বৈষম্যের অবসান! মহিলা সেনা অফিসারদের স্থায়ী কমিশন নিয়ে কড়া রায় সুপ্রিম কোর্টের, কী জানাল আদালত?
সেনাবাহিনীতে নারী এবং পুরুষ সমতার পথে এবার বড় পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আদালত জানিয়েছে যে, শর্ট সার্ভিস কমিশনের (SSC) মহিলা অফিসারদেরও স্থায়ী কমিশন পাওয়ার অধিকার আছে।

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এতদিন ধরে মহিলাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যে সমস্ত নিয়ম মানা হয়েছে, তার মধ্যে অনেকটাই পক্ষপাতদুষ্ট এবং ত্রুটিপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া এবং মূল্যায়নের পদ্ধতিতে অসংগতি থাকার কারণে মহিলারা একদিন ধরে বঞ্চিত হয়েছেন। আদালত, বছরে ২৫০ জন মহিলাকে স্থায়ী কমিশন দেওয়ার সীমাকেও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে বেঞ্চ জানায় যে, পুরুষ অফিসারদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখার মানসিকতা থেকেই এইরকমের বৈষম্য তৈরি হয়েছে। আদালতের মতে, মহিলাদের বার্ষিক মূল্যায়ন রিপোর্ট (Annual Confidential Report) সঠিকভাবে বিচার করা হয়নি এবং আগে থেকেই তাঁরা স্থায়ী কমিশনের যোগ্য নন বলে ধরে নেওয়া হত।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, ২০১৯, ২০২০ এবং ২০২১ সালের সিলেকশন বোর্ডে অংশ নেওয়া সমস্ত শর্ট সার্ভিস কমিশনের (SSC) অফিসারদের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে ছাড় দেওয়া হবে। তাঁদের ২০ বছরের চাকরি সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরে নিয়ে পেনশন এবং অন্যান্য সুবিধাগুলিও দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে যদিও বকেয়া বেতন দেওয়া হবে না।
নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও যে সমস্ত যোগ্য মহিলা অফিসাররা রয়েছেন তাঁদের স্থায়ী কমিশন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সেটি দেওয়া হবে শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। সেইসঙ্গে ২০০৯ সালের পর যে সমস্ত মহিলারা যোগ দিয়েছেন তাঁরাও এই সুযোগ পাবেন।
বিমানবাহিনীর ক্ষেত্রে আদালত জানিয়ে দিয়েছে যে, যাঁরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার সুযোগ পাননি, তাঁদের শুধুমাত্র চাকরির মেয়াদ দেখিয়ে বঞ্চিত করা যাবে না। তবে এক্ষেত্রে নতুন করে নিয়োগ অথবা পুনর্বিবেচনা না করলেও তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা দিতে হবে।
যাতে ভবিষ্যতে মহিলাদের বিরুদ্ধে কোনোরকমের বৈষম্য না থাকে সেই কারণে, সেনাবাহিনীর মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।












Click it and Unblock the Notifications