নীতীশের সামনে '১০ লক্ষ'র টার্গেট, তেজস্বীর 'তারুণ্য' ঝড়ে কুপোকাত 'অভিজ্ঞতা'
সরকারে এলে ১০ লক্ষ সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত করা হবে বিহারের যুব সমাজকে। এহেন প্রতিশ্রুতির উউপর ভর করেই বিহারের নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলেছেন আরজেডি নেতা তথা বিরোধী মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব। আর এই ঝড়েই রীতিমতো কুপোকাত বিহারের গদিতে বসে থাকা নীতীশ কুমার। তবে নীতীশও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। তবে তাও যেন 'আসকিং রেটে'র থেকে পিছিয়ে পড়ছেন তিনি।

রাজ্যের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতির
অতি-গুরুত্বপূর্ণ ২০২০ বিহার বিধানসভা ভোটের দামামা বাজতে যেখানে আর মাত্র দিন কয়েক বাকি, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার চতুর্থ বারের জন্য রাজ্য প্রশাসনকে নেতৃত্ব দেওয়ার উদ্যোগে একাধিক এবং বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন জোটের কাছে এখন সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় হল রাজ্যের অর্থনীতির ঝিমিয়ে পড়া অবস্থা, শিল্পের দুর্দশা আর কর্মসংস্থানের অভাব।

বিহারে যুব ভোটারদের মনে জায়গা করে নিচ্ছেন তেজস্বী
এবং এই বিষয়গুলিকেই কাজে লাগিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বিহারে যুব ভোটারদের মনে জায়গা করে নিচ্ছেন তেজস্বী। আর এতেই গদি হারানোর ভয় পেয়েছেন নীতীশ কুমার। আরজেডি মুখ্য নির্বাচনী ইস্যু কর্মসংস্থান। তেজস্বী নিজের সমস্ত নির্বাচনী প্রচারে বিহারের বেকারত্বের ৪৬.৬ শতাংশে দাঁড়িয়ে থাকা ভয়াবহ হারকে তুলে ধরেছেন। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এই হার।

১০ লক্ষ স্থায়ী সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি
তেজস্বী নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে রাজ্যে শূন্যপদ ভরার চেষ্টা না করে রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়াতে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন এবং এবার বিরোধী জোট রাজ্য়ে ক্ষমতায় এলে ১০ লক্ষ স্থায়ী সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন। নীতীশ নিজেও সম্ভবত বুঝেছেন যে, বেকারত্বের ইশু তাঁর পক্ষে আসন্ন নির্বাচনে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তেজস্বীর ১০ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতিকে ভুয়ো বলে দাবি
এর আগে ১৪ অক্টোবর ভার্চুয়াল মাধ্যমে ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, দেশের মধ্যে কোনও রাজ্য নেই এবং বিশ্বের মধ্যে এমন কোনও দেশ নেই , যেখানে প্রত্যেককে চাকরি দেওয়া সম্ভব। এরপর ২০ অক্টোবর গোপালগঞ্জের একটি জনসভা থেকে তেজস্বীর ১০ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতিকে ভুয়ো বলে দাবি করেন নীতীশ কুমার।

লালুপ্রসাদ যাদবকে আক্রমণ করেন নীতীশ
গোপালগঞ্জের সেই জনসভাতেই নাম না করে লালুপ্রসাদ যাদবকেও আক্রমণ করেন নীতীশ। তেজস্বীর দেওয়া লক্ষ্যের দিকে এগোতে চালিয়ে খেলার ভঙ্গিতে নীতীশ বলেন, '১০ লক্ষ চাকরি তো দেবেন বলেছেন, কিন্তু তাদের বেতন দেবেন কোন টাকায়? সেই টাকাতে, যেই টাকা তছরুপ করার দায়ে বর্তমানে আপনি হাজতে?'

তেজস্বীর অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নীতীশ
নীতীশ আরও বলেন, 'আমি এই চাকরির প্রতিশ্রুতির কথা শুনেছি। তবে যিনি এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার পরিধি নিয়ে আমার মনে সংশয় রয়েছে।' এরপর তেজস্বীকে আরও বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে নীতীশ বলেন, 'চাকরি দিলে শুধু ১০ লক্ষ কেন, রাজ্যের সব বেকারকে চাকরি দেওয়া হোক।' এরপর জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন করে নীতীশ বলেন, 'আপনাদের কি সত্যি মনে হয় এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব।'

পাল্টা জবাব তৈরি রেখেছিলেন তেজস্বী
তবে এই বক্তব্যের জবাব অবশ্য তৈরি ছিল তেজস্বীর কাছে। বিজেপি-জেডিইউর এনডিএ জোটকে পাল্টা এক হাত নিয়ে তেজস্বী বলেন, 'আমি কয়েক বছর আগেই রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমি যদি তাঁর (নীতীশ কুমার) কথা মতো এতটাই অনঅভিজ্ঞ হই, তাহলে বিজেপি নেতারা এবাভে হেলিকপ্টরে করে আমাকে তাড়া করছেন কেন? আমি তো একা একজন মানুষ।' তাঁর এই পাল্টা প্রশ্নেই তাঁর আত্মবিশ্বাস প্রতিফলিত বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। প্রসঙ্গত, তেজস্বীর প্রতিটি জনসভাতেই উপচে পড়ছে ভিড়। যাতে এনডিএ জোট চিন্তিত। এবং তেজস্বীর পাল্টা মোদীর উপরই ভরসা রাখছেন তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications