করোনা আতঙ্ক! স্বাধীনতা দিবসের আগে নেই তেরঙার চাহিদা, আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
করোনা আতঙ্ক! স্বাধীনতা দিবসের আগে নেই তেরঙার চাহিদা, আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
আর পাঁচদিন পরই দেশের স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু এ বছর সেভাবে তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না কোথাও। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে স্কুল, কলেজ এবং অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার জন্য স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাদি গ্রাম উদ্যোগের জাতীয় পতাকা বিক্রির ওপর।

চাহিদা নেই জাতীয় পতাকার
লখনউয়ের খাদি আশ্রমের এক কর্মী বলেন, ‘প্রত্যেক বছর, বিপুল পরিমাণে জাতীয় পতাকা বিক্রির সাক্ষী থাকি আমরা। কিন্তু এই বছর কোনও চাহিদাই নেই পতাকার। সরকারি অফিস ছাড়া, অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই এ বছর পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠান করছে না। তারা জানিয়েছেন, সকলেই যখন এই পরিস্থিতিতে বাড়িতে বসে কাজ করছে, তাই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে কর্মীদের ডেকে পাঠানোর কোনও অর্থ নেই।'

কমেছে ৯০ শতাংশ ব্যবসা
ওই কর্মী জানিয়েছেন যে, স্কুল, কলেজ ও অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০ শতাংশ বিক্রি হয়। কিন্তু এ বছর সেখান থেকে প্রায় কোনও অর্ডারই আসেনি। ৯০ শতাংশ ব্যবসা কমে গিয়েছে। তবে জাতীয় পতাকা বিক্রির আরও একটি কারণ হল, অ্যামাজনের মতো ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে এখন অনেকেই জাতীয় পতাকা কিনছে। সেই কারণে খাদি গ্রাম উদ্যোগের বিক্রি কমেছে। ওই কর্মী বলেন, ‘মানুষ এখন বাজারে যেতে ভয় পাচ্ছে। সে কারণে অনলাইনেই কিনে নিচ্ছে পতাকা। যার কারণে আমাদের বিক্রি হ্রাস পেয়েছে।'

খাদি ইউনিটে কমেছে কর্মী সংখ্যা
মেরঠের খাদি ইউনিটের ডাইং এবং প্রিন্টিং বিভাগের ম্যানেজার ভূপিন্দর কুমার উপাধ্যায় বলেন, ‘সস্তা সিন্থেটিক পতাকাও আমাদের ব্যবসার ক্ষতি করছে। ভারতের সংবিধানে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা রয়েছে যে দেশের তিরঙ্গা সুতির খাদি কাপড় দিয়েই তৈরি হবে। এটিই একমাত্র খাঁটি ভারতীয় পতাকা।' তিনি আরও বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন এখানে ৮০০ কর্মী কাজ করতেন। আর আজকে এখানে সাতজন কর্মী কাজ করছেন এবং ইউনিটের মোট শক্তি ২০-রও কম।'

উৎপাদন বন্ধ চারমাস ধরে
বেশিরভাগ খাদি ইউনিটে জাতীয় পতাকা উৎপাদনের কাজ মার্চ মাস থেকে শুরু হয় যায় তবে লকডাউনের কারণে প্রায় চার মাস ধরে উৎপাদন স্থগিত রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications