লকডাউন শিথিলের পর দেশে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৪৫%‌, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কলকাতার

লকডাউন শিথিলের পর দেশে মৃত্যুর হার বেড়েছে ৪৫%‌, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কলকাতার

১ জুন থেকে লকডাউনের নিষেধাজ্ঞাগুলি প্রত্যাহার করার পর থেকে ভারতে কোভিড–১৯–এ মৃত্যু হয়েছে ৪৫ শতাংশ (‌৯,৯১৫ জনের মধ্যে ৪,৫০৭)‌। আরও উদ্বেগের বিষয় হল এই যে ৮ জুনের পর থেকে করোনা কেসের বৃদ্ধির চেয়ে মৃত্যুর কেস বৃদ্ধি বেড়ে গিয়েছে। অতীতের সপ্তাহগুলি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে যে করোনা মামলার কেসের হার যেখানে ১.‌২৯, সেখানে করোনায় মৃত্যুর হার ১.‌৩৩।

মৃত্যুর হার বেড়েছে

মৃত্যুর হার বেড়েছে

এর অর্থ হল, ভারতে মৃত্যুর হার প্রকৃতপক্ষে ৮-১৬ জুন ২.‌৭৮ থেকে ২.‌৮৯ শতাংশ বেড়েছে। মৃত্যুর হার বাড়ানো একটি বিরক্তিকর প্রবণতা কারণ একটি উচ্চ সংখ্যার পরীক্ষার ফলে উচ্চ মানের সংখ্যার ক্ষেত্রে বোঝা যায়, যা সাধারণত সামগ্রিক মৃত্যু হারকে হ্রাস দেখায়। ৯ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে ভারতে নথিভুক্ত হয়েছে ৭৭,০৯৮টি করোনা কেস ও ২,৪৪২টি মৃত্যু। সাপ্তাহিক মৃত্যুর হার হল ৩‌.‌১৭ শতাংশ, এটি ৮ জুন থেকে সামগ্রিক মৃত্যুর হার বৃদ্ধি করেছে। যদিও এখনও বিশ্বের বহু দেশে থেকে মৃত্যুর হারের সংখ্যায় পিছিয়ে রয়েছে ভারত, কিন্তু তা যে কোনও সময়ে বিশ্বের যে কোনও দেশের সমতুল্য মৃত্যুতে পৌঁছাতে পারে। সুতরাং কেন্দ্রকে এখন করোনায় মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দিতে হবে এবং সমস্ত সম্ভাব্য প্রচেষ্টা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে।

৮০ শতাংশ মৃত্যু এই পাঁচ শহরে

৮০ শতাংশ মৃত্যু এই পাঁচ শহরে

জানা গিয়েছে, ভারতে প্রায় ৮০ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে প্রধানত এই পাঁচটি রাজ্য থেকে। সেগুলি হল মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাত, পশ্চিমবঙ্গ ও মধ্যপ্রদেশ। এছাড়াও পাঁচ শতাংশের ওপর মৃত্যুর হার রয়েছে এমন জেলার সংখ্যা ৬৫টি। যার মধ্যে ১৯টি মধ্যপ্রদেশের, ১১টি গুজরাতের, ১০টি উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের। এই রাজ্যগুলিতে করোনার প্রভাব পড়েছে মারাত্মকভাবে। জেলাগুলি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ থেকে জানা যায় যে ভারতে ৭১ টি জেলায় ১০ বা ততোধিক কোভিড-১৯ এর মৃত্যু হয়েছে (দ্রষ্টব্য: এর আকারের কারণে আমরা এই বিশ্লেষণের জন্য দিল্লিকে একটি জেলা হিসাবে গণ্য করেছি)। এই জেলাগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্রের জেলায় ১৬টি মৃত্যু নিয়ে শীর্ষ রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে।

