দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে মার্চেই তাপমাত্রা পেরোবে ৪০ ডিগ্রি! গরমের এখনও অনেক বাকি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
সবে চলছে মার্চ মাস। গরমের দুই মাস আসতে এখনও অল্প কিছুদিন বাকি। অথচ চৈত্রেই মিলছে জৈষ্ঠ্যের দাপট। শুধু বাংলা নয়, ভারত জুড়েই গরমের ভয়াবহতার ছবিটা একই। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মার্চ মাসেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে, যা অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের সংকেত দিচ্ছে। দেশের নয়টি রাজ্য এখনই আগাম দাবদাহের কবলে পড়েছে।
গরমের গ্রাফটা দেখলে দেখা যাচ্ছে, গত ১৬ মার্চ ওড়িশার বৌদ্ধ অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৪৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এখনও পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। কেরালা, কর্ণাটক, গুজরাট, মহারাষ্ট্রসহ বিভিন্ন রাজ্যে তাপমাত্রা ৩৬-৪১ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফেব্রুয়ারিতে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৩ ডিগ্রি বেশি ছিল, যা ১৯০১ সালের পর সবচেয়ে উষ্ণতম ফেব্রুয়ারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাপপ্রবাহ কোথায় আঘাত হেনেছে? যা দেখা যাচ্ছে
- ১৩-১৫ মার্চ: গুজরাটের সৌরাষ্ট্র, কচ্ছ, রাজস্থান ও কোঙ্কন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ দেখা গিয়েছে।
- ১৫-১৮ মার্চ: ওড়িশা, বিদর্ভ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর তেলেঙ্গানায় তাপপ্রবাহ দেখা গিয়েছে।
পরিস্থিতির প্রভাব কীভাবে পড়বে বিভিন্ন দিকে?
- কৃষি: চরম তাপ ফসলের উৎপাদন হ্রাস করতে পারে।
- বিদ্যুৎ খাত: চাহিদা বাড়ার কারণে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে।
- মানবস্বাস্থ্য: তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক ও জলসঙ্কটের ঝুঁকি বাড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই কি এই অবস্থা? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে ভারতের তাপপ্রবাহ এখন আরও দীর্ঘ, ঘন ঘন এবং প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। গত ১৫ বছরে চারটি সবচেয়ে উষ্ণ ফেব্রুয়ারি রেকর্ড করা হয়েছে-২০২৫, ২০১৬, ২০২৩ ও ২০০৬। জলবায়ু পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শীঘ্রই ঝড়-বৃষ্টি শুরু হতে পারে, যা তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কমাবে। তবে, আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে আরও অস্বস্তিকর আবহাওয়া তৈরি হতে পারে। তবে এখনই গরম থেকে নিস্তার মেলার কোনও সম্ভাবনা নেই, কারণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন এখনও গরমের প্রকৃত মরশুম আসেইনি। ফলে প্রবল গরমের এখনও অনেক বাকি আছে!












Click it and Unblock the Notifications