‘ফ্রেন্ডস অফ আরএসএস' গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তিনি ওই গ্রুপে হামলার আগে ও হামলা চলাকালীন সক্রিয় ছিলেন। যদিও তিনি সেদিনের ওই গ্রুপের কথোপকথন সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।

এবিভিপি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সদস্য জেএনইউয়ের প্রধান কর্মধক্ষ্য
ধনঞ্জয় সিং বলেন, ‘আমি গ্রুপের সক্রিয় সদস্য নই। গ্রুপটি ছেড়ে বেরিয়েও যাই। আমার কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ক্যাম্পাসে শান্তি ফিরিয়ে আনা। এরা প্রত্যেকেই আমার ছাত্র। আমি নিজে এখানকার পড়ুয়া ছিলাম। অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। আমরা অনেক গ্রুপে থাকলেও সব সময় মেসেজ দেখার সময় পাই না।' প্রসঙ্গত ২০০৪ সালে ধনঞ্জয় নিজে এবিভিপির সভাপতির পদপ্রার্থী ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়
হোয়াটস অ্যাপে ‘ইউনিটি এগেনস্ট লেফ্ট'-এই গ্রুপে রয়েছেন এবিভিপির এখন ও প্রাক্তন কর্মীরা। জেএনইউয়ের এবিভিপির বিজয় কুমার, বিভাগ সনয়োজোক এই গ্রুপের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনও অজ্ঞাত নম্বর থেকে এই গ্রুপে যোগ করানো হয়। তারপর অ্যাডমিন বানিয়ে দেওয়া হয় এই গ্রুপের। আমি যখনই হোয়াটস অ্যাপ দেখি, সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপ থেকে বেড়িয়ে যাই। এখন আমাকে আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে হুমকি ফোন করা হচ্ছে। অপরদিকে পরিচয়ে তিনি জেএনইউয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের পিএইচডির ছাত্র। নাম সৌরভ কুমার। এবিভিপির গ্রুপগুলিতে পোস্ট করেছেন বহুবার। হামলার আগেই লিখেছেন, ‘এসপার নয়তো ওসপার করতেই হবে। আমরা যদি এখন ওদের উপর হামলা না করি, তাহলে আর কবে করব?' যদিও পরবর্তীতে বয়ান বদল করে সৌরভ বলেন, ‘আমার নম্বর ব্যবহার করে কেউ এসব কাজ করেছে।' এবিভিপির জেএনইউ শাখার সম্পাদক জঙ্গিদ বলেন, ‘আমাকেও এসব গ্রুপে অ্যাড করা হয়েছে না জানিয়ে। কিন্তু এবিভিপির এমন কোনও গ্রুপ নেই। এটা কমিউনিস্টরাই বানিয়েছে। ইচ্ছে করেই আমাদের অ্যাডমিন করে রেখেছে ওখানে। ওখানে এসএফআই এর সদস্যরাও আছেন।'












Click it and Unblock the Notifications