১৫ লক্ষ আন্তর্জাতিক যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করা হবে, রাজ্যগুলিকে নির্দেশ কেন্দ্রের
মন্ত্রীপরিষদের সচিব রাজীব গৌবা এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে করোনা ভাইরাসের সঙ্কটের সময় তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ওপর পর্যবেক্ষণ দরকার এবং যাত্রীদের যে প্রকৃত সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে তার মধ্যে ব্যবধান রয়েছে।

১৫ লক্ষ আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রীর ওপর রাজ্যের পর্যবেক্ষণ
রাজীব গৌবা ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত আসা ১৫ লক্ষ আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রীদের ওপর কার্যকরভাবে নজরদারি করতে রাজ্যগুলিকে অনুরোধ করেছে কারণ আসল পর্যবেক্ষণের মধ্যে ব্যবধান দেখা গিয়েছে যা কোভিড-১৯ বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টাকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করতে পারে। এমন যাত্রীদের তালিকা অভিবাসন দপ্তর থেকে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে দেওয়া হয়েছিল বলে রাজ্যের সচিবদের চিঠি লিখে জানিয়েছন গৌবা। তিনি তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ‘এটা হয়ত আপনারা জানেন, ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে সব বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। আমার কাছে তথ্য রয়েছে যে এ বছরের ২৩ মার্চ পর্যন্ত অভিবাসন দপ্তর কোভিড-১৯-এর পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রীদের তালিকার বিবরণ পাঠিয়ে দিয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। তবে, আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সংখ্যা যেগুলি রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা দরকার এবং যাত্রীদের যে প্রকৃত সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে তার মধ্যে একটি ব্যবধান রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।' চিঠিতে এও বলা হয়েছে, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে যাতে এই মহামারি প্রতিরোধ করা যেতে পারে।'

আন্তর্জাতিক যাত্রীদের নজরদারি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই পর্যবেক্ষণের ওপর ক্রমাগত জোর দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘তাই আমি আপনাকে অনুরোধ করতে চাই যে স্বাস্থ্য-পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুসারে এই জাতীয় যাত্রীদের তাৎক্ষণিক নজরদারি করার জন্য জরুরী ও জোরদার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হচ্ছে।' গৌবা এও জানিয়েছেন যে এই কাজে জেলা কর্তৃপক্ষ যেন সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। যদিও সরকারের দাবি যে বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক আগত যাত্রীদের স্ক্রিনিং পর্যায়ক্রমে ১৮ জানুয়ারি থেকে করা হয়েছিল।

রাজ্যগুলির কাছে নিশ্চিত হতে চাইছে কেন্দ্র
এরপর মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লভ আগরওয়ার পরে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদের সচিব রাজ্য সরকারকে চিঠি লিখে এটা নিশ্চিত করতে চাইছেন যে কোনও যাত্রী আর স্ক্রিনিং করাতে বাকি নেই। এটা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার এক ধরন। তিনি রাজ্যকে অনুরোধ করে জানিয়েছেন যে সব আন্তর্জাতিক যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ ও কোভিড-১৯-এর পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে এবং সম্প্রদায়ের সুরক্ষার খাতিরে তাঁরা প্রত্যেকেই ১৪ বা ২১ দিনের কোয়ারান্টাইন সময় পালন করেছেন তা নিশ্চিত করে জানাতে।'

রাজ্যকে পরামর্শ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সব রাজ্যগুলির কাছে পরামর্শ পাঠানো হয়েছে, যেখানে উল্লেখ করা আছে যে ২১ দিনের লকডাউনের সময় লক্ষ লক্ষ শ্রমিক পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তাঁদের আশ্রয় ও খাবার সহ অন্য সহযোগিতা সহ পদক্ষেপ দ্রুত করা হোক। এছাড়াও অন্য রাজ্য থেকে আসা পড়ুয়া, কর্মত মহিলারা যে জায়গায় রয়েছেন সেখান থেকে যেন কোনওভাবেই তাঁদের তাড়িয়ে না দেওয়া হয় সে বিষয়ে নজর রাখতে বলা হয়েছে রাজ্যকে।
উপদেষ্টায় এও বলা হয়েছে স্বেচ্ছা সেবি সংস্থা সহ বিভিন্ন সংস্থাকে রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করে সমাজের দুর্বল শ্রেণীকে পরিশুদ্ধ পানীয় জল, স্যানিটেশন ইত্যাদির মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধাগুলির সঙ্গে খাদ্য ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়াও পিডিএসের মাধ্যমে শস্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলিও যেন তাঁদের মধ্যে সরবরাহ করা হয় তারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে এই জাতীয় মানুষের অযথা ঘোরাঘুরির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা যাবে।

প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনার জন্য বিমান পরিষেবা বন্ধ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব পুণ্য সলিলা শ্রাবাস্তব জানিয়েছেন যে প্রবাসীদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য কোনও বিমান পরিষেবার পরিকল্পনা নেই। অভিবাসীদের জন্য কি বাসের বন্দোবস্ত করা হয়েছে, এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের উদ্দেশ্য হল মানুষকে এক স্থানে, নিরাপদ ও সুরক্ষার সঙ্গে রেখে দেওয়া। রাজ্যগুলি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছে এবং সুযোগ-সুবিধার বন্দোবস্ত করছে।'












Click it and Unblock the Notifications