সোনা পাচার কাণ্ডে নাম মুখ্যমন্ত্রীর , অবাক বিজয়ন
মঙ্গলবার তিরুঅনন্তপুরম বিমানবন্দরের মাধ্যমে ২০২০ সালে সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর মামলার মূল অভিযুক্ত স্বপ্না সুরেশ এই কাণ্ডে নাম জড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে বলেছেন যে সোনা চোরাচালানের বড় মাথা নাকি পিনারাই বিজয়ন নিজে।

স্বপ্না সুরেশ অভিযোগ করেছেন যে সোনায় ভরতি বিশাল ভারী জাহাজগুলি তিরুঅনন্তপুরম আসত, তারপর সেখান থেকে সোনা কনসাল জেনারেলের বাসভবন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ক্লিফ হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। আর এই নির্দেশ দিতেন প্রধান সচিব এম শিভাশঙ্কর। তাঁর নির্দেশ অনুসারেই এই কাজ হত।
স্বপ্না এর্নাকুলাম জুডিশিয়াল ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ সিআরপিসির অধীনে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছিলেন। সেখানেই তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে ২০১৬ সালে মুখ্যমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফরের সময়, শিভাশঙ্কর তার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাকে একটি ব্যাগ সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে কাছে পৌঁছে দিতে বলেছিলেন, যা স্ক্যান করার সময় দেখা যায় তাতে মুদ্রা এবং নোট ছিল।
তিনি বলেন "সেই প্রথমবার, শিবশঙ্কর আমার সাথে যোগাযোগ করে বলেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী একটি ব্যাগ ভুলে গেছেন যা জরুরি ভিত্তিতে দুবাইতে সরবরাহ করা দিতে হবে। ব্যাগটি আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল এবং আমরা ব্যাগটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন কূটনীতিককে পাঠিয়েছিলাম। যেহেতু তিরুবনন্তপুরমের কনস্যুলেটে আমাদের একটি স্ক্যানার ছিল, সেখানে দেখা যায় যে ব্যাগে মুদ্রা ছিল।"
সোনা চোরাচালান মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য, আমলা এবং মন্ত্রীদের জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি বলেন , "আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকির দেওয়া হয়েছিল। এরপর আমি আদালতে গিয়েছিলাম যেখানে আমার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। আমি সুরক্ষাও চেয়েছি যা নিয়ে শীঘ্রই বিবেচনা করা হবে। আমি মুখ্য সচিব শিবশঙ্কর, মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী কমলা, তাঁর মেয়ে রীনা, তাঁর অফিস সচিব এর এই ঘটনায় তাঁদের জড়িত থাকার কথা বলেছি৷ রবীন্দ্রন, আমলা নালানি নেট্টো, এবং প্রাক্তন মন্ত্রী কে টি জলিল এঁরাও সবাই যুক্ত রয়েছে সোনা পাচারের সঙ্গে। আমি আদালতে বলেছি এঁরা কী কী করেছিল। এই সম্পর্কে একটি বিশদ বিবৃতি দিয়েছি। আদালত আমার বক্তব্য রেকর্ড করেছে।"
তিনি বলেন, "যেহেতু আমার বক্তব্য তদন্তের জন্য ব্যবহার করা হবে, তাই আমি এখন সবকিছু প্রকাশ করতে পারব না। পরিস্থিতি এবং সময় যখন অনুমতি দেবে, আমি সবকিছু প্রকাশ করব।" তার মতে, কাউকে মামলায় টেনে আনার কোনো এজেন্ডা তার নেই। "আমার এখন এবং আগে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে কোনঅ পার্থক্য নেই। তদন্ত চলছে এবং তা যথাযথ হওয়া উচিত। অন্যরা জড়িত থাকলে, আদালত ও তদন্তকারি দল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তাদের এই ঘটনায় যুক্ত থাকার বিষয়ে শুনবে।" এর আগে, মুদ্রা চোরাচালান মামলার তদন্তকারী কাস্টমস জানতে পেরেছিল যে ২০১৬ সালে শিবশঙ্করের নির্দেশ অনুসারে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের জন্য মুদ্রা ভরতি একটি ব্যাগ দুবাইতে পাঠানো হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications