আরও বেশি আসনে জয়ের দাবি! ২য় দফায় ত্রিপুরায় প্রচারে শুভেন্দু অধিকারীর মুখে মমতা-তৃণমূলের নাম, কিন্তু কেন?
প্রথমবার ভোট প্রচারে ত্রিপুরায় গিয়ে তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করলেও, এবার তা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে তার পিছনে কারণ রয়েছে।
ত্রিপুরায় এক দিনে তাঁর চার-চারটি সভা। সেইসব সভা থেকে নিশানা সিপিআইএমকে। পাশাপাশি নির্বাচন পূর্ববর্তী হিংসা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় স্বামীজি থেকে নেতাজি সবাই হিরো, যা পশ্চিমবঙ্গে নেই। ত্রিপুরায় ডিএ নিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করেছেন।

গতবারের থেকে বেশি আসনে জয়
বিজেপি ত্রিপুরায় গতবারের থেকে বেশি আসনে জয় পাবে। এদিন ত্রিপুরায় চার-চারটি সভা শেষে এমনটাই দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রসঙ্গত গতবারে বিজেপি এবং আইপিএফটি জোট ত্রিপুরায় ৪৪ টি আসনে জয় পেয়েছিল। যার মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছিল ৩৬ টি আসন। অন্যদিকে বামেরা পেয়েছিল ১৬ টি আসন।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন দাবি করেছেন, ত্রিপুরার মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দেবেন। জয়ী হবে বিকাশবাদই, বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের উল্লেখ
চা-রবার-আনারস নিয়ে রাজ্য সরকার ভাল কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সুবিধা এবং আগরতলা থেকে বাংলাদেশ হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বেনাপোল সীমান্তে ১১ ঘন্টায় পৌঁছনোর সুবিধা এই সরকারের আমলেই হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়ে বলেছেন ত্রিপুরায় বিজেপির নতুন সরকার তৈরি হলে আয়ুষ্মাণ ভারত প্রকল্পে ৫ লক্ষ নয় বিনামূল্যে ১০ লক্ষ টাকার চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তিনি যেসব সভা এদিন করেছেন, সেখানে উপজাতি এবং সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নিশানায় সিপিআইএম
ত্রিপুরায় এর আগেরবার তৃণমূলের নাম পর্যন্ত করেননি শুভেন্দু অধিকারী। ত্রিপুরা বিজেপির করে দেওয়া গাইডলাইন অনুযায়ী সেই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। কেননা ত্রিপুরা বিজেপি মনে করছে সেখানে তৃণমূলের নাম নেওয়ার অর্থ তাদেরকে গুরুত্ব দেওয়া। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা এদিনের প্রচার শেষে বলেছেন, রাজ্যবাসী বুঝেছেন সিপিআইএম-এর ২৫ বছর আর বিজেপির ৫ বছর শাসনের তুলনা। তিনি বলেন, তাও এই পাঁচ বছরের মধ্যে ২ বছর করোনার কারণে কোনও কাজ হয়নি। তার মধ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার মিলিত ভাবে কাজ করেছে, বলেছেন তিনি।

তিপ্রামোথা কোনও ফ্যাক্টর নয়
এদিন শুভেন্দু অধিকারীকে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তিপ্রা মোথার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিপ্রামোথা কোনও ফ্যাক্টর নয়। তবে তাদের পরিস্থিতি তৃণমূলের থেকে ভাল। ত্রিপুরায় নির্বাচনের সময়ে সেরকম কোনও হিংসার ঘটনা এবার ঘটেনি। এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু অধিকারী বাংলার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বাংলার পরিস্থিতি সিপিআইএম কিছুটা নোংরা করে গিয়েছিল, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই নোংরাকে আলকাতরায় পরিণত করেছেন। তিনি বলেছেন, ত্রিপুরায় স্বামীজি, নেতাজির নামে স্কুল, কলেজ, স্পোর্টস কমপ্লেক্স রয়েছে। তাঁরা ত্রিপুরায় হিরো। ত্রিপুরায় সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করেছেন। কেননা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় সরকারি কর্মীদের ২ কিস্তি ডিএ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications