‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’ মেটাতে স্বামীর বিরুদ্ধে আইনের অপব্যবহার করা যাবে না’, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির করা ক্রমাগত অপমাণের কারণে বেঙ্গালুরুর এক তরুণ আত্মহত্যা করেন সম্প্রতি। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তরুণের পরিবারের সদস্যরা। কেননা পারিবারিক আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা সহ একের পর এক অভিযোগ ওঠে বেঙ্গালুরুর এক তরুণের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সেই মামলায় রায়ও যায় তাঁর বিপক্ষে। আর সেই চাপ সহ্য করতে না পেরেই আত্মঘাতী হয় সেই তরুণ। এবার সেই মামলার কথা তুলে সুপ্রিম কোর্ট, অপর একটি পৃথক মামলায়, মহিলাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বৈবাহিক বিরোধের ক্ষেত্রে নিষ্ঠুরতা আইনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।
নিষ্ঠুরতা আইনকে "প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার ব্যক্তিগত হাতিয়ার" হিসাবে অপব্যবহার করা যাবে না, এমনটাই আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে এই মামলায়।

মঙ্গলবার বিচারপতি বিভি নাগারথনা এবং এন কোটিশ্বর সিং-এর ডিভিশন বেঞ্চ উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, "রাষ্ট্রের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একজন মহিলার উপর তার স্বামী এবং তার পরিবারের দ্বারা নিষ্ঠুরতা বন্ধ করার জন্য ধারা 498(A) চালু করা হয়েছিল"।
এখন বাতিল করা ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ধারা 498(A) একজন মহিলার বিরুদ্ধে তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির দ্বারা নিষ্ঠুরতার অপরাধের সাথে মোকাবিলা করে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), নতুন দণ্ডবিধি, ধারা 86 এই ধরনের অপরাধের সাথে সম্পর্কিত।
ধারা 86 এর অধীনে, দোষীর তিন বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড হতে পারে, এবং জরিমানা ধার্য হতে পারে।
এদিকে, বিচারকরা যোগ করে বলেছেন, "তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, বিবাহ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কলহ এবং উত্তেজনা সহ সারা দেশে বৈবাহিক বিরোধের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। ফলস্বরূপ, একজন স্ত্রীর দ্বারা স্বামী এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ধারা 498(A) এর মতো বিধানগুলির অপব্যবহার করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে"।
এই পৃথক মামলায় বিচারকরা তার স্ত্রীর দ্বারা একজন ব্যক্তি এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা নিষ্ঠুরতার মামলাটি খারিজ করেছেন। ফলে সাময়িক ভাবেই মুক্তি পেয়েছেন এই মামলায় অভিযুক্ত স্বামী। এর আগে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট মামলাটি খারিজ করতে অস্বীকার করেছিল। তারপরই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। আর এদিন সেই মামলাতেই শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ।












Click it and Unblock the Notifications