 মৃত্যুর হার বেশি গুজরাতে

মৃত্যুর হার বেশি গুজরাতে

দেশের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি গুজরাতে ৬.‌৩ শতাংশ। এটা অবাক করার মতো বিষয় নয়, কারণ মৃত্যুর হারের দিক দিয়ে ১০টি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে পাঁচটি জেলা এই রাজ্যেরই। পূর্ব গুজরাতের জেলা পাঁচ মহল গোধরা, দাহোদ, হালোল, কলোল ও ঝালোদ এই পাঁচটি তেহসিল নিয়ে গঠিত। দেশের মধ্যে এই জেলাতেই ১১.‌১১ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে। অন্য চার জেলা আনন্দ (‌মৃত্যুর হার ৯.‌৪৫ শতাংশ)‌, পাটান (‌৮.‌৫৫ শতাংশ)‌, আরাবল্লী (‌৮.‌১১ শতাংশ)‌ ও ভাবনগর (‌৭.‌৬৯ শতাংশ)‌ মৃত্যুর হার রয়েছে। রাজ্যের বড় ও প্রধান শহর আহমেদাবাদে মৃত্যুর হার বেশ উল্লেখযোগ্য ৭.‌১২ শতাংশ। প্রকৃতপক্ষে, এটি ভারতের বড় জেলাগুলির মধ্যে কলকাতার (৭.‌৭৫ শতাংশ) পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

গুজরাতের পর মহারাষ্ট্র

গুজরাতের পর মহারাষ্ট্র

২৪ টি এমন জেলা রয়েছে যেখানে পাঁচ বা তার বেশি শতাংশ মৃত্যুর হার রয়েছে। জলগাঁও, সোলাপুর, ধুলে, আমরাবতী, নন্দেদ, নাসিক ও ঔরঙ্গাবাদ এই সাত জেলা নিয়ে গুজরাতের পরই স্থান পেয়েছে মহারাষ্ট্র। সোলাপুর ও ঔরঙ্গাবাদও দেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করেছে এবং ৩ থেকে ১৩ জুন এই দশ দিনের মধ্যে মৃত্যুর শতকরা হার ৬৮.৪১ শতাংশ এবং ৫৫.১ শতাংশ বেড়েছে।

তালিকায় নাম মধ্যপ্রদেশেরও

তালিকায় নাম মধ্যপ্রদেশেরও

গুজরাতের মতো মধ্যপ্রদেশের ছ'‌টি জেলায় মৃত্যুর হার বেশ উল্লেখযোগ্য। জনপ্রিয় পৌরাণিক শহর ও মহাকালেশ্বর মন্দিরের জন্য খ্যাত উজ্জ্বয়িনিতে রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর হার ৯.‌৪ শতাংশ। এ রাজ্যে ৬৮১টি কেসের মধ্যে ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুরহানপুর, পশ্চিম নিমার, পূর্ব নিমার ও দেওয়াসে এই মৃত্যুগুলি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে রাজ্যের তিনটে বড় শহর ইন্দোর, ভোপাল ও জব্বলপুরের নাম তালিকায় নেই। কারণ এই তিন শহরে মৃত্যুর হার পাঁচ শতাংশেরও কম।

মেরঠে মৃত্যুর হার ৯.‌১ শতাংশ

মেরঠে মৃত্যুর হার ৯.‌১ শতাংশ

উত্তরপ্রদেশের মেরঠ, যেখানে ১৫ জুন একদিনে ৪০টি কেসের সন্ধান পাওয়া যায়, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বাজে মৃত্যুর হার এখানেই। রাজ্যে ৬৬৬টি কেসের মধ্যে ৬০ টি মৃত্যু হয়েছে মেরঠে এবং মৃত্যুর হার ৯.‌১ শতাংশ। আগ্রা (‌৬.‌২৬ শতাংশ)‌ ও আলিগড় (‌৫.‌৭৯ শতাংশ)‌ রাজ্যের দুই প্রধান শহর যেখানে মৃত্যুর হার ৫ শতাংশের বেশি।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর কলকাতা

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর কলকাতা

ভারতে যত মেট্রো/‌শহর, জেলা রয়েছে মৃত্যুর হারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর হল কলকাতা। এই শহরে মৃত্যুর হার ৭.‌৭৫ শতাংশ (‌৩৮৩৩ কেসের মধ্যে ২৯৭ জনের মৃত্যু)‌। জুনের ১৫ দিনের মধ্যে এই শহরে করোনা কেস বৃদ্ধি পায় ৭৭ শতাংশ। রাজস্থানের একমাত্র জেলা জয়পুর, যা পিঙ্ক সিটি নামে বিখ্যাত, এখানে মৃত্যুর হার পাঁচ শতাংশের বেশি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+