Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

করোনায় নজর, অবহেলিত দেশের আর এক মারণ রোগ যক্ষ্মা

অবহেলিত দেশের আর এক মারণ রোগ যক্ষ্মা

দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হ্রাস করার জন্য দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু লকডাউন ঘোষণার আগে কেউ এটা ভেবে দেখেনি যে যাঁদের বেঁচে থাকার জন্য অর্থ উপার্জন করতে রোজ বাইরে বেরোতে হয়, তাঁরা কি করবে? অন্যদিকে করোনা ভাইরাস এমনভাবে থাবা বসিয়েছে দেশে, যে যক্ষ্মা সহ অন্যান্য রোগগুলি সেভাবে আর মনোযোগ পাচ্ছে না।

অবহেলিত যক্ষ্মা

অবহেলিত যক্ষ্মা

করোনা ভাইরাস যখন সংবাদপত্রের শিরোনাম দখল করেছিল, সেই সময় আমরা ভুলতে বসেছিলাম যে বিশ্বের মধ্যে ভারতে সবচেয়ে বেশি কম ওজনের জনসংখ্যা বাস করে। কিছু কিছু রাজ্যে এই পরিসংখ্যান ভয় পাইয়ে দেয়। ‌আমরা প্রায় ভুলতেই বসেছিলাম যে দরিদ্রের অন্যতম লক্ষণ কম ওজন, এই একই উপসর্গ কিন্তু যক্ষ্মা রোগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যা চর্বি ও পেশীর সঙ্গে যুক্ত। কম ওজন হওয়াই যক্ষ্মা রোগের কারণ এবং পরিণতি উভয়ই।

 রোগী চিহ্নিতকরণে বাধা

রোগী চিহ্নিতকরণে বাধা

স্বাস্থ্য দফতরের খবর, প্রতি বছর ১,৪০,০০০ রোগী চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোয় যক্ষ্মা বিভাগ। কিন্তু এ বার অতিমারির আবহে এ-পর্যন্ত তার অর্ধেকের কিছু বেশি চিহ্নিত করা গিয়েছে। করোনার চিকিৎসা অগ্রাধিকার পাওয়ায় যক্ষ্মারোগী চিহ্নিতকরণের কাজ যে ব্যাহত হয়েছে তা আগেই স্বীকার করেছিল দেশের স্বাস্থ বিভাগ।

যক্ষ্মার প্রধান কারণ অপুষ্টি

যক্ষ্মার প্রধান কারণ অপুষ্টি

দারিদ্র ও তার ফলস্বরূপ ফলস্বরূপ ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত সক্রিয় যক্ষ্মা হওয়ার সম্ভাবনা এবং রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি করে। এই রোগ রোগীর সুস্থ হওয়ার গতিকে হ্রাস করে এবং ওষুধের ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি বাড়িয়ে তোলে এবং প্রতি বছর ভারতে এই যক্ষ্মা রোগের কারণে বহু মানুষের প্রাণ যায়। যক্ষ্মা রোগের অন্যতম কারণ হল অপুষ্টি ও ওজন কমে যাওয়া। প্রথমত, এই রোগ ক্ষিধে কমিয়ে দেয় এবং খাবার খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। দ্বিতীয়ত, জ্বর বেসাল মেটাবলিক হারকে বাড়িয়ে দেয়, যে হারে ক্যালরি ক্ষয় হয় এবং অবশেষে যক্ষ্মা রোগ প্রোটিন এবং পেশীগুলিতে ভাঙ্গন ঘটায় যার ফলে উচ্চতার জন্য সর্বনিম্ন ওজন নষ্ট হয়। এরপরও এই অপুষ্টি রোগীর চিকিৎসা ও পরবর্তীতে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। রোগীর সুস্থ হতে অনেক সময় লেগে যায়। জানা গিয়েছে, পর্যাপ্ত পুষ্টিহীন রোগীদের চেয়ে মারাত্মকভাবে অপুষ্ট রোগীদের মৃত্যুর সম্ভাবনা দুই থেকে চারগুণ বেশি। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও অপুষ্টি পুনরায় এই রোগের সম্ভাবনা বাড়ায় এবং দুর্বল পেশি হওয়ার কারণে শারীরিক কর্মক্ষমতা কমে যায়।

পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ

পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ

করোনা ভাইরাসের সময় যক্ষ্মা রোগের সঙ্গে লড়াই শীর্ষক এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, যক্ষ্মা রোগের ক্ষেত্রে পুষ্টি খুবই গুরুতর একটি বিষয়। যক্ষ্মা রোগীদের কি খাওয়া উচিত?‌ এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, নিকশয় পোষন যোজনার আওতায় সরাসরি সুবিধাভোগীরা বা যক্ষ্মায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের তাঁদের পুষ্টি ও খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে মাসে ৫০০ টাকা করে দেয়।

লকডাউন ও করোনার প্রভাব

লকডাউন ও করোনার প্রভাব

এটি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণীর লোকদেরকে আবার কর্মশক্তির দিকে ফিরিয়ে দেয়, দারিদ্র্য ও ঋণের দিকে ঠেলে দেয় এবং তাদের যক্ষ্মা এবং এমনকী কোভিড-১৯-এর এর কারণে মৃত্যুর হার বাড়ার ঝুঁকিতে ফেলে। করোনা আবহের মধ্যে চাকরি হারানো ইতিমধ্যেই অর্থনীতির গতিকে ধীর করে দিয়েছে এবং এর ফলে রোগী ও তাঁর পরিবার পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। লকডাউনের কারণে ধারাবাহিক অভিবাসন এবং অর্থনীতি হারিয়ে যাওয়া, খাদ্য সুরক্ষা এবং পুষ্টির স্তর কমতে বাধ্য এবং ক্ষুধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। এটি রোগ প্রতিরোধের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+