স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে মে মাসের তাপমাত্রা, তাপপ্রবাহও চলবে প্রায় ২-৭ দিন, বলছে IMD
তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করল ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD)। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা 'স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি' থাকতে চলেছে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম, মধ্য ও সংলগ্ন পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
যে রাজ্যগুলি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে - রাজস্থান, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানার কিছু অংশ ও উত্তর কর্ণাটক।

তবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম ভারত ও দিল্লিতে কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা রয়েছে বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের কারণে। তবুও, পুরো মে মাস জুড়ে ২ থেকে ৭ দিন তাপপ্রবাহ দেখা যেতে পারে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে ৪ দিন বেশি হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, যদিও ঘনঘন বজ্রপাত ও কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে। তবুও দেশের অধিকাংশ অংশে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। শুধুমাত্র দক্ষিণ উপদ্বীপ ও পূর্ব ভারতের কিছু অংশেই কিছুটা কম তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, "রাতের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশিরভাগ জায়গায় বেশি থাকবে"। এছাড়াও আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসে গড় বৃষ্টিপাত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিক থেকে কিছুটা বেশি হতে পারে, যদিও উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব ভারতের কিছু জায়গায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এপ্রিল মাসেই তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙেছে। এটি ১৯০১ সাল থেকে ভারতে সপ্তম উষ্ণতম এপ্রিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস - যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৮৫ ডিগ্রি বেশি। রাজস্থানে এপ্রিল মাসে সর্বাধিক ১১টি তাপপ্রবাহের দিন রেকর্ড করা হয়েছে।
অবশ্য এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের জন্যে খানিক স্বস্তির খবরও দিয়েছে হাওয়া অফিস। যা জানা যাচ্ছে, মে মাসের শুরুতেও অব্যাহত থাকবে ঝড়বৃষ্টি। বৃহস্পতিবারও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস রয়েছে রাজ্যে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু করে আগামী সাতদিনই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি হবে। ফলে গ্রীষ্মের দহন জ্বালা থেকে মিলবে মুক্তি। কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে গ্রীষ্মকালে তাপপ্রবাহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে। সাধারণ মানুষকে তাই প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications