তিস্তা না কি ময়দানব? মাটির নীচে চলে গিয়েছে বাড়ি, গ্রাম, চারদিকে ভয়াল ছবি
এ কি সেই তিস্তা নদী? না কি কোনও ভয়াল দানব? উত্তর সিকিমের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার টুকরো ছবি সামনে আসছে। আর সেইসব দেখেই যেন ঠান্ডা স্রোত শরীরের মধ্যে দিয়ে ভেসে যাবে। চারদিকে কেবল কাদামাটির স্তূপ। ছবির মতো সাজানো পাহাড়ি এই এলাকা সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে৷
পরিস্থিতি দেখে যেন মনে হচ্ছে ময়দানবরা যুদ্ধ করেছে। চারদিকে তাল তাল কাদামাটি। কোথায় রাস্তা ছিল। আর কোথায় বাড়িঘর একপলকে দেখলে বোঝাও সম্ভব নয়। যত দূর চোখ যায়, চারদিকে শুধুই তাল তাল কাদামাটি। আর তার পাশ দিয়েই বয়ে যাচ্ছে রাক্ষুসে তিস্তা।

বুধবারের সেই ভয়াল স্রোত কিছুটা কমেছে তিস্তার৷ জলের উচ্চতাও বেশ কয়েক ফুট নেমেছে। কিন্তু স্বাভাবিকের থেকেও অনেকটাই বেশি উঁচুতে জল বয়ে চলেছে। বুধবার এই জলতলই ২৫ ফুটের বেশি উঁচুতে উঠে গিয়েছিল।
নদীর জলের সঙ্গে ভেসে চলেছে অসংখ্য কাঠ। বোঝাই যায় উপরের গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নদী৷ কাঠের বাড়িঘর ভেঙে টুকরো হয়েছে জলের তোড়ে। সেইসব বাড়ির অংশ, ছাদের অংশ, আসবাবপত্র সব ভেসে আসছে। আবার কোথাও কাদামাটির উপরেই স্তূপ হয়ে জমে আছে। কোথাও পরিস্থিতি আবার সম্পূর্ণ অন্যরকম।
গোটা গ্রামের কিছু অংশ যেন মাটির নীচে চলে গিয়েছে। বাড়িঘর সমেত গোটা এলাকা যেন মাটির নীচে চলে গিয়েছে। সেনাবাহিনীর গাড়িও মাটির নীচে আটকে। সেইসব গাড়ি উদ্ধার করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা জলাধারের নীচের অংশের গ্রামগুলির আর কোনও অস্তিত্বই নেই। বাসিন্দারা সব কোথায় গিয়েছেন? তাদের আর খোঁজ পাওয়া যানে কী না! সেই নিয়েও আশঙ্কা আছে।
বুধবারের ঘটনার পর উত্তর সিকিম এলাকার মাটি আলগা হতে শুরু করেছে। বহু জায়গাতেই ধস নামছে। বৃহস্পতিবারও একাধিক জায়গায় ধস নামার কথা শোনা গিয়েছে। উত্তর সিকিম এলাকার ২৯ মাইল দীর্ঘ এলাকা এই ধসের কবলে। এই কথা প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে পারে।
বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক ও সাধারণ বাসিন্দাদের উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। নিখোঁজের সংখ্যাও অনেক বেশি। এদিকে আরও আশঙ্কার কথা শোনা গিয়েছে। ফের ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে সিকিমে। ফলে ভাঙা বাঁধের অংশ দিয়ে ফের জলের ধারা নামার আশঙ্কা থাকছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এই পাহাড়ি রাজ্য।












Click it and Unblock the Notifications