সন্দীপ-সুশান্তের একবছরে ছিল না যোগাযোগ, অভিনেতার মৃত্যুর পর তাঁর উপস্থিতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
সন্দীপের সঙ্গে সুশান্তের গত একবছরে নেই কোনও যোগাযোগ
সুশান্ত সিং রাজপুতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে দাবি করা সন্দীপ এসসিং গত এক বছরে প্রয়াত অভিনেতাকে একটাও ফোন করেননি। তাঁর কল রেকর্ডের তথ্য হাতে এসেছে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনে সন্দীপ জানিয়েছেন যে তিনি সুশান্তের খুবই ভালো বন্ধু অথচ গত ১২ মাসে তাঁর থেকে বা সুশান্তের কাছ থেকে কোনও ফোন আসেনি।

অভিনেতার মৃত্যুর পরই দেখা যায় সন্দীপকে
১৪ জুন সুশান্তের মৃত্যুর পরই প্রত্যেকের মনোযোগের কেন্দ্রে চলে আসেন সন্দীপ এসসিং। এই পরিচালককে দেখা যায় সুশান্তের বাড়িতে পুলিশকে পরিচালনা করতে। এমনকী কুপার হাসপাতালে সুশান্তের ময়নাতদন্তের সময়ও তাঁকেই সব নিয়ম-নীতি মেনে চলতে দেখা যায়। অ্যাম্বুলেন্সে সুশান্তের শেষ সফরের সময়ও তাঁকে অভিনেতার দেহের পাশে বসে থাকতেদেখা গিয়েছিল। সন্দীপ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে তাঁর ও সুশান্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বেরকথা জানিয়েছিলেন।

সুশান্ত–অঙ্কিতা–সন্দীপের বন্ধুত্ব
সুশান্তের মৃত্যুর পর সন্দীপ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পরিচালিত ছবি ‘বন্দে ভারতম'-এর পোস্টার শেয়ার করেন, যেখানে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছিলেন সুশান্ত। নির্মাতা সন্দীপ এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তিনি ছবিটি শেষ করবেন এবং সুশান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তা মুক্তি করানো হবে। সন্দীপ প্রয়াত অভিনেতা ও তাঁর প্রাক্তন বান্ধবী অঙ্কিতা লোখান্ডের সঙ্গে এক দশক আগে বসবাস করলেও গত ১২ মাসে তাঁর সঙ্গে সুশান্তের কোনও যোগাযোগ ছিল না। ১৯ জুন সুশান্তের মৃত্যুর পাঁচদিন পর সন্দীপ দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্ট লেখেন। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে একমাত্র অঙ্কিতাই বাঁচাতে পারতেন সুশান্তকে এবং তাঁর খুব ইচ্ছা ছিল অঙ্কিতা-সুশান্তের বিয়ে দেখার। সন্দীপ লেখেন, ‘প্রিয় অঙ্কিতা, প্রত্যেকটা দিন একটা চিন্তাই কেবল আমায় আঘাত করে, যদি এটা হতো, আমি চাই ... আমরা আরও চেষ্টা করতে পারতাম, আমরা তাকে থামিয়ে দিতে পারতাম, আমরা তার কাছে ভিক্ষা করতে পারতাম!' তিনি আরও লেখেন, ‘তোমরা যখন আলাদা হয়ে গেলে, একমাত্র তুমি সুশান্তের খুশি ও সফলতার জন্য প্রার্থনা করতে, তোমার ভালোবাসা খুব শুদ্ধ ছিল। খুব বিশেষ ছিল। তুমি এখনও তাঁর নাম তোমার বাড়ির নেমপ্লেট থেকে সরিয়ে দাওনি। আমার ওইদিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে, যখন আমরা তিনজনে একসঙ্গে লোখান্ডওয়ালাতে থাকতাম পরিবারের মতো। আমার কত মুহূর্ত একসঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলাম, যার কথা মনে পড়লে এখনও আমার চোখে জল আসে। সুশান্তের মুখে হাসি আনার জন্য তুমি সবকিছু করতে।'

পরিবার এই নামের কাউকে চেনে না
যদিও সুশান্তের পরিবার সবসময়ই জানিয়ে এসেছেন যে তাঁরা সন্দীপ এসসিং বলে কাউকে চেনেন না এবং সুশান্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেও তাঁরা অবগত নন। এমনকী সুশান্তের বাড়ির কর্মীরাও সন্দীপকে চেনেন না। প্রশ্ন উঠছে সন্দীপের সঙ্গে সুশান্তের গত একবছর কোনও যোগাযোগ না থাকলেও অভিনেতার মৃত্যুর পর তাঁকে হঠাৎই উদয় হতে দেখা যায় এবং সব জায়গায় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে কি কেউ পাঠিয়ে ছিল? তিনি কুপার হাসপাতালে কি করছিলেন?

সিবিআইয়ের তদন্ত
এই প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া না গেলেও সিবিআই এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা ইতিমধ্যেই সুশান্তের বন্ধু সন্দীপ পিঠানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরবর্তীকালে এই রহস্যজনক বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications