বিদেশে আটকে থাকা ভারতীয় শ্রমিকদের ফেরানোর উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্র, ফেরানো হবে পড়ুয়াদেরও

বিদেশে আটকে থাকা ভারতীয় শ্রমিকদের ফেরানোর উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্র, ফেরানো হবে পড়ুয়াদেরও

বিদেশে আটকে রয়েছেন বহু ভারতীয়। যাঁরা বিদেশের বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত। অথচ তাঁরা দেশে ফিরতে পারছেন না। বিদেশ ও অসামরিক বিমান মন্ত্রক বিদেশে আটকে থাকা কয়েক হাজার ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করে দিয়েছে, এই উদ্বাসন পরিকল্পনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্থল নীতি তৈরি করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ বিমানে করে এই সব বিদেশে আটকে থাকা কারখানার কর্মীদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হবে। বিমানে তাঁদের স্থান হবে সবার আগে।

প্রথমে ফেরানো হবে ভারতীয় শ্রমিকদের

প্রথমে ফেরানো হবে ভারতীয় শ্রমিকদের

সেরকমই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে রয়েছে ভারতীয় পড়ুয়ারা। যাঁদের কর্মীদের পর ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হবে। শেষে দেশে ফেরানো হবে সেই সব ভারতীয়দের যাঁরা কাজের জন্য বা নিছক ঘুরতে গিয়েছিলেন বিদেশে। সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘‌প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে খুব স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ভারতীয় প্রবাসী কর্মীরা দেশে ফেরার বিষয়ে প্রথম অগ্রাধিকার পাবেন।'‌

অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় প্রবাসীরা ভারতকে সহায়তা করেছিল

অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় প্রবাসীরা ভারতকে সহায়তা করেছিল

এক বৈঠকে মোদী জানিয়েছিলেন যে কীভাবে দরিদ্রতম ভারতীয় অভিবাসী শ্রমিকরা, যাঁরা বেশিরভাগ উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে এসেছেন, ভারতকে অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় সহায়তা করেছিলেন। ১৯৯৮ সালের মে মাসে পোখরানে প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপে‌য়ি পাঁচটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পরে যখন আমেরিকা এবং অন্যান্য পশ্চিমের দেশগুলি ভারতের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলি চাপিয়েছিল। তখন এই শ্রমিক সম্প্রদায় বহু সহায়তা করেছে দেশের আর্থিক হাল ফেরানোর জন্য। মোদী আরও জানান, দু'‌দশক পরও ভারতের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এখনও দেশে টাকা পাঠাচ্ছে। ২০১৮ সালে, বিশ্বব্যাঙ্কের মতে, ভারত এখনও বিশ্বের শীর্ষ প্রেরক হিসাবে রয়েছে। প্রবাসীরা ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রেরণ করেছে। প্রায় অর্ধেক পরিযায়ী শ্রমিক পশ্চিম এশিয়া থেকে এসেছিলেন। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারি পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে কর্মরত ভারতীয় শ্রমিকদের ওপর বাজেভাবে প্রভাব ফেলে। অনেকেই কাজ হারিয়ে ফেলেন, কারণ বহু প্রকল্প বাতিল হয়ে যায় অথবা সংস্থা বন্ধ হয়ে যায়। রাজ্যগুলিতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের থাকার ব্যবস্থা করার ক্ষমতা নেই বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উপসাগরীয় দেশগুলিতে ভারতীয়দের যত্ন নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন ফোনের মাধ্যমে।

উপসাগরীয় দেশগুলিতে আটকে ভারতীয় শ্রমিক

উপসাগরীয় দেশগুলিতে আটকে ভারতীয় শ্রমিক

ছয়টি উপসাগরীয় দেশে ভারতীয় শ্রমিকরা বিদেশে ১২.‌৬ মিলিয়ন ভারতীয়দের ৭০ শতাংশ। আরবে ৩.‌৪ মিলিয়ন ভারতীয় বাস করে। ২.‌৬ মিলিয়ন ভারতীয় থাকে সৌদি আরবে। এছাড়াও কুয়েত, ওমান ও বাহারিনে ২.‌৯ মিলিয়ন প্রবাসী বাস করেন। সরকারিভাবে জানা গিয়েছে, উপসাগরীয় দেশ ছাড়াও সরকারের কাছে বিদেশে আটকে থাকা বহু ভারতীয় পড়ুয়াদের উদ্ধারের জন্যও অনুরোধ এসেছে। এইসব পড়ুয়ারা লন্ডন, কানাডা, আমেরিকা, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপিনসে আটকে আছে। প্রায় ১৫ হাজার পড়ুয়া রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। সরকারের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, বিদেশ থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনা একটি দেশীয় মিশন। সরকার তালিকা করতে শুরু করে দিয়েছে। অগ্রাধিকার অনুযায়ী সকলকে দেশে ফেরানো হবে। ভারতে ফেরার পর প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করানো হবে এবং কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হবে। তবে যদি কারোর সংক্রমণের উপসর্গ থাকে তবে তাকে সোজা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।

খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম

খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম

এই মিশনের জন্য বিদেশ মন্ত্রক কন্ট্রোল রুম খুলেছে। তবে এখনও এটা ঠিক হয়নি যে কবে কোন বিমান ভারতীয়দের উদ্ধার করতে কোন দেশে প্রথম যাবে। তবে কেরলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা বিপুল সংখ্যক ভারতীয় কর্মচারিকে কোয়ারান্টাইনে রাখতে পারবে, সেই ব্যবস্থা রয়েছে তাদের।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+