Pahalgam Terror Attack: নাম ও ধর্ম জিজ্ঞাসা করার পর গুলি চালিয়েছে আততায়ীরা, মহিলা পর্যটকের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা!
জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁও-এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা যত গড়াচ্ছে ততই যেন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রায় ৪০ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে জঙ্গিরা। সূত্র মারফত এও খবর আসছে নাকি এই হামলায় ২৭ থেকে ২৮ জন নিরীহ পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন।
যদিও এখনও এই সংক্রান্ত কোনও প্রতিক্রিয়া কারর কাছ থেকেই মেলেনি। এমনকি প্রশাসনও নিশ্চিত কিছু জানায়নি। তবে এই হামলা যে এখনও পর্যন্ত ভয়ঙ্কর হামলা হয়ে উঠল ভূ-স্বর্গে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

মঙ্গলবারের সন্ত্রাসী হামলায় আহত পর্যটকদের মধ্যে একজন মহিলা পর্যটক স্মরণ করলেন সেই ভয়াবহ মুহুর্ত। তাঁর দাবি, সন্ত্রাসীরা প্রথমে তাঁর স্বামীর নাম ও ধর্ম জানতে চেয়েছিল এবং তারপর খুব কাছ থেকে তাঁর উপর গুলি চালায়। মহিলার স্বামীর মাথায় গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন। আরও একাধিক পর্যটকও গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।
"আমার স্বামীর মাথায় গুলি লেগেছে। আরও সাতজন আহত হয়েছেন। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন" - ভয় আর অসহায়তার স্বরে ফোনে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে এমনটাই জানান সেই বেঁচে যাওয়া মহিলা। যদিও তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, তবে জানান, আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে তৎপরতা শুরু হয় অনেক পরে।
পুলিশ জানিয়েছে, পহেলগাঁও-এর পর্যটন কেন্দ্র বৈসরান তৃণভূমিতে এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন পর্যটক আহত হয়েছেন। তবে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বন্দুকধারীরা খুব কাছ থেকে পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে সেনা ও পুলিশ বাহিনী এবং শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
বৈসরান এমন একটি তৃণভূমি যেখানে পৌঁছাতে হয় হেঁটে বা ঘোড়ায় চড়ে। সকালে সেখানে ঘুরতে গিয়েছিলেন একদল পর্যটক। আচমকাই হামলা চলে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাইসার পাহাড়ের চূড়ায় বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলার উদ্দেশ্য টার্গেটেড কিলিং কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হামলার পর স্থানীয় মানুষ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় কিছু আহতকে ঘোড়ায় করে এবং কিছুজনকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে বৈসরান থেকে নিচে নামিয়ে এনে পহেলগাঁও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কেউ গুরুতর হলেও আপাতত সবার অবস্থাই স্থিতিশীল।
বর্তমানে গোটা বৈসরান এলাকা ঘিরে তল্লাশি অভিযান চলছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের খোঁজে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনও সম্ভাব্য জঙ্গি ঘাঁটি চিহ্নিত করাই এখন সবার আগে লক্ষ্য।












Click it and Unblock the Notifications