ঘূর্ণিঝড় অশনির তাণ্ডব শুরুর আগে আবহাওয়ার পরিবর্তন, তাপপ্রবাহ তামিলনাড়ুতে
ঘূর্ণিঝড় অশনি এখনও তৈরি হয়নি বঙ্গোপসাগরে। এখন থেকেই তামিলনাড়ুতে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় অশনি তৈরি হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে।
ঘূর্ণিঝড় অশনি এখনও তৈরি হয়নি বঙ্গোপসাগরে। এখন থেকেই তামিলনাড়ুতে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় অশনি তৈরি হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে। ফলে পূর্বদিকের বাতাস বিলম্বিত প্রবেশ করছে তামিলনাড়ু তথা দক্ষিণ ভারতের রাজ্যে। এর ফলে দক্ষিণ ভারতজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। উত্তপ্ত দিন আর আর্দ্র রাত কাটাতে হটচ্ছে। র সৃষ্টি করে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বা আইএমডি জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি ২১ মার্চের মধ্যে ধীরে ধীরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। তারপরে, এটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশ-মায়ানমার উপকূলে পৌঁছবে। তা ২২ মার্চ অর্থাৎ মঙ্গলবার তা আছড়ে পড়বে ওই উপকূলে। তার আগে থেকেই তামিলনাড়ুতে শুরু হয়েছে তাপপ্রবাহ।
বর্তমানে নিম্নতাপ অঞ্চলটি তামিলনাড়ুর সোজাসুজি মাঝ সমুদ্রে অবস্থান করছে। তা খুব শীঘ্রই দূরে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপের জেরে তামিলনাড়ুতে পারদের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে পূর্ব দিক থেকে প্রবল বাতাস বয়ে আসছে না। তার জেরেই সারা রাজ্যে তাপমাত্রা দিনের বেলায় বাড়বে।
তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইতে তাপমাত্রা সর্বাধিক ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থাকতে পারে। রাজ্যের অভ্যন্তরীণ জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আরও বেশি হবে। তা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাবে। রাজ্যের কিছু অংশে আর্দ্রতা বেশি থাকবে। কারণ আইএমডি আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তামিলনাড়ুজুড়ে হালকা বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে।
১৮৯১ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের রেকর্ড রাখা শুরু হয়েছে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত মার্চ মাসে বঙ্গোপসাগরে মাত্র ছয়টি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অশনি যদি তৈরি হয় তা হবে সপ্তম ঘূর্ণিঝড়। এর প্রভাবের ফলে ১৮ থেকে ২১ মার্চের মধ্যে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে অত্যন্ত ভারী বর্ষণ হবে। তবে সিস্টেমটি বাংলাদেশের কাছাকাছি হওয়ায় এর প্রভাব পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশেও অনুভূত হবে।
মৌসম ভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, এবার মার্চেই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় হানা দিলেও তা বাংলা অভিমুখে ধেয়ে আসার সম্ভাবনা কম। অশনির গতিপথ সোজা বাংলাদেশ-উত্তর মায়ানমার উপকূলের দিকে। তা আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পাশ দিয়ে সটান মায়ানমার উপকূলের দিকে ধেয়ে যাবে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে আগেই জানানো হয়েছিল, এবার মার্চ মাসেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেবে। এবং তা বঙ্গোপসাগরের কোনও উপকূলে আছড়ে পড়বে। তা আন্দামান নিকোবরে তো হানা দেবেই। সেইসঙ্গে আন্দামান নিকোবরের পাশ দিয়ে তা চলে যাবে বাংলাদেশ ও মায়ানমার উত্তর উপকূলের দিকে। ঘূর্ণিঝড় অশনির হাত থেকে রক্ষা বাংলার!












Click it and Unblock the Notifications