জনগণনা শুধুমাত্র তথ্য ভিত্তিক হওয়া উচিৎ নয়, দাবি স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির
জনগণনা শুধুমাত্র তথ্য ভিত্তিক হওয়া উচিৎ নয়, দাবি স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির
পরপর করোনা ওয়েভের কারণে পিছিয়েছে দেশে জনগণনা বা আদমশুমারির কাজ৷ সম্প্রতি দেশের জনগণনার কাজ দ্রুত শুরু করতে চাইছে কেন্দ্র সরকার। জাতিভিত্তিক জনগণনার দাবি আগেই তুলেছিলেন নীতিশ কুমার, নবীন পট্টনায়েকের মতো মুখ্যমন্ত্রীরা৷ এবার স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে যে আসন্ন আদমশুমারি কেবলমাত্র তথ্য-ভিত্তিক হওয়া উচিত নয়, বরং এটি এমনভাবে করা উচিৎ যাতে এটিতে সংস্কৃতি এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। প্যানেলের সদস্যরা মনে করেন যে যেহেতু আগামী আদমশুমারির কাজ এখনও শুরু হয়নি, তাই ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই ধরনের তথ্য পাওয়ার জন্য একটি প্রচেষ্টা করা উচিত। প্রাক-স্বাধীনতা যুগে আদমশুমারির রিপোর্টে এইরকম সংস্কৃতিগত তথ্য প্রতিফলিত হত৷

সংসদীয় কমিটি জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে আদমশুমারির তথ্য পাওয়ার পদ্ধতি এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং আদমশুমারিতে প্রশ্নের সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার পর থেকে বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে সংসদীয় কমিটি জনগণনার বাজেটের জন্য বরাদ্দ হ্রাসের কারণগুলি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। যেখানে ২০২১-২২ এর বাজেটে আদমশুমারির জন্য ৩৭৬৮.২৮ কোটি বরাদ্দ ছিল সেখান থেকে ২০২২-২৩-এ ৩৬৭০ কোটিতে নামানো হয়েছে বরাদ্দ।
সংসদীয় কমিটিকে উত্তর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে বলা হয়েছে আসন্ন আদমশুমারির প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু কাজ যেমন 'ডেটা সেন্টারের আপগ্রেডেশন' এবং ডিজিটালভাবে আদমশুমারি পরিচালনার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন করা হয়েছে, এবং এসবে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ হয়েছে। তাই মূল বাজেট থেকে কিছু টাকা কমানো হয়েছে৷ ২০২২-২৩ এর জন্য ৩৬৭৬কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে যাতে আদমশুমারী সম্পর্কিত অবশিষ্ট কাজগুলি এবং জনগণনার প্রথম ধাপ এই আর্থিক বছরে পরিচালিত হতে পারে।

একই সঙ্গে ব্যয়মন্ত্রক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সংসদীয় প্যানেলকে জানিয়ে যে এই অর্থ বিভিন্ন আদমশুমারির প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যয় করা হবে যেমন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, আদমশুমারি এবং জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্টার (এনপিআর) উপাদান, ১৮টি ডেটা ক্যাপচার সেন্টার এবং হার্ডওয়্যার, সফ্টওয়্যার এবং জাতীয় ডেটা সেন্টারকে আপগ্রেড করা। নাগরিক কাজ, আদমশুমারি এবং এনপিআর-এর প্রচার এবং রাজ্যগুলিকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া।
ব্যায়মন্ত্রক আরও জানিয়েছে যে কোভিডের কারণে ২০২১ সালের আদমশুমারি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে আসন্ন আদমশুমারিতে তথ্য সংগ্রহ ডিজিটালভাবে করা হবে বলেও জানানো হয়েছিল। একজন গণনাকারী তার স্মার্টফোন ব্যবহার করে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি ডেটা সংগ্রহ করবেন এবং জমা দেবেন। তবে কানেক্টিভিটি সমস্যার ক্ষেত্রে কাগজের সময়সূচির ব্যবস্থাও রাখা হবে।












Click it and Unblock the Notifications