ফিরে দেখা ২০১৯ : এ বছরের ভয়ঙ্কর কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা ঘুম কেড়েছিল দেশবাসীর
এ বছর কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘুম কেড়ে নিয়েছিল দেশবাসীর
শেষ হতে চলেছে ২০১৯ সাল। কিন্তু এই বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি, খরা সৃষ্টি হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর। বিজ্ঞান–প্রযুক্তির যুগেও আজও আমরা প্রকৃতির কাছে প্রচণ্ড অসহায়। এ বছর দেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ, ভূমিধ্বস, দাবানল ও ভূমিকম্পে বহু মানুষের জীবন হানি হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বিশাল। এ বছর সেরকমই কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী থেকেছে দেশ। ফিরে যাওযা যাক সেইসব দুর্যোগপূর্ণ দিনগুলিতে।

দিল্লির আনাজ মাণ্ডিতে আগুন
এ দিন দিল্লির আনাজ মাণ্ডিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় নিহত হন ৪৩ জন মানুষ এবং ৫০ জনের মতো আহত হন। স্কুল ব্যাগ ও জুতো তৈরির কারখানা থেকে প্রথম এই আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা আনাজ মাণ্ডিতে। দিল্লির দমকল বিভাগে ভোর ৫ টা ২২ নাগাদ এই আগুন লাগার খবর আসে এবং তারা পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু বহুতলে প্রবেশের মুখটা এতটাই সংঙ্কীর্ণ ছিল যে দমকল ভেতরে ঢুকতে পারেনি। গ্যাল কাটার দিয়ে লোহার গ্রীল কেটে ভেতরে ঢোকে দমকল কর্মীরা। ৩৫টি দমকলের ইঞ্জিন আসে ঘটনাস্থলে। ১৫০ জন কর্মীর সহায়তায় ৬৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকার্যে সহায়তা করে জাতীয় বিপর্যয় বাহিনী।

কেরল বন্যা
বছরের সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাত ৮ আগস্ট থেকে শুরু হয় কেরলে। বর্ষার এই ভারী বৃষ্টির জেরে রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। সরকারের পক্ষ থেকে উত্তর ও মধ্য কেরলের ৯টি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়। এছাড়াও মধ্য কেরলের ৩জেলায় অরেঞ্জ সতর্কতা এবং দক্ষিণ কেরলের ২টি জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয় দেওয়া হয় ত্রাণ শিবিরে। ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কেরলের এই ভয়াবহ বন্যায় ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২ লক্ষ মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেন। ২০১৮ সালের আগস্টেও কেরলে ভারী বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে ৪৭০ জন মানুষ মারা যান এবং রাজ্যে ৪০ কোটির সম্পত্তি ক্ষতি হয়।

বিহারে বন্যা
এ বছর বৃষ্টিতে বিহারে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে রাজ্যের উত্তরদিকের ১৩টি জেলা। যার জেরে জুলাইয়ের শেষে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর বিহারের ১৩টি জেলার ৯২টি ব্লকের ১২৬৯টি পঞ্চায়েত এলাকা বন্যা কবলিত হয়। যার জন্য ৮৮.৪৬ লক্ষ মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চেন্নাইয়ের জল সংকট
এ বছরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে একটি হল চেন্নাইয়ের জল সংকট। যা গোটা দেশকে জলের গুরুত্ব কি তা বুঝিয়ে দিয়েছিল। তামিলনাড়ুর এই শহরে গত ১৯ জুন সরকারিভাবে ঘোষণা করে দেওয়া হয় যে ‘ডে জিরো' বা কোথাও একবিন্দুও জল অবশিষ্ট নেই। এ বছর বর্ষা দেরিতে ঢোকার ফলে শহরের প্রধান চারটে জলাধার, যেখান থেকে শহরে জল সরবরাহ করা হয়, তা শুকনো হয়ে যায়। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালে পর্যন্ত কম বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে এই জলাধার পুরোপুরি ভরতে পারেনি। যার ফলে শহরে জল সংকট দেখা দেয়। মানুষকে সোনার দরে জল কিনে খেতে হয়। তবে বৃষ্টি আসার সঙ্গে সঙ্গে চেন্নাইবাসী জল সংরক্ষণ করতে শুরু করে দেয়। যার ফলে কিছুটা হলেও সংকট মেটে।

ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান দুর্ঘটনা
ভারতীয় বায়ুসেনার অ্যান্টোনভ অ্যান-৩২ টুইট ইঞ্জিন এয়ারক্রাফট এ বছরের ৩ জুন অসমের জোরহাট বিমানবন্দর থেকে ১৩ জনকে নিয়ে অরুণাচল প্রদেশের মেচুকার উদ্দেশ্যে ওড়ে। কিন্তু আকাশে ওড়ার ৩৩ মিনিট পরই ওই বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে বায়ুসেনা। এক সপ্তাহ ধরে ওই বিমানের কোঁজ চালানোর পর অরুণাচলের কাছে গট্টে গ্রাম সংলগ্ন পারি হিলসে বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। ১৩ জনই এই ঘটনায় নিহত হন।

বিহারে শিশু মৃত্যু
এ বছর জুনে বিহারের মুজফ্ফরনগর ও সংলগ্ন এলাকায় এনসেফালাইটিস সিনড্রোমে ভুগে মৃত্যু হয় ১০০ জন শিশুর। বিহার হল দেশের মধ্যে দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ রাজ্য।

ঘূর্ণিঝড় ফেণি
১৯৯৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর ওড়িশায় এ বচর আবার আছড়ে পড়ে ফেণি। ২৬ এপ্রিল ভারত মহাসাগরের পশ্চিম সুমাত্রায় এই ঘূর্ণিঝড় দানা বাঁধে। এরপর তা আছড়ে পড়ে ওড়িশা উপকূলে। গোটা রাজ্য তছনছ করে দেয় এই ঘূর্ণিঝড়। বহু পর্যটক আটকে পড়েন এ রাজ্যে। যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিকল হয়ে পড়ে এখানে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বহু পর্যটনকে বিশেষ ট্রেনে করে ফেরানো হয়। তবে ফেণির ক্ষয়ক্ষতি সামলে উঠতে বেশ অনেকদিন সময় লাগে ওড়িশা সরকারের। ক্ষতি হয় পর্যটন শিল্পেও।












Click it and Unblock the Notifications