তালিবান থেকে তিব্বত, চিন থেকে করোনা! ভারত সফরেই প্রথম দিনেই ঝোড়ো ব্যাটিং ব্লিনকেনের
তালিবান থেকে তিব্বত, চিন থেকে করোনা! ভারত সফরেই প্রথম দিনেই ঝোড়ো ব্যাটিং ব্লিনকেনের
মার্কিন বিদেশ সচিব অ্যান্টনি ব্লিনকেনের ভারত সফরকে ঘিরে গত দুদিন ধরেই সাজ সাজ রব গোটা দিল্লিতেই। এদিকে পূর্বঘোষিত সময়সূচি মেনেই ভারতে পা রাখেন বাইডেন সরকারের নয়া বিদেশ সচিব। আর সফরের প্রথম দিনেই বৈঠকে বসেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। আফগান, তালিবান, চিন ছাড়াও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার কথাও দীর্ঘ বৈঠক চলে দুই দেশের শীর্ষ স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে জোর
এদিকে বাইডেনের ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণার পর ক্রমেই অবনতি অবস্থার অবনতি হচ্ছে আফগানিস্তানের। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত। এদিন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সেই বিষয়েও কথা বলেন ব্লিনকেন। পাশাপাশি ব্লিনকেনের স্পষ্ট দাবি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর ভারতের সঙ্গে মিলে আমেরিকা আফগানিস্তানের স্বাধীনতার লক্ষ্যে শেষ পর্যন্ত কাজ করবে। আর এই ক্ষেত্রে যে কোনও বিদেশি শক্তির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত দুই দেশ।

তালিবান ও আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি আলোচনাতেই সমাধান সূত্র
অন্যদিকে এদিন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে নিয়ে একটা যৌথ সাংবাদিক বৈঠকও সারেন ব্লিনকেন। আর তাতেই তিনি জানান আফগানিস্তান সঙ্কটের সমাধানের রাস্তা খুঁজতে ভারত ও আমেরিকা দুই দেশই আলোচনা চালাবে। তালিবান ও আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি আলোচনার মধ্যেই বেরোবে সমাধান সূত্র। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চিনের বিদেশ নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আপত্তি জানিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন আর দিল্লি। এদিন সেই বিষয়েও বিশদে আলোচনা হয় বলে জানা যাচ্ছে।

কোয়াড জোট নিয়েও বার্তা
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আমেরিকা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানকে নিয়ে গঠিত যে 'কোয়াড' জোটকে নিয়ে দীর্ধদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছে চিন। কিন্তু এদিন ব্লিনকেন সাফ জানিয়ে দেন চিনা আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে সমস্ত ভাবেই তৈরি তারা। এমনকী কোয়াড প্ল্যাটফর্মেও ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার রাস্তা সর্বদাই খোলা থাকবে। এই ক্ষেত্রে কোনও বহিরাগতের চোখ রাঙানিকেই পাত্তা দেওয়া হবে না।

চিনকে চাপে রেখে দলাই লামার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক
অন্যদিকে এদিন চিনকে চাপে রেখে দলাই লামার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও দেখা করেন ব্লিনকেন। পৃথক ভাবে কথাও বলেন তাদের সঙ্গে। এদিকে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই বৈঠকে তিব্বতি সরকারের প্রতিনিধি থাকায় চটতে পারে চিন। আর তা ভালোভাবেই জানে বাইডেন সরকার। কিন্তু তারপরেও তাদের এই সাহসী পদক্ষেপে বেশ খানিকটা আশার আলো দেখছে ভারত।

তৈরি হচ্ছে আফগানিস্তানের জন্য আগামীর নীল নকশা
এদিকে এদিন সবকটি বৈঠকেই আলোচনার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা তথা আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি। পাশাপাশি করোনা মোকাবিলা নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা সারেন তিনি। তবে সব থেকে বেশি সময় যায় তালিবান ইস্যুতেই। বর্তমানে সেনা প্রত্যাহার করা হলেও আগামীতে আফগানিস্তানে শক্তিশালী মার্কিন দূতাবাস ও নানা উন্নয়নমূলক ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে সেদেশে আমেরিকার জোরালো প্রভাব থাকবে বলে এদিন ফের একবার স্পষ্ট করে দিতে দেখা গেল ব্লিনকেনকে।












Click it and Unblock the Notifications